জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংস্কারের একগুচ্ছ প্রস্তাব চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ১১টায় আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে এই সভা শুরু হয়, এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
সভায় চার নির্বাচন কমিশনার—আব্দুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ, মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার, আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ এবং ইসি সচিব আখতার আহমেদসহ কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, সভায় রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণবিধি এবং আরপিও সংশোধনের একাধিক প্রস্তাব আলোচনায় আসে। ইসি সচিব আখতার আহমেদ জানান, “কমিশন সভায় আরপিও সংশোধনের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তা চূড়ান্ত করা হতে পারে। একইসঙ্গে আচরণবিধিও আরপিওর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংশোধন করা হতে পারে।”
সংস্কারের প্রস্তাবে প্রায় তিন ডজন সংশোধনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট যুক্ত করা, নির্বাচনী প্রচারে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে বিধিনিষেধ আরোপ এবং রাজনৈতিক দলের তথ্যাদি আরও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপনের বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পাচ্ছে।
এছাড়া, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় ঐকমত্য রয়েছে, সেগুলো আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করারও উদ্যোগ নিয়েছে কমিশন। প্রস্তাব চূড়ান্ত হলে তা আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের জন্য পাঠানো হবে। পরবর্তী ধাপে উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদন এবং সরকারপ্রধানের অনুমতির পর আরপিও সংশোধন অধ্যাদেশ আকারে জারি হবে।
ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সীমানা আইন, ভোটার তালিকা, ভোটকেন্দ্র স্থাপন নীতিমালা, স্থানীয় ও বিদেশি পর্যবেক্ষক সংক্রান্ত নীতিমালা ও গণমাধ্যম নির্দেশিকা জারি করেছে। এ ছাড়া আরও তিনটি আইন-বিধি—নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা, নির্বাচন কর্মকর্তা বিশেষ বিধান এবং ইসি সচিবালয় আইন—বর্তমানে আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ায় রয়েছে।
উল্লেখ্য, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর। ফলে এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে রয়েছে তপশিল ঘোষণা ও নির্বাচনী রূপরেখা চূড়ান্ত করার দায়িত্ব। ডিসেম্বরের শেষদিকে তপশিল ঘোষণার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি।