রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলেই নির্বাচন

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা করছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফ থেকে শিগগিরই সুস্পষ্ট রোডম্যাপও আসতে পারে। নির্বাচনসহ বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আগামী ৫ বা ৬ জুন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন ড. ইউনূস। সেই ভাষণেই উঠে আসতে পারে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ। সরকার ও রাজনীতিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে এ খবর […]

ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলেই নির্বাচন

ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলেই নির্বাচন

নিউজ ডেস্ক

০২ জুন ২০২৫, ১০:০৭

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা করছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফ থেকে শিগগিরই সুস্পষ্ট রোডম্যাপও আসতে পারে। নির্বাচনসহ বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে

আগামী ৫ বা ৬ জুন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন ড. ইউনূস। সেই ভাষণেই উঠে আসতে পারে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ। সরকার ও রাজনীতিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু দিন ধরেই জাতীয় নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক একটি রোডম্যাপ দিলেও তাতে সংশয় মুক্ত হতে পারছে না বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। ফলে নির্বাচন ইস্যুটি কেবল রাজনৈতিক ঝাঁজালো কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মাঠের কর্মসূচিতেও তার প্রকাশ ঘটছে। গত মাসের মাঝামাঝিতে প্রকারন্তরে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতেই ভিন্ন দু’টি দাবি নিয়ে লাগাতার মাঠে থেকে রাজধানী প্রায় অচল করে রেখেছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে ‘ক্ষুব্ধ’ ড. ইউনূস ‘পদত্যাগ’-ও করতে চেয়েছিলেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ড. ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন এমন খবর চাউর হলে রাজনৈতিক দলগুলো একটু শান্ত হয়। পরে গত সপ্তাহের শুরুতে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠক করেন ড. ইউনূস। ওইসব বৈঠকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন হোক, দলগুলোর নেতারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নেতারা ড. ইউনূসকে বলেন, তারা কেউই তার পদত্যাগ চান না। তবে ওই বৈঠকে নির্বাচন কবে হবে এমন কোনো বার্তা না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি। তারা এও বলে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে সরকারকে সহযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে। একইসাথে দলটি দুই ছাত্র উপদেষ্টাসহ তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি তোলে।

ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে শুরু থেকেই দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পক্ষে নন। গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পন্ন করে তিনি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশকে গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটানোই লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। এজন্যই তিনি গত বছর বিজয় দিবসের ভাষণে আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা ঘোষণা করেন।

তবে রাজনৈতিকদলগুলো বিভিন্ন আশঙ্কা থেকে নির্বাচনের এমন দীর্ঘ রোডম্যাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা সাম্প্রতিক সময়ে একরকম বাদানুবাদের পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। সরকার বারবার জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বললেই সেটি রাজনৈতিক দলগুলোর; বিশেষ করে বিএনপির আস্থা অর্জন করতে পারছে না। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দাবি বিভিন্ন ফোরাম থেকে ক্রমাগতভাবে জানিয়ে আসছে বিএনপি। এটা নিয়ে দলটি তার অনড় অবস্থানও প্রকাশ করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলটি মনে করে নির্বাচনমুখী প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে এ সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। ফলে আগামী বছরের জুনে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের জন্য আগামী দুই মাস (জুন ও জুলাই) অপেক্ষা করবে বিএনপি। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেয়া না হলে রাজপথে কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ডিসেম্বরে নির্বাচন আদায় করে নেয়ার পথে হাঁটতে পারে তারা। তবে দলটি এখনো আশা করছে, সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করবে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংস্কার ইস্যুতে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার জন্য বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের সাথে আজ অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। তারা যে দ্রুততম সময়ে সংস্কার শেষ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়, ড. ইউনূসের সামনে তা পুনরায় তুলে ধরবে। সংস্কারের দীর্ঘসূত্রতায় কার্যত দলটি ত্যক্ত-বিরক্ত। ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফরে গিয়ে ‘দেশের সব রাজনৈতিক দল নয়, শুধু একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে’ এমন বক্তব্য দিলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপি। বিএনপিকে বিব্রত করার জন্য সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কথা বলা হয়েছে বলে মনে করে দলটি।

এ দিকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের দাবি সত্ত্বেও সরকার কেন চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিচ্ছে না; কিংবা সরকার কেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন দিতে চায়- সেটি নিয়ে বিএনপি এখন বিচার-বিশ্লেষণ করছে। দলটির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। বিএনপি প্রথমত, মনে করে সরকারের ভেতরে কারো কারো এমন শঙ্কা রয়েছে যে, নির্বাচন হলে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সুতরাং নির্বাচন প্রলম্বিত করে বিএনপিকে কিভাবে চাপে রাখা যায় এবং অন্য দলগুলোকে কিভাবে সুবিধাজনক পজিশনে নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে সরকারের ভেতরের কেউ কেউ কাজ করছে। দ্বিতীয়ত, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না দেয়ার জন্য সরকারের ওপর ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রবল চাপ রয়েছে। যাতে করে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সারা দেশে তারা সংগঠনকে গুছিয়ে নিতে পারে। তৃতীয়ত, বিএনপির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, যেমন বিএনপি সংস্কারের বিরোধী; তারা সংস্কার নয়, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উদগ্রীব। এমন প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনবিরোধী প্লাটফর্মকে শক্তিশালী করার টার্গেট নেয়া হয়েছে।

বিএনপি মনে করে, নির্বাচনের মাঠে তাদের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করার এটা একটা প্রয়াস। এমন অবস্থায় বিএনপি মনে করছে, সংস্কার দ্রুত শেষ করে এবং বিচারকার্য দৃশ্যমান করে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা না হলে, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি দেয়া ছাড়া হয়তো অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি কোন প্রক্রিয়ায়, কিভাবে, কখন পালিত হবে- বিষয়টি নিয়ে দলের সিনিয়র নেতারা ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন। ঈদুল আজহার পর এ প্রক্রিয়া আরো বেশি ত্বরান্বিত হবে। তবে ঈদের আগেই প্রধান উপদেষ্টা সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।