জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন ঢাকার সাবেক এমপি হাজী সেলিমের ছেলে সোলায়মান সেলিম।
বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম. মিজবাহ উর রহমান দুই দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এরপর আদালত থেকে হাজতখানায় নেওয়া সময় সোলায়মান সেলিম বলেন, “এই দিন দিন না, আরও দিন আছে। এই দিন নিয়ে যাবে, সেই দিনের কাছে।”
কোতোয়ালি থানার এসআই কে এম আবদুল হক সেলিম এবং ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর রঞ্জন বিশ্বাসকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। আদালত শুনানি শেষে তাদের জেলহাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই ঢাকার বুকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিল চলাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকের কাছে মহানগর দায়রা জজ আদালতের সামনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সমর্থকরা অতর্কিত হামলা ও গুলি চালায়।
এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অনিক কুমার দাস গুরুতর আহত হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার পর অনিক শেখ হাসিনাসহ ২৫৩ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন মাস পর সোলায়মান সেলিমকে ঢাকার গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোলায়মান সেলিম আওয়ামী লীগ নেতা হাজী সেলিমের বড় ছেলে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বাবা দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে এমপি হন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের টিকিটে পুনর্নির্বাচিত হন হাজী সেলিম। ২০২৪ সালের নির্বাচনে হাজী সেলিম প্রার্থী না হওয়ায় তার আসন দখল করেন সোলায়মান সেলিম।
তার আদালতের মন্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা আগামী দিনে ঢাকা-৭ আসন এবং আওয়ামী লীগের স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।