শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

শতকোটির বাগানবাড়ি ঘুষ নেন আয়নাঘরের কারিগর জিয়া

আয়নাঘরের কারিগর চাকরি হারানো বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অর্থবিত্তের পাহাড় গড়েছেন। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সেই মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বাগানবাড়ির তথ্য বের হয়ে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর তিনি নির্মাণ করছেন দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা […]

নিউজ ডেস্ক

০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৭:০৫

আয়নাঘরের কারিগর চাকরি হারানো বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ক্ষমতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে অর্থবিত্তের পাহাড় গড়েছেন। সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া সেই মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের প্রায় ১০০ কোটি টাকা মূল্যের বাগানবাড়ির তথ্য বের হয়ে এসেছে। নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ থানার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে প্রায় ১০ বিঘা জমির ওপর তিনি নির্মাণ করছেন দৃষ্টিনন্দন বাগানবাড়ি।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে গুম-খুনের নেপথ্যের নায়ক এই জিয়াউল আহসান। আলোচিত আয়নাঘরেরও মূল কারিগর তিনি। এ ছাড়া ফোনকলে আড়ি পাতা, মানুষের ব্যক্তিগত আলাপ রেকর্ড করতেন জিয়াউল আহসান। শাপলা চত্বরে হেফাজতের ঘটনায় যৌথ অভিযানে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন তিনি।

গত ৭ আগস্ট গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে জেলে আছেন শেখ হাসিনা সরকারের প্রভাবশালী এই সামরিক কর্মকর্তা।
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে বাগানবাড়ির বিশালাকৃতির জমি একাধিক দলিলে বিভিন্ন ব্যক্তি থেকে কিনে জিয়াউল আহসানকে উপঢৌকন হিসেবে দেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। জমিগুলোর মালিকানা হস্তান্তরের বিভিন্ন স্তরে রফিকুল ইসলাম অথবা তাঁর পরিবারের সদস্যদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।

এদিকে অবৈধ এই সম্পদের তথ্য গোপন করতে জিয়াউল আহসান বাগানবাড়ির জমিগুলো রেজিস্ট্রি করেছেন তাঁর শিশুকন্যা তাসফিয়া আহসান জইতার নামে।

দলিলে মাত্র ১২ বছর বয়সী জইতাকে নাবালিকা হিসেবে দেখানো হয়। অর্থাৎ জইতা শিশু থাকা অবস্থায় কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও পিতা জিয়াউল আহসানের বদৌলতে শতকোটি টাকার বাগানবাড়ির মালিক বনে গেছে। আবার সেটি রফিকুল ইসলামের কাছ থেকে ঘুষ হিসেবে নেন জইতার পিতা জিয়াউল আহসান। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি থেকে এত বিশাল মূল্যের উপহার গ্রহণ মানে হলো জিয়াউল আহসান ওই ব্যক্তিকে বা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিয়েছেন, যেটি আইন ও বিধি বহির্ভূত।
অনুসন্ধানে পাওয়া নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এনটিএমসির সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নাবালিকা মেয়ে তাসফিয়া আহসান জইতার নামে একাধিক দলিলে কেনা হয়েছে বাগানবাড়ির পুরো জমি।

এর মধ্যে বাগানবাড়ির জন্য প্রথম জমি রেজিস্ট্রি হয় ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর। ওই সময় জইতার বয়স ছিল ১২ বছর ৬ মাস ৬ দিন। দলিলে জইতার বাবা ও মায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যথাক্রমে জিয়াউল আহসান ও নুসরাত জাহান। আর জিয়াউল আহসানের বাবা ও মায়ের নাম উল্লেখ করা হয়েছে যথাক্রমে নাসির উদ্দিন আহম্মেদ ও হোসনে আরা বেগম।

