নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বলেছেন,
“জন্মাষ্টমী কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবই না, বরং এটি শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার এক উদাত্ত আহ্বান। শ্রীকৃষ্ণের শিক্ষা এবং জীবনাদর্শ আমাদের শুধু অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সাহসই জোগায় না, বরং অসহায় ও আর্তমানবতার পাশে দাঁড়াতে এবং সমাজে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব, সহনশীলতা ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে।”
শনিবার (১৬ আগস্ট) বিকেলে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন,
“আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আজকের এই শোভাযাত্রা আবার বিশ্বের কাছে প্রমাণ করবে, বাংলাদেশ একটি শান্তি ও সম্প্রীতির দেশ। যেখানে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে আমরা একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং আমরা একত্রে শান্তিতে বসবাস করতে পারি। আমি নিশ্চিত, আজকের এই মিলনমেলা আগামী দিনে দেশমাতৃকার উন্নতি, সমৃদ্ধি এবং সার্বিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে এবং আমাদের সামাজিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
জাতীয় নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন,
“আমরা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জন্মাষ্টমীসহ সব ধর্মীয় অনুষ্ঠান এবং সার্বিকভাবে জনগণের নিরাপত্তায় সদা নিয়োজিত রয়েছি, ভবিষ্যতেও থাকব।”
দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি বলেন,
“এই বাংলাদেশ আমাদের সবার। এই দেশকে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুখী-সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা সবাই বদ্ধপরিকর। আমার বিশ্বাস, সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের এই প্রিয় দেশকে বিশ্বের মানচিত্রে একটা মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা সক্ষম হবো।”
অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “এই দেশ সবার। এ দেশে আমরা শান্তিতে, সুন্দরভাবে সবাই বসবাস করব। এখানে কোনো ভেদাভেদ থাকবে না।” ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আদর্শের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “জন্মাষ্টমীতে ভগবান শ্রী কৃষ্ণের যে আদর্শ, সেই আদর্শ এখান থেকে সব জায়গায় ছড়িয়ে পড়ুক। এই আদর্শের ভিত্তিতেই আমরা সুন্দরভাবে এই দেশে একসঙ্গে বসবাস করব।”
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরে সেনাপ্রধান বলেন, “সম্প্রীতির বাংলাদেশে শত শত বছর ধরে হিন্দু, মুসলমান, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, পাহাড়ি বাঙালি, উপজাতি— সবাই মিলে আমরা অত্যন্ত শান্তিতে সম্প্রীতির সঙ্গে বসবাস করে যাচ্ছি। আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার হবে, সেই সম্প্রীতি, সেই সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ আমরা সব সময় বজায় রাখব।”
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, “সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন আছে। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে থাকব। আপনারা নিশ্চিন্তে এই দেশে বসবাস করবেন। আপনাদের যত ধর্মীয় উৎসব আছে উদ্যাপন করবেন। আমরা একসঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেব।”
পরে প্রদ্বীপ প্রজ্বলনের মধ্য দিয়ে তিন বাহিনীর প্রধান একসঙ্গে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।