সরকার গঠিত কমিটিকে অনুপযুক্ত দাবি করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তারা বলছেন, নতুন করে উপযুক্ত কমিটি গঠন না করা পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুরে হোটেল ইন্টার কন্টিনেন্টালের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ ঘোষণা দেন তারা।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সভাপতি মো. ওয়ালী উল্লাহ বলেন, “সরকার যে কমিটি করেছে, সেটিতে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের প্রেসিডেন্টকেও রাখা হয়েছে, যা আমাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
তাই এই কমিটি বাতিল করে নতুন করে গঠন করতে হবে।” তিনি আরও তিন দফা দাবি উত্থাপন করেন— প্রথমত, নতুন কমিটি গঠন; দ্বিতীয়ত, আন্দোলনে পুলিশের হামলার জন্য দায়িত্বরত ডিসির প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনা; তৃতীয়ত, সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলা।
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাকিবুল হক লিপু বলেন, পুলিশের হামলায় অন্তত ৫০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, কয়েকজন হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড, টিয়ার গ্যাস ছুড়ে, জলকামান ব্যবহার করে এবং লাঠিচার্জ করেছে। যারা এ হামলার নির্দেশ দিয়েছে তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করতে হবে।”
এর আগে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রকৌশল পেশার দাবির যৌক্তিকতা যাচাই করে সুপারিশ দিতে একটি আট সদস্যের কমিটি গঠন করে। উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানকে সভাপতি করে গঠিত এ কমিটি এক মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, এই কমিটিতে পক্ষপাতদুষ্ট ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে, যা সমস্যার সমাধান করবে না।
এদিকে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ মোড় অবরোধের পাশাপাশি বুধবার থেকে “লংমার্চ টু ঢাকা” কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দুপুরে শাহবাগ থেকে সচিবালয়ের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে এগোতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ টিয়ার গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের যৌক্তিক দাবি না মানা পর্যন্ত রাজপথেই অবস্থান চলবে।