প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচনে যে দল তার নিজস্ব আচরণবিধি লঙ্ঘন করবে, সেই দলকেই এর দায় নিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজন হলে ঐক্যমত কমিশন থেকে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে লিখিত প্রতিশ্রুতি নেওয়া হতে পারে, যা নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে সহায়তা করবে।
রোববার (২ মার্চ) জাতীয় নির্বাচন কমিশন আয়োজিত ৭ম জাতীয় ভোটার দিবসের আলোচনা সভা শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এসব মন্তব্য করেন। তিনি এই অনুষ্ঠানে ২০২৪ সালের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন। উদ্বোধনী কার্যক্রম শেষে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়।
সিইসি জানান, বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ৩২ হাজার ২৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৬১ হাজার ৬১৫ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৩ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৯৯৪ জন। এবারের ভোটার বৃদ্ধির হার ১.৫৪ শতাংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আলোচনা সভায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোট কারচুপির মাধ্যমে কেউ আপাতত জয়লাভ করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত তা দল ও দেশের জন্য কল্যাণকর হয় না। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, কোনো দলই এবার এমন কাজ করবে না। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বিপরীতমুখী অবস্থান নিয়ে কমিশন চিন্তিত নয় বলে তিনি জানান।
এসময় নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, এবারের নির্বাচনে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে ফিরে আসার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা ইতিবাচক দিক। তিনি জানান, আগামী ৩০ জুনের মধ্যে নতুন ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে, যা একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে অব্যাহত থাকবে। এরপরও যারা নিবন্ধিত হতে পারেননি, তাদের জন্য সুযোগ থাকবে।
নির্বাচনের মতো কঠিন পরীক্ষার জন্য কমিশন প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার। তবে তিনি সুষ্ঠু নির্বাচন শুধু ইসির একার পক্ষে সম্ভব নয় বলে উল্লেখ করে সকল রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেন।