দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক জোট বিমসটেক–এর ষষ্ঠ শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের উদ্দেশে বৃহস্পতিবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা ত্যাগ করছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আঞ্চলিক সংহতি, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার লক্ষ্যে আয়োজিত এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সাথে মিলিত হয়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।
সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে থাকবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন এবং পররাষ্ট্র সচিব মো. জসীম উদ্দিন। তাঁরা সম্মেলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সংযোগ, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়ে বাংলাদেশের দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করবেন।
উল্লেখযোগ্য যে, বিমসটেক বা বঙ্গোপসাগরীয় বহুক্ষেত্রীয় প্রযুক্তিগত ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা হলো একটি আঞ্চলিক সহযোগিতা ভিত্তিক জোট, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাতটি দেশের মধ্যে পারস্পরিক উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে। সদস্য দেশগুলো হচ্ছে—বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল এবং ভুটান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সম্মেলন শুধুমাত্র অর্থনৈতিক সংহতির প্ল্যাটফর্মই নয়, বরং ভৌগোলিক কৌশলগত সম্পর্ককে সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে আঞ্চলিক জোটগুলোর কার্যকর ভূমিকা এবং যৌথ উদ্যোগ আরও বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। সেই প্রেক্ষিতে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধান উপদেষ্টার এই সফর একটি কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
বাংলাদেশের জন্য এই সম্মেলন হতে পারে বৈশ্বিক মঞ্চে নিজস্ব অবস্থান পুনঃনির্ধারণ এবং আঞ্চলিক প্রভাব বাড়ানোর একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। এছাড়া বাণিজ্য, পরিবহন সংযোগ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ বহুক্ষেত্রে সম্ভাব্য নতুন দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক সহযোগিতার দ্বার উন্মোচনের প্রত্যাশা করছে কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

সচিবালয়ে আগুনের ঘটনা পরিকল্পিত বলে সন্দেহ করছেন অনেকে। আপনি কী মনে করেন?