বৃহস্পতিবার, ০২ এপ্রিল ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলেই নির্বাচন

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা করছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফ থেকে শিগগিরই সুস্পষ্ট রোডম্যাপও আসতে পারে। নির্বাচনসহ বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে আগামী ৫ বা ৬ জুন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন ড. ইউনূস। সেই ভাষণেই উঠে আসতে পারে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ। সরকার ও রাজনীতিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে এ খবর […]

ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলেই নির্বাচন

ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলেই নির্বাচন

নিউজ ডেস্ক

০২ জুন ২০২৫, ১০:০৭

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি অথবা এপ্রিলে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের চিন্তা করছে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের তরফ থেকে শিগগিরই সুস্পষ্ট রোডম্যাপও আসতে পারে। নির্বাচনসহ বিদ্যমান পরিস্থিতি নিয়ে

আগামী ৫ বা ৬ জুন জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে পারেন ড. ইউনূস। সেই ভাষণেই উঠে আসতে পারে নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিনক্ষণ। সরকার ও রাজনীতিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ কিছু দিন ধরেই জাতীয় নির্বাচন কবে হবে, তা নিয়ে এক ধরনের উত্তেজনা চলছে। অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচনের প্রাথমিক একটি রোডম্যাপ দিলেও তাতে সংশয় মুক্ত হতে পারছে না বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। ফলে নির্বাচন ইস্যুটি কেবল রাজনৈতিক ঝাঁজালো কথাবার্তার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না; বরং সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগের অংশ হিসেবে মাঠের কর্মসূচিতেও তার প্রকাশ ঘটছে। গত মাসের মাঝামাঝিতে প্রকারন্তরে নির্বাচনের দাবিতে সরকারকে চাপে রাখতেই ভিন্ন দু’টি দাবি নিয়ে লাগাতার মাঠে থেকে রাজধানী প্রায় অচল করে রেখেছিল বিএনপির নেতাকর্মীরা। ওই কর্মসূচির পরিপ্রেক্ষিতে ‘ক্ষুব্ধ’ ড. ইউনূস ‘পদত্যাগ’-ও করতে চেয়েছিলেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। ড. ইউনূস পদত্যাগ করতে পারেন এমন খবর চাউর হলে রাজনৈতিক দলগুলো একটু শান্ত হয়। পরে গত সপ্তাহের শুরুতে বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের সাথে বৈঠক করেন ড. ইউনূস। ওইসব বৈঠকে ড. ইউনূসের নেতৃত্বে আগামী নির্বাচন হোক, দলগুলোর নেতারা প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। নেতারা ড. ইউনূসকে বলেন, তারা কেউই তার পদত্যাগ চান না। তবে ওই বৈঠকে নির্বাচন কবে হবে এমন কোনো বার্তা না পাওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপি। তারা এও বলে, পরিস্থিতি এভাবে চলতে থাকলে সরকারকে সহযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়বে। একইসাথে দলটি দুই ছাত্র উপদেষ্টাসহ তিনজন উপদেষ্টার পদত্যাগের দাবি তোলে।

ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে শুরু থেকেই দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার পক্ষে নন। গণ-অভ্যুত্থানের স্পিরিটকে ধারণ করে প্রয়োজনীয় কার্য সম্পন্ন করে তিনি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দেশকে গণতন্ত্রে উত্তরণ ঘটানোই লক্ষ্য হিসেবে নিয়েছেন। এজন্যই তিনি গত বছর বিজয় দিবসের ভাষণে আগামী ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময়সীমা ঘোষণা করেন।

তবে রাজনৈতিকদলগুলো বিভিন্ন আশঙ্কা থেকে নির্বাচনের এমন দীর্ঘ রোডম্যাপ নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা সাম্প্রতিক সময়ে একরকম বাদানুবাদের পর্যায়ে রূপ নিয়েছে। সরকার বারবার জুনের মধ্যে নির্বাচনের কথা বললেই সেটি রাজনৈতিক দলগুলোর; বিশেষ করে বিএনপির আস্থা অর্জন করতে পারছে না। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় নির্বাচনের দাবি বিভিন্ন ফোরাম থেকে ক্রমাগতভাবে জানিয়ে আসছে বিএনপি। এটা নিয়ে দলটি তার অনড় অবস্থানও প্রকাশ করেছে। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন হতে হবে, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। দলটি মনে করে নির্বাচনমুখী প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে এ সময়ের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। ফলে আগামী বছরের জুনে নির্বাচন হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

