কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে নিহত বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে “জুলাই বিপ্লবে সাহসের উজ্জ্বল প্রদীপ” আখ্যায়িত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বুধবার (২৭ আগস্ট) ট্রাইব্যুনাল-২ এ মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কারবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে বেরোবির শিক্ষার্থীসহ সাধারণ ছাত্ররা লালবাগ থেকে মিছিল নিয়ে আসলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ ও সরাসরি গুলি চালায়। এতে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে সহপাঠীদের বাহুডোরেই তার মৃত্যু হয়।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “সেদিন আষাঢ়ের বাদল দিনে বৃষ্টি পড়ছিল না, কিন্তু ঝরছিল ছাত্র-জনতার রক্ত। পুলিশের রাইফেলের গুলিতেই প্রাণ হারান আবু সাঈদ।” তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন এবং তাদের বিচারের দাবি জানান।
এ সময় আদালতে আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর দুটি ভিডিও প্রদর্শিত হলে তার বাবা মকবুল হোসেন অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করে।
উল্লেখ্য, এই মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্য ও ছাত্রলীগ নেতাসহ মোট ৩০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে গ্রেপ্তার ছয়জনকে এদিন কাঠগড়ায় হাজির করা হয়।
আবু সাঈদের হত্যাকাণ্ড দেশজুড়ে প্রবল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে। এর ধারাবাহিকতায় ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেশত্যাগে বাধ্য হন।