প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ১০:২০ মিনিটের দিকে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন। চীনের উপমন্ত্রী সান ওয়েইডং তাকে বেইজিং ক্যাপিটাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বাসসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ড. ইউনূসকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমানবন্দরে চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছিল, যা দুই দেশের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করার ইঙ্গিত বহন করে।
এর আগে আজ সন্ধ্যা ৭টায় অধ্যাপক ইউনূস হাইনান প্রদেশের বোয়াও শহর থেকে বেইজিংয়ের উদ্দেশে রওনা হন। তিনি সেখানে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষে চীনের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বৈঠকের উদ্দেশে বেইজিংয়ে যান।
চার দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনেই অধ্যাপক ইউনূস কর্মব্যস্ত সময় পার করেছেন। হাইনান প্রদেশে বোয়াও ফোরাম ফর এশিয়া সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী আলেক্সেই ওভারচুকের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে রাশিয়া থেকে গম ও সার আমদানি, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং গ্যাজপ্রমের গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
চীনের এই সফরে ড. ইউনূস চীনা নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
চীনের উপমন্ত্রী সান ওয়েইডংয়ের অভ্যর্থনার মাধ্যমে স্পষ্ট হয়েছে যে, চীন বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও সহযোগিতা সম্প্রসারণে আগ্রহী। ড. ইউনূসের এই সফরকে কেন্দ্র করে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায় সূচিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করা এবং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করার ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এই সময়ের মধ্যে নির্বাচন করা সম্ভব বলে কি আপনি মনে করেন?