১৩৬৮৮ নম্বর দলিল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ০.৬০ একর বা ১.৮১৮ বিঘার দলিল রেজিস্ট্রি হয়। দলিলে যার মূল্য দেখানো হয়েছে ২৭ লাখ ৪৮ হাজার টাকা। জইতা নাবালক হওয়ায় তার পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন পিতা জিয়াউল আহসান। রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের কায়েমসাইর মৌজার আরএস ৮৬ দাগের ২.৫১ একর জমি থেকে ০.৬০ একর জমি জইতার নামে কেনা হয়। জমি ক্রয়ের অর্থ নগদ পরিশোধ করেন জিয়াউল আহসান। আর জমি বিক্রয়কারী হিসেবে দেখানো হয়েছে আব্দুর রহীম, রফিকুল ইসলাম, আবদুল বারেক, বেবী আক্তারসহ মোট আটজনকে।

এরপর ২০১৯ সালের ১৩ মে জিয়াউল আহসানের শিশুকন্যা তাসফিয়া আহসান জইতার নামে বর্তমান বাগানবাড়ির ০.৯০ একর বা ২.৭২৭ বিঘা জমির রেজিস্ট্রি হয়, রূপগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসে যার দলিল নম্বর ৬৩৮৮। দলিলে জমির মূল্য দেখানো হয় ৩৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা। এ জমিটির আমমোক্তার হিসেবে ছিলেন রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলামের ছেলে কাওসার আহম্মেদ অপু। নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, দুটি তফসিলে কায়েতসাইর মৌজার ২০৯২ খারিজা খতিয়ান ও ২০৯১ জোত থেকে ০.৬০ একর এবং ১৪৯০ খারিজা খতিয়ান ও ১৪৮৯ জোত থেকে ০.৩০ একর জমি কেনা হয়। জমির বিক্রেতা হিসেবে দেখান মো. জাহিদ হোসেন, তানভীর হোসেন, ফারহানা হোসেন ও হাজী হাসমত আলীকে। এখানে মেয়ের পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন জিয়াউল আহসান।

২০২০ সালের ২৮ জানুয়ারি তাসফিয়া আহসান জইতার নামে বাগানবাড়ির ০.৬৬৭ একর জমি রেজিস্ট্রি হয়, যার দলিল নম্বর ১০৯০। দলিলে মূল্য দেখানো হয়েছে ২৫ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে বরুনা মৌজায় ০.২৩৭ একর, নাওড়া মৌজায় ০.১৭ একর ও বসুলিয়া মৌজায় ০.২৬ একর জমি রয়েছে। এই জমিতেও আমমোক্তার ছিলেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম রফিকের ছেলে কাওসার আহম্মেদ অপু। জমিটি কেনা হয় মো. হোসেন আলী, হাশেম আলীসহ মোট ১৮ জনের কাছ থেকে। যথারীতি এখানেও মেয়ের পক্ষে দলিলে স্বাক্ষর করেন জিয়াউল আহসান।

সরেজমিনে গেলে এলাকাবাসী জানায়, এক প্লটে বিশাল আকৃতির বাগানবাড়ি নির্মাণের জন্য ধাপে ধাপে লাগোয়া জমিগুলোও কেনেন রফিকুল ইসলাম। জিয়াউল আহসানকে উপহার দিতেই তিনি জমিগুলোর মালিকদের সঙ্গে দেনদরবার করে বিক্রি করতে বাধ্য করেন। কেউ জমি বিক্রিতে রাজি না হলে জিয়াউল আহসানের নাম ব্যবহার করে তুলে নিয়ে গুম করার হুমকি দিয়ে জমি বিক্রিতে বাধ্য করেছেন রফিকুল ইসলাম। শতকোটি টাকা মূল্যের এই বাগানবাড়ির জমি কোনো টাকা না নিয়েই জিয়াউল আহসানের শিশুকন্যার নামে কেনেন রফিকুল ইসলাম।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকাবাসী জানায়, জিয়াউল আহসানকে এই বাগানবাড়িটি দিয়ে রফিকুল ইসলাম এলাকার সাধারণ মানুষের ভূমি নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য করতেন। তা না হলে জিয়াউল আহসানকে দিয়ে তাদের তুলে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো। মূলত রফিকুল ইসলাম এই বাগানবাড়িটি উপহার দিয়েছেন তাঁর দখলদারি নির্বিঘ্নে করার জন্য।

