বাংলাদেশে উন্নয়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে নতুন করে আগ্রহ দেখিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া। একাধিক মেগা প্রকল্পে অংশগ্রহণের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে দেশটি। বর্তমানে পাইপলাইনে থাকা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ দ্রুত বাস্তবায়নে দক্ষিণ কোরিয়ার উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সম্প্রতি অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)-এর সঙ্গে বৈঠক করেছে।
ইআরডি সূত্র জানায়, কোরিয়া ২০২২ সালের ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তির আওতায় যেসব প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেগুলোর বাস্তবায়নে এখন গতি আনতে চায়। যদিও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং দুই দেশেই রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকায় কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
ইআরডির একজন কর্মকর্তা জানান, কোরিয়ার সঙ্গে আগের চুক্তিগুলোতে ১ শতাংশ সুদের হার নির্ধারণ করা হলেও বর্তমানে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে এই হার এখন আর বাস্তবসম্মত নয়। ফলে নতুন চুক্তিগুলোর আগে বাস্তবতা বুঝে এগোতে হচ্ছে।
প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে, মেট্রোরেল-৪ ও মেট্রোরেল-৫ প্রকল্পে বিনিয়োগে কোরিয়া আগ্রহী। এ ছাড়া ঢাকার উত্তরা, মতলব এবং গজারিয়া অঞ্চলের বেশ কয়েকটি প্রকল্পেও দক্ষিণ কোরিয়ার অংশগ্রহণ রয়েছে। ইতোমধ্যে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাটে নির্মিতব্য রেল ও সড়ক সেতু প্রকল্পে কাজ শুরু হয়েছে, যেখানে কোরিয়া বিনিয়োগ করছে ১০ লাখ ৬ হাজার ডলার।
১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী কোরিয়া, এখন পর্যন্ত প্রায় ২৪৮ কোটি ৯০ লাখ ডলারের ঋণ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এর মধ্যে ১২৭ কোটি ডলারের অর্থ ইতোমধ্যে ছাড়ও করেছে দেশটি। বর্তমানে ২৯টি চলমান প্রকল্পে কোরিয়ার বিনিয়োগ রয়েছে ৪৩ কোটি ডলার, যার মধ্যে ৩৪ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ছাড় করা সম্ভব হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল। এ প্রকল্পে কোরিয়ার বিনিয়োগ ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার, যার ঋণ শূন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ সুদে প্রদান করা হয়েছে। এতে রয়েছে ১৫ বছরের গ্রেস পিরিয়ড এবং ২৫ বছরের মধ্যে পরিশোধের সুযোগ।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সরবরাহ প্রকল্পেও এক লাখ ১৬ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে কোরিয়া। বেশিরভাগ বিনিয়োগই নমনীয় ঋণের আওতায়, যা বাংলাদেশের উন্নয়ন সহযোগিতায় দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, কোরিয়ার আগ্রহ নতুন করে মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়নে গতি আনবে এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরও জোরদার করবে।