বৃহস্পতিবার, ১১ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

শেখ হাসিনা ফিরবেন ফাঁসিতে ঝুলতে : উপদেষ্টা নাহিদ

শেখ হাসিনা দেশে থাকা তার সমর্থকদের আন্দোলন করার জন্য উসকানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমি তাদের বলতে চাই, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য আর ফিরতে পারবেন না, শুধুমাত্র ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়ানোর জন্যই ফিরবেন। যারা এখনও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উসকানিতে জনজীবন দুর্বিষহ করার চেষ্টা করছেন, তাদেরকে সাবধান […]

নিউজ ডেস্ক

২১ অক্টোবর ২০২৪, ১০:৪০

শেখ হাসিনা দেশে থাকা তার সমর্থকদের আন্দোলন করার জন্য উসকানি দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমি তাদের বলতে চাই, শেখ হাসিনা বাংলাদেশে রাজনীতি করার জন্য আর ফিরতে পারবেন না, শুধুমাত্র ফাঁসির কাষ্ঠে দাঁড়ানোর জন্যই ফিরবেন। যারা এখনও পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের উসকানিতে জনজীবন দুর্বিষহ করার চেষ্টা করছেন, তাদেরকে সাবধান করে দিতে চাই।

রোববার (২০ অক্টোবর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, আমরা শেখ হাসিনাকে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি তা না করে দেশে রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন।

৫ আগস্ট দুপুর পর্যন্ত আন্দোলনকারী ছাত্র জনতার উপর স্নাইপার দিয়ে গুলি চালানোর অভিযোগ করে তিনি বলেন, ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা তার সকল নেতাকর্মী এবং পুলিশ বাহিনীকে মাঠে থাকার নির্দেশ দিয়ে কাউকে না জানিয়ে দেশ থেকে পালিয়ে যায়। শেখ হাসিনার এই সিদ্ধান্তের কারণে সেদিন অনেক পুলিশ সদস্য মারা যায়। এ আন্দোলনে যত পুলিশ মারা গিয়েছে এর দায় শেখ হাসিনার।

এ ছাড়া তিনি বলেন, গত ১৮ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনে সরকারি হিসাবে ৪৪ জন পুলিশকে হত্যা করা হয়েছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ঢুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে ১৫ জনকে। তবে সরকার পতনের পর ধর্মঘটে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা রাজারবাগে অবস্থান নিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য হত্যার অভিযোগ করেছিলেন। তারা এসব হত্যার বিচার দাবি করছিলেন।

বর্তমানে সংবাদমাধ্যম যে স্বাধীনতা উপভোগ করছে, ইতিহাসে তা হয়নি বলেও দাবি করেন তথ্য উপদেষ্টা। ক্ষমতাচ্যুত সরকার সমর্থকদের গণমাধ্যম থেকে সরিয়ে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তার ভাষায়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আর ফ্যাসিবাদের পক্ষে লেখা এক কথা নয়।

তা ছাড়া তিনি বলেন, আবারও বলতে চাই, সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করুন। কিন্তু জনগণের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না, ছাত্র-জনতার রক্তের বিপক্ষে দাঁড়াবেন না।

আন্দোলনের সময় তাদের সংবাদ প্রচার করতে দেওয়া হয়নি, সংবাদ সংগ্রহের কারণে সংবাদমাধ্যমগুলোর সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়েছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখনও সেই সাংবাদিকদের নানা প্রকার চাপের মধ্যে রাখা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। সে হাউসগুলোতে ফ্যাসিবাদের এজেন্টরা রয়ে গেছে।

তাদের বিতাড়িত করতে হবে। সেই গণমাধ্যমের মধ্য থেকে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিতাড়িত করে জনগণের সামনে চিহ্নিত করতে হবে। কারণ, আমরা ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম চাই। ফ্যাসিবাদ মুক্ত গণমাধ্যম ছাড়া নতুন বাংলাদেশ গঠন করা সম্ভব হবে না।

গণমাধ্যম থেকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিট এবং আকাঙ্ক্ষা পরিকল্পিতভাবে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখের কারণ। এখনও আমাদের অনেক ভাই-বোনেরা আহত অবস্থায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে। এখনও অনেকে শহীদ হচ্ছে অথচ আমাদের গণমাধ্যমগুলোতে সেই শহীদ এবং আহতদের কথা দিনকে দিন কমে আসছে। জনগণের স্মৃতি থেকে তাদেরকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

বেশ কিছু গণমাধ্যম জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের নিহত হিসেবে উল্লেখ করছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক। যেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের সকল প্রজ্ঞাপনে তাদেরকে শহীদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশবাসী তাদেরকে শহীদ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে, সেখানে গণমাধ্যম তাদের শহীদ বলতে কার্পণ্য করছে।

গণঅভ্যুত্থানে রক্তের মাধ্যমে নতুন ইতিহাস তৈরি হয়েছে মন্তব্য করে নাহিদ বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন এই ইতিহাস মুছে যাওয়ার নয়।

অনুষ্ঠানে জাতীয় প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর কেক কাটেন তথ্য উপদেষ্টা। প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়া, ক্লাবের সাবেক ও বর্তমান নেতারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানও উপদেষ্টার পাশে ছিলেন।

জাতীয়

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, […]

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৯

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিব আখতার আহমেদ, এবং সরকারের ৩১টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সচিব ও প্রধান কর্মকর্তারা।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে বাড়বে কেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা

বৈঠকে ইসি সচিবালয় জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটকেন্দ্র তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। যদি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ভোটকেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে বাড়তি বাজেট, জনবল ও লজিস্টিক প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, যদি দুটি ভোট পৃথক দিনে হয়, তবে ব্যয় ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্বিগুণ হবে, যা অর্থ বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া সম্ভব নয় বলে ইসি জানায়।

