যুক্তরাষ্ট্রের ইউটাহভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেসারেট নিউজে নিবন্ধ লিখেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত ওই নিবন্ধে তিনি বাংলাদেশের গণঅভ্যুত্থান, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ, সংস্কার উদ্যোগ এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে বিস্তারিত মতামত দিয়েছেন।
নিবন্ধে ড. ইউনূস স্পষ্ট করেছেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি লিখেছেন, “আমি স্পষ্ট করেছি: জাতীয় নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে হবে। এরপর যে সরকার আসবে সেখানে নির্বাচিত বা নিযুক্ত কোনো পদে আমি থাকব না।” তার সরকারের মূল লক্ষ্য কেবল অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো যাতে ভোটারদের কাছে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারে এবং সব বৈধ ভোটার—প্রবাসে থাকা নাগরিকসহ—ভোট দিতে পারে, সেটিই প্রধান অঙ্গীকার। এ বিশাল দায়িত্ব সম্পন্ন করতে তার সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ড. ইউনূস নিবন্ধে স্মরণ করেন, গত বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে স্বৈরশাসনের পতন ঘটে। সেই শূন্যতার পর ছাত্রনেতাদের আহ্বানে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেন। তিনি লেখেন, “আমরা ভাগ্যবান যে তরুণরা তাদের পালার অপেক্ষা না করে দেশ বাঁচাতে এগিয়ে এসেছে।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তার সরকারের অগ্রাধিকার ছিল শহীদ ও আহতদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা, লুট হওয়া অর্থ উদ্ধারে পদক্ষেপ নেওয়া এবং অর্থনীতিকে পুনর্গঠন করা। এর পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনে সংস্কারের কাজ চলছে।
আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কথাও তিনি নিবন্ধে উল্লেখ করেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পাশে দাঁড়িয়েছে।
ড. ইউনূস লিখেছেন, “আমাদের অন্যতম বড় কাজ হলো সাংবিধানিক সংস্কার আনা, যাতে বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরাচারী শাসনে ফিরে না যায়।” তার ভাষ্যে, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে লাখো মানুষের দৃঢ়তা, কল্পনা ও সাহসের ওপর।