ঢাকার নদীগুলোর ভয়াবহ দূষণ ও অব্যবস্থাপনার বিরুদ্ধে এক ব্যতিক্রমী প্রস্তাব দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি মন্তব্য করেছেন, “নদী পরিষ্কার রাখতে চাইলে মেয়র, এমপি, ডিসি, এসপি, কমিশনার এমনকি মন্ত্রীরাও যেন বছরে অন্তত দু’বার বুড়িগঙ্গা ও অন্যান্য নদীতে গোসল করেন।”⟶
গত শনিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর একটি আলোচনা সভায় দেওয়া এই বক্তব্যটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। সাধারণ জনগণের পাশাপাশি পরিবেশবিদরাও এতে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।⟶
সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হলো, অন্তর্বর্তী সরকারের বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান জামায়াত নেতার এই বক্তব্যের প্রশংসা করে বলেন, “এই বুদ্ধিটা আমার না, একজন জামায়াত নেতা বলেছেন—ঢাকার খালগুলোতে রাজনীতিবিদদের বছরে দুবার গোসলের বিধান হলে পরিবেশ ঠিক হয়ে যাবে। আমি এটাকে যথেষ্ট বাস্তবসম্মত মনে করি।”⟶
তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজনীতির ধারা যদি সত্যিকারের কার্যকর হতো, তবে আমাদের মত উপদেষ্টাদের হয়তো প্রয়োজন পড়ত না। আমরা আসি একটি সংকটকালীন পরিস্থিতিতে, একটা সংযোগ তৈরি করার জন্য। তবে সমাধান আসবে রাজনীতিবিদদের হাত ধরেই।”⟶
এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া থাকলেও, সামাজিকভাবে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা—নদী দূষণের দায় সবার, বিশেষত যাদের হাতে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতা, তাদেরই দায়িত্ব সবার আগে উদাহরণ তৈরি করা।⟶
জনগণ মনে করছে, রাজনীতিবিদরা যদি নিজেরা স্বচ্ছতা ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতীক হয়ে উঠতে পারেন, তাহলে সমাজে বড় পরিবর্তন আসা সম্ভব।