মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

একটা পলাতক দল সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশকে  অস্থিতিশীল করার জন্য

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “একটি পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব দেশত্যাগ করেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশটিকে অস্থিতিশীল করার জন্য।” অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মাসের পথচলা, আইনশৃঙ্খলার অবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কার ও আসন্ন নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে বিবিসি বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও […]

একটা পলাতক দল সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশকে  অস্থিতিশীল করার জন্য

ছবি: সংগৃহিত

নিউজ ডেস্ক

০৩ মার্চ ২০২৫, ১১:৪৩

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “একটি পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে বা তাদের নেতৃত্ব দেশত্যাগ করেছে। তারা সর্বাত্মক চেষ্টা করছে দেশটিকে অস্থিতিশীল করার জন্য।”

অন্তর্বর্তী সরকারের সাত মাসের পথচলা, আইনশৃঙ্খলার অবস্থা, রাজনৈতিক সংস্কার ও আসন্ন নির্বাচনসহ নানা ইস্যুতে বিবিসি বাংলার সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে কথা বলেছেন তিনি। ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের বিষয়েও তিনি তার মতামত প্রকাশ করেন।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেছেন বিবিসি বাংলার সম্পাদক মীর সাব্বির। দৈনিক সকাল পাঠকদের জন্য সংক্ষেপিত রূপে সাক্ষাৎকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকার গঠনের আগে তার কোনো ধারণাই ছিল না যে তিনি এমন একটি দায়িত্ব পাবেন। তিনি বলেন, “আমি তখন গ্রেপ্তার আতঙ্কে ছিলাম না, তবে সম্ভাবনা ছিল। আমি বিষয়টি সহজভাবে নিয়েছিলাম। সরকার যখন গঠিত হলো, তখনও আমার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না। হঠাৎ করেই আমি এমন একটি দেশের দায়িত্ব পেলাম, যেখানে সবকিছু ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “প্রথম চ্যালেঞ্জ ছিল এই ধ্বংসাবশেষ থেকে দেশের আসল চেহারা বের করে আনা এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা। এরপর ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনা করা এবং সংস্কারের দিকে অগ্রসর হওয়া।”

বাংলাদেশে দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফ্যাসিবাদী সরকার কিভাবে টিকে থাকল, কেন এত দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা চলতে পারল—এসব প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, “আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন, কারণ এতদিন আমরা কোনো কার্যকর প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারিনি।”

আইনশৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জনে আমরা সফল হয়েছি। দেশের মানুষ আমাদের ওপর আস্থা রেখেছে, যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আইনশৃঙ্খলার কিছু খুচরো সমস্যা থাকতে পারে, তবে সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি উন্নতির দিকেই যাচ্ছে।”

আইনশৃঙ্খলার পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অপরাধের সংখ্যা মোটেই বাড়েনি, বরং আগের মতোই রয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের পুলিশ বাহিনী একসময় ভয়ে রাস্তায় নামতে চাইত না, কারণ তারা নিজেরাই হামলার শিকার হয়েছে। এখন পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে, তবে পুরোপুরি ঠিক হতে আরও সময় লাগবে।”

রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “আমার অবস্থান একই আছে, কেউ আমাকে অসমর্থন করছে না। রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিন্নতা থাকতে পারে, তবে ঐক্যের কোনো ফাটল ধরেনি।”

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অভিযোগ যে অন্তর্বর্তী সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সংশয় তৈরি হয়েছে—এ বিষয়ে তিনি বলেন, “এমন অভিযোগ সঠিক নয়।”

ছাত্রদের নতুন দল গঠনের বিষয়ে সরকারের কোনো সহায়তা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “সরকার কোনো সহায়তা করেনি। যারা রাজনীতি করতে চেয়েছেন, তারা সরকারের পদ ছেড়ে চলে গেছেন। এটা তাদের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত।”

সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করছি।” সেনাপ্রধানের বক্তব্য যে সবাই একসঙ্গে কাজ না করলে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়তে পারে—এ বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, “একটি পলাতক দল দেশ ছেড়ে চলে গেছে এবং দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য তারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।”

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের অবনতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক খুবই ভালো। মাঝখানে কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল, যা অপপ্রচারের কারণে তৈরি হয়েছে। তবে আমরা এখন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছি।”

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের নাগরিক, আমাদের সমান অধিকার রয়েছে। তবে যারা অন্যায় করেছে, তাদের বিচার অবশ্যই হতে হবে।”

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, “যখন প্রয়োজন হয়, তখন যোগাযোগ হয়।”

নিজের রাজনীতিতে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, “আমি কখনো রাজনৈতিক দল গঠন করিনি, করার পরিকল্পনা করেছিলাম মাত্র। তবে পরে বুঝেছি, রাজনীতি আমার জন্য নয়।”

