শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

‘সংবিধানে ইসলামকে দিকনির্দেশক হিসাবে স্বীকৃতি দিতে হবে’

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবিধান সংস্কার : আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট একটি দেশ। ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক দিক থেকে এদেশে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই এদেশের সংবিধানে ইসলামকে নৈতিক দিকনির্দেশনার ভিত্তি হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বহাল রাখার পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থি কোনো আইন প্রণয়ন না করার বিষয়টিও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। […]

নিউজ ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর ২০২৪, ২২:৪৩

জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সংবিধান সংস্কার : আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা বলেছেন, বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ট একটি দেশ। ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক দিক থেকে এদেশে ইসলাম সুপ্রতিষ্ঠিত। তাই এদেশের সংবিধানে ইসলামকে নৈতিক দিকনির্দেশনার ভিত্তি হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বহাল রাখার পাশাপাশি কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থি কোনো আইন প্রণয়ন না করার বিষয়টিও সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে বালাকোট-চেতনা উজ্জীবন পরিষদের উদ্যোগে ‘সংবিধান সংস্কার: আমাদের ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।

পরিষদের আহবায়ক মাওলানা কবি রূহুল আমীন খানের সভাপতিত্বে ও বাদেদেওরাইল ফুলতলী কামিল মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা মোহাম্মদ নজমুল হুদা খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সুপ্রিমকোর্টের মাননীয় বিচারপতি সৈয়দ এ.বি. মাহমুদুল হক। স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিষদের সদস্য সচিব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী। মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এরফোর্ট ইউনিভার্সিটি, জার্মানি’র পিএইচডি গবেষক মারজান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিচারপতি সৈয়দ এ.বি. মাহমুদুল হক বলেন, এদেশের বেশিরভাগ মানুষ মুসলমান। আমিও ব্যক্তিগতভাবে ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারের সন্তান। আমাদের পূর্বপুরুষ ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলেন। তাই ইসলামের প্রতি আমাদের হৃদয়ের টান রয়েছে। তিনি মূল প্রবন্ধে উপস্থাপিত প্রস্তাবসমূহকে সুন্দর আখ্যায়িত করে বলেন, সংবিধান সংস্কারাধীন রয়েছে। এতে আমরা অনেক ভালো কিছু প্রত্যাশা করি।

মাওলানা আহমদ হাসান চৌধুরী ফুলতলী বলেন, আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ ইতিহাসের নানা বাঁক অতিক্রম করে বর্তমান অবস্থায় এসে দাঁড়িয়েছে। ইতিহাস সাক্ষী, এদেশের মানুষ সময়ে সময়ে শোষণ, বঞ্চণা, নির্যাতন-নিপীড়ন ও স্বেচ্ছাচারের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

২০২৪ এর জুলাই বিপ্লব ইতিহাসের সে ধারারই অংশ। জুলাই বিপ্লবের পর নবগঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সংস্কার ও উন্নয়নে নানা প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। সংবিধান সংস্কারের জন্য গঠন করেছেন ‘সংবিধান সংস্কার কমিশন’। এ কমিশন দেশের সকল নাগরিকের নিকট থেকে সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রস্তাব আহ্বান করেছে।

সে আহ্বানে সাড়া দিয়ে আমরা হযরত সায়্যিদ আহমদ শহীদ বেরলভী (র.) এর বিপ্লবী চেতনা উজ্জীবনের লক্ষ্যে গঠিত ‘বালাকোট চেতনা উজ্জীবন পরিষদ’ এর পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবরে গত ২৩ নভেম্বর ১৯ দফা প্রস্তাব পেশ করেছি। আমাদের দাবি, সংবিধানে আল্লাহর সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি প্রদান করতে হবে, আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে এবং শিক্ষার সর্বস্তরে ইসলামী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত রাখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সাবেক ডিন ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন, বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মহাসচিব মাওলানা শাব্বীর আহমদ মোমতাজী, হিযবুল্লাহ জমিয়াতুল মুছলিহীনের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ খলীলুর রহমান নেছারাবাদী, চরমোনাই আহছানাবাদ রশিদীয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, ইসলামি শিক্ষা উন্নয়ন বাংলাদেশ এর সভাপতি ড. এ কে এম মাহবুবুর রহমান, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ড. মুহাম্মদ ঈসা শাহেদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের অধ্যাপক ড. মোঃ রূহুল আমীন, বিশিষ্ট আলিমে দ্বীন মুফতী আবু নছর জিহাদী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সাবেক সভাপতি ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ শহীদুল হক, মহাখালী দারুল উলূম হোসাইনিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম আল মারুফ, দারুল ফিকর ওয়াল ইফতা আল-ইসলামী বাংলাদেশ’র সদস্য সচিব মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মদ কুতবুল আলম, মাসিক পরওয়ানা’র সম্পাদক মাওলানা রেদওয়ান আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়ার কেন্দ্রীয় পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ এস এম মনোয়ার হোসেন।

