প্রধান উপদেষ্টার চীন সফরকে “ঐতিহাসিক” হিসেবে অভিহিত করেছেন তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম। রোববার (৩০ মার্চ) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, চীন সরকারের আমন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের রাষ্ট্রীয় সফর কেবল কূটনৈতিক দিক থেকে নয়, অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
চীন সফরের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে চীনা বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করা। এ প্রসঙ্গে প্রেস সচিব বলেন, “চীন সফরের দ্বিতীয় দিনেই অধ্যাপক ইউনূস বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া ২০২৫ বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নেন, যেখানে তাকে কেন্দ্র করে আলোচনা আবর্তিত হয়েছে। তিনি এ সম্মেলনের মধ্যমণি হিসেবে উপস্থিত নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।”
শফিকুল আলম আরও জানান, বোয়াও ফোরামটি এশিয়া মহাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং সরকারি ও বেসরকারি খাতের শীর্ষ নির্বাহীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। এবারের সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি, আর এই সম্মেলনে অধ্যাপক ইউনূসের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য একটি মর্যাদার বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।
তিনি জানান, ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার এক ঐতিহাসিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে উভয় দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও কৌশলগত সহযোগিতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সফরের সময় অধ্যাপক ইউনূস চীনের বিভিন্ন বিনিয়োগকারী, কর্পোরেট নেতৃবৃন্দ ও অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এসব বৈঠকে তিনি বাংলাদেশের সম্ভাবনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক খাতের অগ্রগতির বিষয়ে তুলে ধরেন এবং চীনকে বাংলাদেশে আরও ব্যাপক বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং আগামী দিনে চীনের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকারের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পাবে। একইসঙ্গে, এই সফর অন্তর্বর্তী সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করবে।

বাংলাদেশের পুলিশ, র্যাব ও আনসারের ড্রেস নিয়ে আপনার মতামত কী?