সাক্ষাৎকারের শেষে তিনি বলেন, “আমি এই পদে আসতে চাইনি, আমাকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছে। আমি দায়িত্ব নিয়েছি, কিন্তু আমি রাজনীতির মানুষ নই।”

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

ফয়সালের জামিনে যুক্ত ছিলো বড় রাজনৈতিক দলের নেতার প্রভাবশালী আইনজীবীরা : আইন উপদেষ্টা

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন। আইন উপদেষ্টা ড. […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১১:৪৮

ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় জড়িত ফয়সাল করিম মাসুদ ইতিপূর্বে অস্ত্র মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্ত হওয়ার বিষয়ে মুখ খুলেছেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) রাত ১১টা ২৭ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিষয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন।

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলের ‘জামিন বিতর্ক’ শীর্ষক ফেসবুক স্ট্যাটাসটি তুলে ধরা হলো—

আমাদের প্রিয় ওসমান হাদিকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে ফয়সাল করিম মাসুদ নামের এক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসী। তাকে র‍্যাব গ্রেপ্তার করেছিল গত বছর। এরপর তার জামিন হয়েছে হাইকোর্ট থেকে। এই প্রসঙ্গে, জামিন দেওয়ার ন্যয্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আবারও আলোচনা-বিতর্ক উঠছে।

প্রথমেই বলে রাখি, হাইকোর্ট বিচারিক কাজে স্বাধীন একটি প্রতিষ্ঠান। হাইকোর্টের ওপর আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো নিয়ন্ত্রণ পৃথিবীর কোনো দেশে থাকে না, বাংলাদেশেও নেই। কাজেই সেখানে ফয়সাল করিম মাসুদের জামিন হওয়ার সঙ্গে আইন মন্ত্রণালয়ের কোনো সম্পর্ক ছিল না।

ফয়সাল করিম মাসুদ গত বছর জামিন পেয়েছিল অস্ত্র মামলায়। হাইকোর্টে অস্ত্র মামলার জামিন সহজে হওয়ার কথা নয়। এটি তখনই হতে পারে যখন প্রভাবশালী আইনজীবীরা এসব মামলায় জামিন দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন। এই আইনজীবীরা অধিকাংশই বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের প্রভাবে এসব জামিন হওয়া সহজতর হয়।

হাইকোর্টের প্রদত্ত জামিনে বিচারিক বিবেচনা কতটা থাকে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ থাকে। যেমন : হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে কীভাবে চার ঘণ্টায় ৮০০ মামলায় জামিন হয়েছিল, তা নিয়ে আমি কয়েক মাস আগে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছিলাম (২৩ অক্টোবর, ২০২৫)। এজন্য এক শ্রেণীর আইনজীবীদের পক্ষ থেকে আমার পদত্যাগ পর্যন্ত দাবি করা হয়েছিল (২৫ অক্টোবর ২০২৫)।

২. জামিন পাওয়ার সুযোগ আমাদের আইনে রয়েছে। কিন্তু গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যে অপরাধীর সংযোগ অত্যন্ত স্পষ্ট, যে অপরাধী চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং যে ব্যক্তি জামিন পেলে পুনরায় অপরাধ করতে পারে বা অন্য কারও জীবন বিপন্ন করতে পারে, তাকে জামিন দেওয়া অস্বাভাবিক ও অসঙ্গত। এ নিয়ে আমি প্রকাশ্যে বলেছি। মাননীয় প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় উনার কাছে উচ্চ আদালতে অস্বাভাবিক জামিন নিয়ে আমার উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলাম।

কিছু জামিন নিম্ন আদালত থেকেও হয়েছে গত ১৬ মাসে। আমরা সেসব মামলার কাগজপত্র পরীক্ষা করে দেখেছি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব মামলায় আসামি কীভাবে অপরাধটিতে জড়িত, পুলিশ তার কোনো তথ্য অভিযোগপত্রে দেয়নি, এমনকি আসামির দলীয় পরিচয় পর্যন্তও মামলার কোনো কাগজে উল্লেখ করেনি। এরপরও আমি যথাযথ বিচারিক বিবেচনা না করে যেনতেনভাবে জামিন না প্রদান করার কথা বলেছি (১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫)। কিছু ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়েছে।

৩. জামিন বাণিজ্যে যারা লিপ্ত আছেন, তাদেরকে বলছি—এবার থামুন। আমাদের ছেলেদের জীবন বিপন্ন করার মতো সিদ্ধান্ত দেবেন না। এক গণহত্যাকারী পাশের দেশে বসে আমাদের জুলাই বীরদের হত্যা করার হুমকি দিচ্ছে। বিচারিক বিবেচনার বাইরে গিয়ে জামিন দিয়ে সেই গণহত্যাকারীর অনুসারীদের এই সুযোগ করে দেবেন না। না হলে, পরকালেও এর দায় আপনাদের নিতে হবে।