পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দ্বিতীয় দিনের জেরায় বিস্ফোরক তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, আওয়ামীপন্থি কিছু পুলিশ কর্মকর্তা বাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভেঙে নিয়মিত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় গোপন বৈঠক ও আড্ডা দিতেন।
মামুন জানান, তার বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে এসব বৈঠকের খবর তার কাছে পৌঁছাতো। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মধ্যে ছিলেন— তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিবির হারুন অর রশীদ, এসবির মনিরুল ইসলাম, ডিআইজি নুরুল ইসলাম, বিপ্লব কুমার, অ্যাডিশনাল এসপি কাফি, এসি মাজাহার, ফরমান এবং ওসি অপূর্ব হাসান।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) মামুনের দ্বিতীয় দিনের জেরা শেষ হয়। মামলার পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ আগামী ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর নির্ধারণ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
জেরায় সাবেক আইজি আরও বলেন, বিশেষায়িত বাহিনী সোয়াতে স্নাইপার সংযোজন করা হয়েছিল এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। তবে জুলাই আন্দোলন দমনে এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল কিনা তা তার জানা নেই।
তিনি স্বীকার করেন, বিভিন্ন সময় ক্রসফায়ার, গুম ও আটকের নির্দেশনা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে আসত, যেগুলোর অনেক কিছুই তিনি নিজে জানতেন না।
তিনি জানান, ২০১৮ সালের নির্বাচনের পর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ পুলিশে আরও বেড়ে যায়। ডিএমপি কমিশনার হাবিব ও এসবি মনিরুলের নেতৃত্বে দুটি গ্রুপ সরাসরি শেখ হাসিনার আনুকূল্য পেতে প্রভাব বিস্তার করে।
এর আগে, মঙ্গলবার মামুন ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়ে বলেন, “শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে ছাত্র-জনতার ওপর গণহত্যা চালানো হয়েছিল। এত বড় হত্যাযজ্ঞ আমার দায়িত্বকালীন সময়ে ঘটেছে। তার দায় আমি নিচ্ছি।” তিনি বিবেকের তাড়নায় স্বেচ্ছায় রাজসাক্ষী হয়েছেন।