বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস হচ্ছেন বিমসটেকের পরবর্তী চেয়ারম্যান। এই গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক জোটের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফের অধিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশের কূটনৈতিক অর্জনের এক নতুন অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বুধবার (২ এপ্রিল) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস অ্যাকাডেমিতে এক আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেন প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা ইস্যু ও অগ্রাধিকারভিত্তিক বিষয়াবলির ওপর নিযুক্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান। তিনি জানান, বঙ্গোপসাগরীয় বহুমাত্রিক প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা বিমসটেক–এর পরবর্তী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব বাংলাদেশ গ্রহণ করবে, এবং এই দায়িত্বে থাকবেন ড. ইউনূস নিজে।
এর আগে, গত বছরের ২৮ অক্টোবর, ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস–এর সঙ্গে বিমসটেক মহাসচিব ও রাষ্ট্রদূত ইন্দ্র মণি পাণ্ডের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়, জোটের পরবর্তী নেতৃত্ব গ্রহণে বাংলাদেশ প্রস্তুত এবং এই দায়িত্ব পালনে প্রধান উপদেষ্টা নিজেই নেতৃত্ব দেবেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই আঞ্চলিক জোটে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটান সদস্য দেশ হিসেবে রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো অঞ্চলভিত্তিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিনিময়, নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, বাণিজ্য সম্প্রসারণসহ বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন।
বিগত সময়ে বাংলাদেশ ১৯৯৭ থেকে ১৯৯৯ এবং ২০০৫ থেকে ২০০৬ সালেও চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করছে থাইল্যান্ড, যারা ২০২২ সালের মার্চ থেকে জোটের নেতৃত্বে আছে। আসন্ন ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনের পর দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর হবে।
বিমসটেক মহাসচিব আশা প্রকাশ করেছেন যে, ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বিমসটেকের কার্যক্রমে নতুন গতি ও শক্তি সংযোজিত হবে, এবং এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সংহতি আরও দৃঢ় হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. ইউনূসের পরিচিতি, মর্যাদা এবং কূটনৈতিক দক্ষতা এই নেতৃত্বে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এদিকে, বিমসটেকের ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আগামী বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যাচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। স্থানীয় কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ২ থেকে ৪ এপ্রিলব্যাপী অনুষ্ঠিতব্য সম্মেলনে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে অংশ নেবেন তিনি এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এই গুরুত্বপূর্ণ ফোরামে।
এই দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা যেমন দৃঢ়ভাবে আন্তর্জাতিক মহলে উপস্থাপিত হবে, তেমনি আঞ্চলিক নেতৃত্বেও নতুন মাত্রা যোগ হবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।

সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা পরিকল্পিত বলে সন্দেহ করছেন অনেকে। আপনি কী মনে করেন?