জুলাই–আগস্টের গণআন্দোলনে মাথায় গুলি লেগে গুরুতর আহত ১৬৭ জন আন্দোলনকারীর চিকিৎসা করেছিলেন ঢাকা নিওরো সায়েন্স হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মাহফুজুর রহমান ও তার টিম। বুধবার তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে উপস্থিত হয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আরও তিনজন সাবেক মন্ত্রীর মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান।
সাক্ষ্যে তিনি জানান, আন্দোলনের সময় মাথায় গুলি নিয়ে হাসপাতালে আসা অনেক তরুণের খুলি প্রায় উড়ে গিয়েছিল। তাদের জরুরি অস্ত্রোপচার করে জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করা হয়। তবে চিকিৎসার এ সংকটময় সময়েও ডিবি পুলিশের সদস্যরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে চাপ দিয়েছিলো যাতে আহতদের ছাড়পত্র না দেওয়া হয়।
এমনকি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যে, নতুন করে গুলিবিদ্ধ কোনো আন্দোলনকারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা যাবে না।
ডা. মাহফুজুর রহমান বলেন, “আমার চোখের সামনে যে ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ ঘটেছে, তা মানবতাবিরোধী অপরাধের শামিল।” তিনি আরও জানান, চিকিৎসক ও নার্সদের কাজে বাধা দেওয়া হয়েছিল, যা রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের একটি নৃশংস অপরাধ।
তার অভিযোগের ভিত্তিতে শেখ হাসিনার পাশাপাশি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এ আরাফাতকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসির আদেশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক মাহফুজুর রহমানের এই সাক্ষ্য আদালত কক্ষে গভীর সাড়া ফেলে। আন্দোলন চলাকালীন সময়ে রাষ্ট্রীয় বাহিনী কীভাবে চিকিৎসা সেবার পথে বাধা সৃষ্টি করেছিল, তার প্রত্যক্ষ বর্ণনা আদালতে উপস্থাপিত হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ পরে ঘোষণা করবে ট্রাইব্যুনাল।