সিলেটের ভোলাগঞ্জে সাদা পাথর লুটের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্ব নিলেও “দায় নিতে পারবেন না” বলে স্পষ্ট মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘ঢাকার জলাধার পুনরুদ্ধার: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক নগর সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রিজওয়ানা বলেন, ৫ আগস্টের পর দেশের পরিবেশ-পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। যদিও পাথর খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিষয়, তবুও তিনি পরিবেশের স্বার্থে দায়িত্ব নিয়েছেন। তার দাবি, দায় মন্ত্রণালয়ের হলেও বাস্তব পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনিই পদক্ষেপ নেন। এসময় তিনি জানান, পাথর মহালগুলো ইজারার তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, “সাদা পাথরের লুটপাট হঠাৎ কোনো নতুন ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে সিলেটের বিভিন্ন মহাল থেকে নির্বিচারে উত্তোলন চলেছে। আমি ২০০৯ সালে প্রথম মামলা করেছিলাম, ২০২০ সালে মামলা-মোকদ্দমার মাধ্যমে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল। এরপরও নানা চাপ ছিল খোলার জন্য।”
সরকারি নথিপত্রের তথ্য দিয়ে তিনি বলেন, ২০১৪ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত পাঁচ বছরে ইজারা থেকে সরকারের রাজস্ব আয় হয়েছে মাত্র ৪০ কোটি টাকা। অথচ গণমাধ্যমে বলা হচ্ছে কয়েক দিনের মধ্যে কয়েক শ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। তার মতে, এ বৈষম্যই প্রমাণ করে প্রকৃত রাজস্ব আদায় করা যায়নি, ফলে লুটেরা গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে।
রিজওয়ানা প্রশ্ন তোলেন, “দেশের মোট পাথরের চাহিদার মাত্র ৬ শতাংশ আসে সিলেট থেকে। বাকি ৯৪ শতাংশ তো আমদানি হয়। তাহলে এ অংশটুকুও আমদানি করে সংরক্ষণ ও পর্যটন উন্নয়ন কেন করা গেল না?”
তিনি রাজনৈতিক ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, প্রশাসন তৎপর হলেও রাজনৈতিক ঐক্য ছাড়া বড় কোনো পদক্ষেপ টেকসই হয় না। একইসঙ্গে জনগণকেও সরব হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন সবুজ, বুয়েটের অধ্যাপক ড. মুসলেহ উদ্দীন হাসান, অধ্যাপক ড. আহমদ কামরুজ্জামান মজুমদারসহ অনেকে।