জিয়াউল আহসানের বাগানবাড়িতে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এলাকাবাসী সেখানে হামলা চালিয়ে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত মালপত্র লুটপাট করে নিয়ে যায়। তাঁর গ্রেপ্তারের পর থেকে বাগানবাড়ির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

সেনাবাহিনীর চাকরি থেকে অব্যাহতি পাওয়া আলোচিত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঢাকা কলেজের সামনে ছাত্র ও হকার নিহতের মামলায় ইন্ধনদাতা হিসেবে ৭ আগস্ট রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। গত ১৬ আগস্ট সিএমএম কোর্টে হাজির করা হলে আদালত তাঁর আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

জিয়াউল আহসানের জন্ম ১৯৭০ সালের ৪ ডিসেম্বর, ঝলকাঠি জেলায়। ১৯৯১ সালের ২১ জুন তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে পদাতিক কর্মকর্তা হিসেবে কমিশন লাভ করেন। তিনি সেনাবাহিনীর একজন প্রশিক্ষিত কমান্ডো ও স্কাইডাইভার। জিয়াউল আহসান সেনাবাহিনীর পাশাপাশি র‌্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা (এনএসআই) সংস্থা, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) দায়িত্ব পালন করেছেন।

জাতীয়

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, […]

গণভোটের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ অক্টোবর ২০২৫, ১১:০৯

অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসন্ন গণভোট আয়োজনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন, উপস্থিত ছিলেন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ, ইসি সচিব আখতার আহমেদ, এবং সরকারের ৩১টি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের সচিব ও প্রধান কর্মকর্তারা।

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একসঙ্গে হলে বাড়বে কেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা

বৈঠকে ইসি সচিবালয় জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাথমিক ভোটকেন্দ্র তালিকা ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। যদি একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে ভোটকেন্দ্র ও কর্মকর্তার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। সে ক্ষেত্রে বাড়তি বাজেট, জনবল ও লজিস্টিক প্রস্তুতি এখন থেকেই নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, যদি দুটি ভোট পৃথক দিনে হয়, তবে ব্যয় ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি দ্বিগুণ হবে, যা অর্থ বিভাগের বিশেষ বরাদ্দ ছাড়া সম্ভব নয় বলে ইসি জানায়।

মাঠ প্রশাসন ও অবকাঠামো প্রস্তুতির নির্দেশ

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনি সময় মাঠ প্রশাসনকে হেলিপ্যাডগুলো সংস্কার করতে হবে, যাতে দুর্গম এলাকায় দ্রুত যাতায়াত সম্ভব হয়। পাশাপাশি, প্রতিটি উপজেলায় একটি মেডিকেল টিম গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে থাকবেন একজন চিকিৎসক, একজন নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধ।

ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত স্কুল ও কলেজগুলোর সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়, যাতে ভোটগ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া নথিবদ্ধ থাকে এবং অনিয়ম হলে পরবর্তীতে শনাক্ত করা যায়। এছাড়া স্থানীয় প্রশাসনকে কেন্দ্রের প্রবেশপথ ও সংলগ্ন সড়ক সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনি প্রচারণায় বিটিভি ব্যবহারের পরিকল্পনা

ইসি জানিয়েছে, বিটিভি ও সংসদ টেলিভিশনের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে গণভোট ও নির্বাচনি সচেতনতা প্রচারণা চালানো হবে। ভোটারদের সচেতন করতে নিউজ ও ফ্ল্যাশ বার্তা প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সিইসি নাসির উদ্দিন বলেন, “জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে বা আলাদা দিনে হবে কিনা, তা সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। তবে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সরকারি সফরে গেলে স্থানীয় পর্যায়ের প্রস্তুতিও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।”