বিএনপির দায়িত্বশীল একাধিক সূত্রে জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপের জন্য আগামী দুই মাস (জুন ও জুলাই) অপেক্ষা করবে বিএনপি। এ সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেয়া না হলে রাজপথে কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ডিসেম্বরে নির্বাচন আদায় করে নেয়ার পথে হাঁটতে পারে তারা। তবে দলটি এখনো আশা করছে, সরকার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে খুব কম সময়ের মধ্যে নির্বাচনের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করবে।

বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সংস্কার ইস্যুতে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার জন্য বিএনপিসহ রাজনৈতিক দলগুলোকে ডেকেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। ঐকমত্য কমিশনের সাথে আজ অনুষ্ঠেয় এ বৈঠকে অংশ নিচ্ছে বিএনপি। তারা যে দ্রুততম সময়ে সংস্কার শেষ করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চায়, ড. ইউনূসের সামনে তা পুনরায় তুলে ধরবে। সংস্কারের দীর্ঘসূত্রতায় কার্যত দলটি ত্যক্ত-বিরক্ত। ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাপান সফরে গিয়ে ‘দেশের সব রাজনৈতিক দল নয়, শুধু একটি দল ডিসেম্বরে নির্বাচন চাইছে’ এমন বক্তব্য দিলে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বিএনপি। বিএনপিকে বিব্রত করার জন্য সরকারের তরফ থেকে এ ধরনের কথা বলা হয়েছে বলে মনে করে দলটি।

এ দিকে অধিকাংশ রাজনৈতিক দলের দাবি সত্ত্বেও সরকার কেন চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দিচ্ছে না; কিংবা সরকার কেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন দিতে চায়- সেটি নিয়ে বিএনপি এখন বিচার-বিশ্লেষণ করছে। দলটির অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর পেছনে তিনটি কারণ রয়েছে। বিএনপি প্রথমত, মনে করে সরকারের ভেতরে কারো কারো এমন শঙ্কা রয়েছে যে, নির্বাচন হলে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। সুতরাং নির্বাচন প্রলম্বিত করে বিএনপিকে কিভাবে চাপে রাখা যায় এবং অন্য দলগুলোকে কিভাবে সুবিধাজনক পজিশনে নিয়ে আসা যায় তা নিয়ে সরকারের ভেতরের কেউ কেউ কাজ করছে। দ্বিতীয়ত, ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন না দেয়ার জন্য সরকারের ওপর ছাত্রদের নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রবল চাপ রয়েছে। যাতে করে নির্বাচনের প্রস্তুতির জন্য সারা দেশে তারা সংগঠনকে গুছিয়ে নিতে পারে। তৃতীয়ত, বিএনপির বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে নানা ধরনের প্রপাগান্ডা চালানো হচ্ছে, যেমন বিএনপি সংস্কারের বিরোধী; তারা সংস্কার নয়, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য উদগ্রীব। এমন প্রচারণা চালিয়ে নির্বাচনবিরোধী প্লাটফর্মকে শক্তিশালী করার টার্গেট নেয়া হয়েছে।

বিএনপি মনে করে, নির্বাচনের মাঠে তাদের ইমেজকে ক্ষতিগ্রস্ত করার এটা একটা প্রয়াস। এমন অবস্থায় বিএনপি মনে করছে, সংস্কার দ্রুত শেষ করে এবং বিচারকার্য দৃশ্যমান করে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করা না হলে, রাজনৈতিক দলগুলোকে সাথে নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি দেয়া ছাড়া হয়তো অন্য কোনো পথ খোলা থাকবে না। সেই রাজনৈতিক কর্মসূচি কোন প্রক্রিয়ায়, কিভাবে, কখন পালিত হবে- বিষয়টি নিয়ে দলের সিনিয়র নেতারা ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু করেছেন। ঈদুল আজহার পর এ প্রক্রিয়া আরো বেশি ত্বরান্বিত হবে। তবে ঈদের আগেই প্রধান উপদেষ্টা সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করলে পরিস্থিতি ঠাণ্ডা হয়ে যেতে পারে।

জাতীয়

সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না : এডিসি জুয়েল

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।” সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব […]

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।”

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এডিসি জুয়েল। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

এডিসি জুয়েল আরও বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে কড়া নজরদারিতে। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভাষা ব্যবহারের সমালোচনাও করছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করা এবং দুষ্কৃতকারীদের সতর্ক করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেবে না বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের […]

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০০:৩১

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন।

উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে। এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।