সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান হাবিব ও ডিবি প্রধান হারুনুর রশীদ আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারে অতিউৎসাহী ছিলেন বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জবানবন্দি দিয়েছেন সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-০১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে রাজসাক্ষী হিসেবে হাজির হয়ে তিনি বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেন। জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশ প্রধানের দায়িত্বে থাকা মামুন বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন।
তিনি বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগের রাতে তৎকালীন আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী শেখ হাসিনাকে পরামর্শ দিয়েছিলেন ৫০ শতাংশ ভোট ব্যালট বাক্সে ভরে রাখার জন্য। একইসঙ্গে মামুন তার জবানবন্দিতে পুলিশে ‘গোপালগঞ্জ সিন্ডিকেট’-এর প্রভাব নিয়েও বিস্তারিত জানান।
সাবেক আইজিপি বলেন, আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহার, হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া এবং ব্লক রেইডের মতো সিদ্ধান্তগুলো ছিল রাজনৈতিকভাবে নেয়া। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ আসতো সরাসরি শেখ হাসিনার কাছ থেকে। আর হাবিব ও হারুন ছিলেন এসব মারণাস্ত্র ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি আগ্রহী।
তিনি আরও জানান, র্যাব-১ এ ‘টিএফআই সেল’ নামে গোপন বন্দিশালা ছিল, যেখানে রাজনৈতিক ভিন্নমতাবলম্বী ও সরকারের জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের আটক করে নির্যাতন করা হতো। অন্যান্য র্যাব ইউনিটেও ছিল একই ধরনের বন্দিশালা।
মামুন স্বীকার করেন, এসব নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেই আসত। কখনো সরাসরি নির্দেশ দিতেন তারেক সিদ্দিকী। আর আয়নাঘরে আটক ও ক্রসফায়ারে হত্যার মতো কাজ করতেন র্যাবের এডিসি অপারেশন এবং গোয়েন্দা শাখার পরিচালক।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৪ মার্চ মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন, স্বেচ্ছায় আসামি থেকে রাজসাক্ষী হয়ে সত্য উন্মোচন করতে চান তিনি। এর আগে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনে আহত, শহীদ পরিবারের সদস্য ও চিকিৎসকসহ ৩৫ জন সাক্ষ্য দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের প্রত্যাশা, এ মাসেই সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হবে।