কুমিল্লার মুরাদনগরে ধর্ষণকাণ্ডের শিকার নারীর বিবস্ত্র ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা অপসারণ করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রবিবার (৩০ জুন) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ নির্দেশ দেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছে—ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয়, ভিডিও ও ছবি প্রকাশ কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না।
একইসঙ্গে ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বরাষ্ট্রসচিব ও পুলিশের মহাপরিদর্শককে (আইজিপি) নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে স্বরাষ্ট্রসচিব, আইনসচিব, আইজিপি, তথ্যসচিব, বিটিআরসি চেয়ারম্যানসহ কুমিল্লার পুলিশ সুপার এবং মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে।
রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মীর নূরুন্নবী উজ্জ্বল। তিনি জানান, ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর সংযুক্ত করে আদালতে রিট করা হয়। আদালত মামলার তদন্তের অগ্রগতি ১৫ দিনের মধ্যে জানাতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে। পরবর্তী শুনানি হবে ১৪ জুলাই।
কুমিল্লা জেলার মুরাদনগরে গত ২৬ জুন রাতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। ঘটনার পর স্থানীয় কয়েকজন তার বিবস্ত্র ভিডিও ধারণ করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। গণমাধ্যমের কয়েকটি প্রতিবেদনে ভুক্তভোগীর নাম-পরিচয়ও প্রকাশ পায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ধর্ষণের ঘটনায় ফজর আলী নামে একজনকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়। পুলিশ জানায়, ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে শনিবার ভোরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভিডিও ধারণ ও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে কুমিল্লার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে (অনিক, সুমন, রমজান ও বাবু) গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত করছে এবং ভুক্তভোগীর মেডিক্যাল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।