জানা গেছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর একযুগ আগে একটি অনুষ্ঠানের খাবার টেবিল থেকে জামায়াত অনুসারি একজন ব্যবসায়ীকে জোর করে তুলে এলাকাছাড়া করেছিল মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হাই ওরফে কানু। অতপর জামায়াতের ওই ব্যবসায়ী বহু বছর গ্রামের ফিরতে পারেননি। এমনকি স্থানীয় জামায়াতের কয়েকজন নেতাকে এলাকাছাড়া করেছিলেন মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামী লীগ নেতা কানু।
৫ আগষ্ট হাসিনা পালানোনর পর থেকে তিনি বাড়িতে থাকছেন। গত রোববার দুপুরে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পরই তাঁকে আটক করেন একদল লোক। এরপর তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কুলিয়ারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে তাঁকে লাঞ্ছিত করা হয়। লাঞ্ছিতকারীরাই ঘটনাটির ভিডিও ধারণ করে রাতে তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দেয়।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ১ মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দিয়ে দেখা যায়, দুজন ব্যক্তি জুতার মালা পরা অবস্থায় কানুকে টানাহেঁচড়া করছেন। তাঁকে লাঞ্ছিত করা ব্যক্তিদের একজনই পুরো ঘটনার ভিডিও করেছেন। এ সময় কানু কোনো প্রতিবাদ করেননি বারবার তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার আকুতি জানান।
আবদুল হাই কানুর ছেলে গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, হামলাকারীরা সকলেই স্থানীয় জামায়াত ও শিবিরের চিহ্নিত নেতা-কর্মী। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত করা হলো, আমি বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে কার কাছে বিচার চাইব?
এ প্রসঙ্গে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাহফুজুর রহমান বলেন, ওসি সাহেব আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। একজন মুক্তিযোদ্ধাকে এভাবে লাঞ্ছিত করার ঘটনা মেনে নেওয়ার মতো না। আমরা ঘটনাটির খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। জামায়াত ও শিবিরের কোনো নেতা-কর্মী এই ঘটনায় জড়িত হয়ে থাকলে আমরা অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেব।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ টি এম আক্তার উজ জামান বলেন, ‘ভিডিওটি দেখে আমি ওই ব্যাক্তির সঙ্গে দুইবার কথা বলেছি। তিনি কোনো অভিযোগ করতে রাজি হচ্ছেন না। বলছেন তিনি অভিযোগ করলে এলাকায় থাকতে পারবেন না, আর থানা পুলিশকেও ঝামেলায় ফেলতে চান না। তবে ওসি বলেন, আমরা এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করার চেষ্টা করছি। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চৗদ্দগ্রামে মুক্তিযোদ্ধাকে মানহানির ঘটনায় তীব্র নিন্দা প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। গতকাল সোমবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা বলা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনা তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার জন্য পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, আবদুল হাই হত্যাসহ ৯টি মামলার আসামি। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং সবাইকে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের বক্তব্য দেখে মনে হচ্ছে তারা সুবোধ বালকের ভুমিকায় অবর্তীর্ণ হয়েছেন। হাসিনা রেজিমে মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন করা আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে ৯টি মামলা। তাকে গ্রেফতার দূরের কথা তিনি মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তার পক্ষ নিচ্ছে অন্তর্র্বর্তী সরকার! দীর্ঘ ১৫ বছর যারা জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এলাকায় থাকতে পারেননি; ভারতের তাবেদার হাসিনা হটানোর আন্দোলন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা অন্তর্বর্তী সরকারের যেন তর সইছে না। এটা ঠিক মুক্তিযোদ্ধারা সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট সন্তান। কিন্তু তারা যদি অপরাধ করেন? শেখ হাসিনা কি মুক্তিযোদ্ধাদের ফাঁসিতে ঝুলায়নি?