কালো টাকা সাদা করার সকল প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সুযোগ চিরতরে বাতিলের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলছে, অধ্যাদেশের মাধ্যমে কালো টাকার বৈধতা দেওয়ার ব্যবস্থা একদিকে যেমন সংবিধান পরিপন্থী, তেমনি তা সৎ করদাতাদের প্রতি বৈষম্যমূলক ও দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি জানায়, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার ২১ বার কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দিয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেটেও এই অনৈতিক সুবিধা বহাল ছিল। তবে অন্তর্র্বর্তীকালীন সরকার ১৫ শতাংশ কর প্রদানের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুবিধা বাতিল করে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, যা সংস্থাটি স্বাগত জানিয়েছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আয়কর আইন ২০২৩-এ এখনো তিনটি বিধান রয়ে গেছে, যা অপ্রদর্শিত আয়ের বৈধতা দেয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে: বিশেষ কর দিয়ে সম্পদ প্রদর্শন, আগে বিনিয়োগ করা অপ্রদর্শিত সম্পদের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে রিটার্নে অন্তর্ভুক্তি এবং আয় স্বপ্রণোদিতভাবে প্রদর্শনের সুযোগ।
তিনি বলেন, এই তিনটি ক্ষেত্রেই বৈধ আয়ের উৎস দেখানোর কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, ফলে এগুলোর মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সুযোগ থেকে যায়—যা সংবিধানের ২০(২) অনুচ্ছেদের পরিপন্থী।
তিনি আরও জানান, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও এ ধরনের সুবিধা চিরতরে বাতিলের প্রস্তাব রয়েছে।
টিআইবি আশা প্রকাশ করে, অন্তর্র্বর্তী সরকারের প্রথম বাজেটেই প্রয়োজনীয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে কালো টাকা বৈধ করার সব সুযোগ চিরতরে বাতিল করা হবে। সংস্থাটি এ বিষয়ে অর্থ উপদেষ্টার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে পত্রও দিয়েছে।