বাজেট ও জনবল প্রস্তুতি

নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, “খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রস্তুত হয়েছে। প্রশাসন সেই অনুযায়ী কাজ শুরু করবে। যদি দুটি ভোট একসঙ্গে হয়, ব্যয় বাড়বে, তাই আগে থেকেই অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে।”

অর্থ বিভাগের সচিবকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “ব্যয় অনুমোদন দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সময়মতো বাজেট ছাড় দেওয়া যায়।”

ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের (প্রিজাইডিং, সহকারী প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসার) তালিকা তৈরির কাজ চলছে। এতে সরকারি শিক্ষক, ব্যাংক কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষিত কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।”

তিনি জানান, নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে নিরপেক্ষ শিক্ষকের তালিকা তৈরিতে সহায়তার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়োগে স্বরাষ্ট্র ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে কার্যকর ভূমিকা রাখতে বলা হয়েছে।

নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা ও এআই মনিটরিং সেল

ইসি জানায়, প্রবাসী ভোটার ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নতুন পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা চালুর প্রস্তুতি চলছে। পরীক্ষামূলক পোস্টাল ভোটিং অ্যাপ ১৬ নভেম্বর উদ্বোধন করা হবে।

তথ্য বিকৃতি ও ভুয়া প্রচারণা রোধে একটি এআই-নির্ভর মনিটরিং সেল গঠনের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এই সেল বিভ্রান্তিমূলক বা মিথ্যা তথ্য শনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য সহজ ভিসা প্রক্রিয়া

পরিশেষে বৈঠকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়, যাতে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা সহজে অংশ নিতে পারেন।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো—যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ্যেই সব মন্ত্রণালয়কে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।”

জাতীয়

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের একজন ডিআইজির দেহরক্ষীও সঙ্গে ছিলেন। এমনকি ওই ডিআইজি নিজেই তার নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত […]

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

বিমানবন্দরে আনতে যান পুলিশের পদস্থ কর্মকর্তা, হোটেলের ভাড়া দেন জাপা নেতা

নিউজ ডেস্ক

১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:৩১

বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া এনায়েত করিম ওরফে মাসুদ করিম চৌধুরীকে ঘিরে একের পর এক নতুন তথ্য বেরিয়ে আসছে। তাকে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশের একজন ডিআইজির দেহরক্ষীও সঙ্গে ছিলেন। এমনকি ওই ডিআইজি নিজেই তার নিরাপত্তায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন বলে জানা গেছে। তবে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

৬ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় ফেরার পর এনায়েত করিম দুদিন ছিলেন একটি পাঁচ তারকা হোটেলে। সেই হোটেল বুকিং ও ভাড়া পরিশোধ করেছিলেন জাতীয় পার্টির রওশনপন্থী অংশের মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জিজ্ঞাসাবাদে এনায়েত করিম এই তথ্য দিয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।

গত শনিবার সন্দেহভাজন হিসেবে আটক হওয়ার পর তাকে ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে রমনা থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার আদালত তাকে ৪৮ ঘণ্টার রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা পাসপোর্টে উল্লেখ আছে, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।

ঢাকা মহানগর ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, এনায়েত করিমকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রমাণ মিললে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে। তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, এনায়েত করিম ২০ বছরের বেশি সময় ধরে একটি প্রভাবশালী দেশের গোয়েন্দা সংস্থার দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান পরিচয় দিয়ে প্রতারণা চালাচ্ছিলেন। তিনি বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কখনো ক্ষমতায় বসানোর আশ্বাস দিয়ে, কখনো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেনশিয়াল ডিনারে আমন্ত্রণের প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগেও এ ধরনের প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০১৮ সালের পর বিএনপিপন্থী এক সাংবাদিক নেতা এবং নবগঠিত একটি দলের নেতার সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে তিনি প্রতারণা অব্যাহত রাখেন। এর আগেও বিএনপি নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের আমলে (২০০১–০৬) তাকে প্রতারণার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

