গাজী টিভির আলোচিত টকশো ‘টাইমলাইন বাংলাদেশ’-এ সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ড. জাহেদ উর রহমান ভয়ের সংস্কৃতি, মব রাজনীতির সুক্ষ্ম প্রেক্ষাপট ও রাষ্ট্রীয় দায় সম্পর্কে সরব হন।
উপস্থাপিকার প্রশ্ন ছিল: “আমরা কি আবার ভয় সংস্কৃতির দিকে যাচ্ছি? যেখানে থেকে বের হয়ে বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল?” জবাবে ড. জাহেদ বলেন, “মিছিলটি আসলে কার বিরুদ্ধে হয়েছিল? সরকারের একজন উপদেষ্টার দেয়য়া স্ট্যাটাসে, ‘প্রস্তর যুগে স্বাগতম’, মূলত দেশ যদি প্রস্তর যুগে ফিরে যায়, তাহলে তার দায় রাষ্ট্র ও সরকারেরই।”
তিনি প্রশ্ন তুলেন, “বিএনপি চাঁদাবাজি বা খুন করবে না—এই আশা আপনি সরকারের কাছ থেকে রাখতে পারেন। তবে অশ্রেণীচিত্র, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা—এসব তো সরকার নিজেই করবার দায়িত্বে। তাদের তো আছে পুলিশ, গোয়েন্দা, বিচার বিভাগ, আর কোটি কোটি টাকা—এই দায়িত্ব পূরণ করতে না পারলে, সরকার কেন ক্ষমতায় আছে?”
ড. জাহেদের বক্তব্যে উঠে আসে, রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ ‘ভয়ের আবহ’ তৈরি করে জনমতকে বশে রাখছে, আর মব সৃষ্টির মাধ্যমে তীব্রতা তৈরি হচ্ছে। এসব চলতে থাকলে গণতন্ত্র ও সুশৃঙ্খলা বজায় থাকে না, বরং জনআস্থা ক্ষুণ্ন হয়।
তিনি আরও বলেন, “মন্ত্রী, উপদেষ্টা বা সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যখন হেডলাইন দিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করেন না, তখন মসৃণভাবে মনের ভয় উপ্ত্ত থেকে যায়—এটি রাষ্ট্র কর্তৃক সহগতি প্রদর্শনের ফল।”
আলোচনায় পরামর্শ দেন, রাষ্ট্র যদি সত্যিকার অপকর্ম প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণের হাতে অতিরিক্ত দমন-প্রক্রিয়া প্রয়োগ না করে দায় নিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করা দরকার।
ড. জাহেদের এ বক্তৃতা সমালোচনামূলকভাবে সমাজ ও রাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক দায়িত্ব, জনাধিকার ও ভীতির পরিসরে গঠনমূলক আলোচনা উস্কে দিয়েছে—এবং “ভয় সংস্কৃতি” “সরকারের দায়” প্রশ্নকে নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসছে।