২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে সরকার পতনের রূপ নেওয়া ঐতিহাসিক জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রত্যক্ষদর্শী ও অংশগ্রহণকারী ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী এবং বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রীর নেত্রী নূজিয়া হাসিন রাশা।
আন্দোলনের ঘটনাপ্রবাহ, স্লোগানের জন্ম, সহিংসতা ও ছাত্রসমাজের প্রতিরোধের নানা অভিজ্ঞতা তিনি তুলে ধরেছেন।
রাশা বলেন, ১ জুলাই থেকে আন্দোলন তীব্র হতে থাকে। প্রতিদিন নারীদের হল থেকে মিছিল বের হতো, শাহবাগে অবস্থান, তারপর ব্লকেড—এই ছিল ধারা। ১৪ জুলাই শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ মন্তব্যের পর আন্দোলনে নতুন মাত্রা যোগ হয়। ছাত্রলীগের পাল্টা স্লোগান আর সরকারের দমননীতি পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
১৫ জুলাই ইডেন কলেজের ছাত্রীদের উপর ছাত্রলীগের হামলা, ১৬ জুলাই শহীদ মিনার দখল ও রাজু ভাস্কর্য রিক্লেইমের চেষ্টা, এবং ১৭ জুলাই গায়েবানা জানাজায় পুলিশের হামলা আন্দোলনের ইতিহাসে ভয়াবহ অধ্যায় হয়ে থাকবে। এসব ঘটনায় নারী শিক্ষার্থীরা সম্মুখভাগে ছিল।
রাশা বলেন, “যদি ১৭ জুলাইয়ের পর প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রাজপথে না নামত, তবে এই আন্দোলন ৫ আগস্ট পর্যন্ত পৌঁছাত না। বর্ষা, গুলি, টিয়ারশেল—সব কিছু উপেক্ষা করে তারাই ঢাকার আন্দোলন টিকিয়ে রাখে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদ্রাসা ছাত্র, রিকশাচালক, গার্মেন্টস শ্রমিক—সবার সম্মিলিত প্রতিরোধেই গড়ে উঠেছিল আন্দোলনের স্ট্যালিনগ্রাদ। এই অভ্যুত্থানের মাস্টারমাইন্ড তারা।”
৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর আন্দোলন নতুন চেতনার জন্ম দেয়, যা গণ-আন্দোলনের ইতিহাসে অনন্য বলে মনে করেন এই তরুণ নেত্রী।