সূত্র আরও জানায়, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত একজনকে বাঁচানোর আশ্বাস দিয়েও তিনি অর্থ নিয়েছেন। আবার ২০২১ সালে র‍্যাব কর্মকর্তাদের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারির সময় সরকার পরিবর্তনের আভাস দিয়ে কারও কারও কাছ থেকে সুবিধা নিয়েছিলেন।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব পরিচয় দেওয়া কাজী মামুনুর রশিদ অবশ্য দাবি করেছেন, এনায়েত করিমের সঙ্গে তার পারিবারিক সম্পর্ক। সেই সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সঙ্গেও এনায়েত করিমের সখ্য ছিল। এনায়েত করিম বাংলাদেশে এলে এরশাদের সঙ্গে দেখা করতেন। মূলত পারিবারিক সম্পর্ক থাকার কারণেই এনায়েত করিম বাংলাদেশে এলে তিনি আপ্যায়ন করতেন। এবারও তিনি হোটেল বুকিং ও ভাড়া পরিশোধ করেছেন। মামুনুর রশিদ যখন যুক্তরাষ্ট্রে যান, তখন এনায়েত করিম তাকে আপ্যায়ন করেন। এখানে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক সম্পর্ক ছাড়া অন্য কিছু নেই।

কাজী মামুনুর রশিদ দাবি করেন, এনায়েত করিমের বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া বা প্রতারণার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। সরকার পতনের ষড়যন্ত্র বা অন্য কোনো বিষয়েও তিনি কিছু জানেন না।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, পুলিশের বিশেষ শাখার তথ্যের ভিত্তিতে ডিবির সহায়তায় মিন্টো রোড এলাকা থেকে এনায়েত করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে সময় তিনি একটি প্রাডো গাড়িতে ছিলেন, যা ভাড়া করেছিলেন একজন ডিআইজি। পদাধিকারবলে ওই ডিআইজির নিরাপত্তার জন্য যে দেহরক্ষী নিযুক্ত ছিলেন, তিনি এনায়েত করিমের সঙ্গে গাড়িতে ছিলেন। দেহরক্ষী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন, তিনি কেবল ডিআইজির নির্দেশ পালন করেছেন। ওই দেহরক্ষীকে এরই মধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

জানা গেছে, এনায়েত করিম আগে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নেতাকে রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। সে সময় তিনি ব্যাংকক ও নেপালে একাধিক বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে চাকরিচ্যুত ও অবসরপ্রাপ্ত কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ছাড়াও এবার তাকে গাড়ি ও দেহরক্ষী দেওয়া ডিআইজিও উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকই পালিয়েছেন

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ দেশ ছেড়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে রামপুরায় কিলিংয়ের সাথে জড়িত মেজর নোমান দেশ ছেড়েছেন। বহুল আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের বেশ কিছুদিন […]

ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকই পালিয়েছেন

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৫, ১৭:৩০

গুম-খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ওয়ারেন্টভুক্ত সেনা কর্মকর্তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। এরমধ্যে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো (সিটিআইবি) এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল কবির আহমেদ দেশ ছেড়েছেন।

এছাড়া কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে রামপুরায় কিলিংয়ের সাথে জড়িত মেজর নোমান দেশ ছেড়েছেন।

বহুল আলোচিত লেফটেন্যান্ট জেনারেল (বরখাস্ত) মুজিবুর রহমান গত বছরের ৫ আগস্টের বেশ কিছুদিন পর ময়মনসিংহের ধোবাউড়া সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান।

এছাড়া দিল্লিতে অবস্থান করছেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) আকবর। ডিজিএফআইয়ের সাবেক ৫ পরিচালকের সবাই দেশ ছেড়েছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।