সেমিনারে সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি, মালয়েশিয়ার পোস্ট ডক্টোরাল ফেলো ড. ফয়জুল হক, ঝালকাঠি এনএস কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. শহিদুল হক, গোড়ান নাজমুল হক কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা এমরানুল হক, মোহাম্মদপুর গাউসিয়া ফাযিল মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ মাওলানা আ. ন. ম. মাহবুবুর রহমান, বঙ্গভবন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা সাইফুল কবির, বাংলাদেশ আনজুমানে তালামীযে ইসলামিয়া ঢাকা মহানগর সভাপতি ইমাদ উদ্দীন তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ইকরাম কুতুবি, সাধারণ সম্পাদক আহমদ রায়হান ফারহি, জার্মানি বার্লিনের বাইতুল মুকাররামের খতিব মাওলানা হেলাল উদ্দীন সিরাজী, শাহনুর প্রপার্টিজ লিমিটেডের পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার নাইমুল হক খান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধে সংবিধান সংস্কারে ১৯ দফা প্রস্তাব পেশ করা হয়। এর মধ্যে- সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব’ ও ইসলামকে নৈতিক দিকনির্দেশনার ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান, রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে বহাল রাখা, কুরআন ও সুন্নাহ পরিপন্থি কোনো আইন প্রণয়ন না করা, আলিম-উলামা ও ইসলামী আইনজ্ঞদের সমন্বয়ে ‘ইসলামিক আইডোলজি কাউন্সিল’ গঠন করা, এলজিবিটিকিউ বা ট্রান্সজেন্ডারের মতো বিষয় অধিকার হিসাবে অন্তর্ভুক্ত না করা, মুসলমানদের বিবাহ, তালাক, উত্তরাধিকার ও অন্যান্য পারিবারিক বিষয় পূর্ণরূপে ইসলামী নীতি অনুসারে পরিচালনার স্বীকৃতি প্রদান, জাতীয় শিক্ষা কমিশন গঠন, পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক ইসলামী শিক্ষা অন্তর্ভুক্তি, ইসলামী অর্থনীতি ও শ্রম অধিকার বাস্তবায়ন, সুদমুক্ত ব্যাংক ব্যবস্থা প্রবর্তন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল নাগরিকের জান-মালের নিরাপত্তা বিধানসহ ধর্মীয় ও জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবসমূহ উল্লেখ করার সাথে সাথে এগুলোর ঐতিহাসিক ও ধর্মতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটের পাশাপাশি ক্ষেত্রবিশেষে অন্যান্য দেশের আইন, সংবিধান ও প্রাসঙ্গিক বিষয়ের উদাহরণও আনা হয়েছে। ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহর নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্ব’ এর ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, মৌরতানিয়া, আয়ারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রের সংবিধানে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর বিশ্বাস অনুযায়ী স্রষ্টার সার্বভৌমত্বের কথা বিভিন্ন পরিভাষায় প্রযুক্ত হয়েছে। রাষ্ট্রধর্মের কথাও মালয়েশিয়া, তিউনিসিয়া, ডেনমার্ক, আইসল্যান্ড-এর সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না : এডিসি জুয়েল

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।” সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব […]

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এডিসি জুয়েল। তিনি বলেছেন, নির্বাচন চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবে এবং ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তার বক্তব্য—“সবার হাতে এ কে-৪৭ থাকবে, ব্যালট বাক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না।”

সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন এডিসি জুয়েল। তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। কোনো ধরনের সন্ত্রাস, ভোট কারচুপি কিংবা কেন্দ্র দখলের চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না।

এডিসি জুয়েল আরও বলেন, নির্বাচনের দিন প্রতিটি কেন্দ্র থাকবে কড়া নজরদারিতে। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবে। যারা ভোটের পরিবেশ নষ্ট করতে চাইবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ এটিকে কঠোর বার্তা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ ভাষা ব্যবহারের সমালোচনাও করছেন।

তবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে আস্থা তৈরি করা এবং দুষ্কৃতকারীদের সতর্ক করা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচনকে ঘিরে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেবে না বলেও তারা পুনর্ব্যক্ত করেছে।

জাতীয়

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের […]

থানার ওসি যেন মন্ত্রীকে ফোন না করে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০০:৩১

যেকোনো মূল্যে কমান্ড চেইন বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। থানার ওসি যেন কখনো সরাসরি মন্ত্রীকে ফোন না করেন—এমন কড়া নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি কোনো ধরনের তদবির ও দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

বৈঠকে উপস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তরের সচিব ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকার পুলিশ কমিশনার ও ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিও অংশ নেন।

উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে চেইন অব কমান্ড বজায় রাখতে হবে। পুলিশের সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করা যাবে না। থানার ওসির ফোন যেন সরাসরি মন্ত্রীর কাছে না আসে। এসব বিষয়ে তিনি কঠোর অবস্থানের কথা জানান।

গত ১৭ বছরের পুলিশি কার্যক্রমের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বৈঠকে মন্ত্রী জানান, অতীতে যা ঘটেছে, তা নিয়ে তিনি পেছনে ফিরতে চান না। তিনি নিজেও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে উল্লেখ করেন। তবে সামনে এগিয়ে গিয়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই হবে প্রধান লক্ষ্য। তিনি কাজের মূল্যায়নে বিশ্বাসী বলেও জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক কর্মকর্তা জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন কোনো ধরনের তদবির গ্রহণযোগ্য হবে না এবং দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতা নীতি অনুসরণ করা হবে। বাহিনীর মধ্যে কেউ অপরাধে জড়িত থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এসব বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, সড়কে জনগণের ভোগান্তির বিষয়েও তিনি গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, জনগণকে দুর্ভোগে ফেলে কোনো কর্মসূচি নেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে রাস্তার এক লেন চালু রেখে কর্মসূচি পরিচালনার বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে বলে পুলিশকে তিনি নির্দেশ দেন।