ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাসুম মিয়ার আদালতে বুধবার (৯ জুলাই) এক আবেগঘন দৃশ্যের অবতারণা হয়। আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে হাউমাউ করে কাঁদতে দেখা যায় সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে।
সকালে কারাগার থেকে পুলিশি পাহারায় আদালতে আনা হয় পলককে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাকে আদালতে তোলা হয়। এ সময় তার মাথায় ছিল হেলমেট, গায়ে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং হাতে হাতকড়া। নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নজরদারির মধ্যেই তাকে কাঠগড়ায় নেওয়া হয়।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে পলক কিছুক্ষণ আদালতের বারান্দার দিকে তাকিয়ে থাকেন। বারান্দায় দাঁড়িয়ে থাকা স্বজনদের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে ইশারায় কথা বলার চেষ্টা করেন তিনি। একপর্যায়ে স্বজনদের চোখে চোখ পড়তেই আবেগ আর ধরে রাখতে না পেরে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন। তার কান্না দেখে বারান্দায় থাকা পরিবারের সদস্যরাও কেঁদে ফেলেন। এ দৃশ্য উপস্থিত সবার নজর কাড়ে এবং পরিবেশকে ভারী করে তোলে।
এদিন যাত্রাবাড়ী থানায় করা দুইটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সহিংসতা ও নাশকতার অভিযোগে এসব মামলা দায়ের হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে পুনরায় পুলিশ পাহারায় হাজতখানায় নিয়ে যেতে নির্দেশ দেন।
এর আগে ১৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত থানাধীন নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকার একটি বাসা থেকে আত্মগোপনে থাকাবস্থায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিভিন্ন থানার একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দলীয় নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলন দমাতে পলকের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তবে পুলিশ বলছে, সহিংস কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত করার সুনির্দিষ্ট অভিযোগেই তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সরকারবিরোধী দলগুলো বলছে, এসব মামলা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। অন্যদিকে সরকারপক্ষ বলছে, আইনের শাসন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আদালতে সাবেক মন্ত্রী পলকের কান্নার এই দৃশ্য এখন সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।