মাঠ প্রশাসন ও অবকাঠামো প্রস্তুতির নির্দেশ

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনি সময় মাঠ প্রশাসনকে হেলিপ্যাডগুলো সংস্কার করতে হবে, যাতে দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হয়। পাশাপাশি, প্রতিটি উপজেলায় একটি মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে থাকবেন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত স্কুল ও কলেজগুলোর সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ থাকে এবং অনিয়ম হলে পরবর্তীতে শনাক্ত করা যায়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্রের প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিটিভি ব্যবহারের পরিকল্পনা

ইসি জানিয়েছে, বিটিভি ও সংসদ টেলিভিশনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণভোট ও নির্বাচনি সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে। ভোটারদের সচেতন করতে নিউজ ও ফ্ল্যাশ বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে বা আলাদা দিনে হবে কিনা, তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারি সফরে গেলে স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

বাজেট ও জনবল প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। প্রশাসন সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করবে। যদি দুটি ভোট একসঙ্গে হয়, ব্যয় বাড়বে, তাই আগে থেকেই অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।”

অর্থ বিভাগের সচিবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ব্যয় অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সময়মতো বাজেট ছাড় দেওয়া যায়।”

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এতে সরকারি শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

তিনি জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিরপেক্ষ শিক্ষকের তালিকা তৈরিতে সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা ও এআই মনিটরিং সেল

ইসি জানায়, প্রবাসী ভোটার ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষামূলক পোস্টাল ভোটিং অ্যাপ ১৬ নভেম্বর উদ্বোধন করা হবে।

তথ্য বিকৃতি ও ভুয়া প্রচারণা রোধে একটি এআই-নির্ভর মনিটরিং সেল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এই সেল বিভ্রান্তিমূলক বা মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য সহজ ভিসা প্রক্রিয়া

পরিশেষে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সহজে অংশ নিতে পারেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই সব মন্ত্রণালয়কে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।”

জাতীয়

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের একজন ডিআইজির দেহরক্ষীও সঙ্গে ছিলেন। এমনকি ওই ডিআইজি নিজেই তার নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত […]

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

নিউজ ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩১

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের একজন ডিআইজির দেহরক্ষীও সঙ্গে ছিলেন। এমনকি ওই ডিআইজি নিজেই তার নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় ফেরার পর এনায়েত করিম দুদিন ছিলেন একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। সেই হোটেল বুকিং ও ভাড়া পরিশোধ করেছিলেন জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী অংশের মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম এই তথ্য দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

গত শনিবার সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়ার পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা পাসপোর্টে উল্লেখ আছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

ঢাকা মহানগর ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এনায়েত করিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রমাণ মিললে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, এনায়েত করিম ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একটি প্রভাবশালী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান পরিচয় দিয়ে প্রতারণা চালাচ্ছিলেন। তিনি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কখনো ক্ষমতায় বসানোর আশ্বাস দিয়ে, কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল ডিনারে আমন্ত্রণের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের পর বিএনপিপন্থী এক সাংবাদিক নেতা এবং নবগঠিত একটি দলের নেতার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে তিনি প্রতারণা অব্যাহত রাখেন। এর আগেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১–০৬) তাকে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সূত্র আরও জানায়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজনকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়েও তিনি অর্থ নিয়েছেন। আবার ২০২১ সালে র‍্যাব কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির সময় সরকার পরিবর্তনের আভাস দিয়ে কারও কারও কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছিলেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ অবশ্য দাবি করেছেন, এনায়েত করিমের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও এনায়েত করিমের সখ্য ছিল। এনায়েত করিম বাংলাদেশে এলে এরশাদের সঙ্গে দেখা করতেন। মূলত পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণেই এনায়েত করিম বাংলাদেশে এলে তিনি আপ্যায়ন করতেন। এবারও তিনি হোটেল বুকিং ও ভাড়া পরিশোধ করেছেন। মামুনুর রশিদ যখন যুক্তরাষ্ট্রে যান, তখন এনায়েত করিম তাকে আপ্যায়ন করেন। এখানে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক ছাড়া অন্য কিছু নেই।

কাজী মামুনুর রশিদ দাবি করেন, এনায়েত করিমের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া বা প্রতারণার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সরকার পতনের ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনো বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির সহায়তায় মিন্টো রোড এলাকা থেকে এনায়েত করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি একটি প্রাডো গাড়িতে ছিলেন, যা ভাড়া করেছিলেন একজন ডিআইজি। পদাধিকারবলে ওই ডিআইজির নিরাপত্তার জন্য যে দেহরক্ষী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি এনায়েত করিমের সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন। দেহরক্ষী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি কেবল ডিআইজির নির্দেশ পালন করেছেন। ওই দেহরক্ষীকে এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, এনায়েত করিম আগে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সে সময় তিনি ব্যাংকক ও নেপালে একাধিক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে চাকরিচ্যুত ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও এবার তাকে গাড়ি ও দেহরক্ষী দেওয়া ডিআইজিও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকই পালিয়েছেন

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ দেশ ছেড়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে রামপুরায় কিলিংয়ের সাথে জড়িত মেজর নোমান দেশ ছেড়েছেন। বহুল আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের বেশ কিছুদিন […]

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকই পালিয়েছেন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:৩০

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ দেশ ছেড়েছেন।

এছাড়া কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে রামপুরায় কিলিংয়ের সাথে জড়িত মেজর নোমান দেশ ছেড়েছেন।

বহুল আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের বেশ কিছুদিন পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

এছাড়া দিল্লিতে অবস্থান করছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আকবর। ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকের সবাই দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।