ভারত সরকার তার দেশে মানবাধিকার সংরক্ষণে যেখানে চরম ব্যর্থ, সেখানে বাংলাদেশ বিরোধী অপপ্রচার গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতে মুসলিমরা নির্যাতিত। তাদেরকে কদিন পর পর হত্যা, গুম, তাদের বাড়িঘরে হামলা করে ধ্বংস করা, ৩০০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত মসজিদসহ শত শত মসজিদ শহীদ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার ভূলুন্ঠিত করা হচ্ছে। কাশ্মীরে এখনও মুসলিমদের বাড়িঘরে হামলা করে তাদেরকে হত্যা করা হয় নির্বিচারে। যেখানে ভারত সরকারের মানবাধিকারের অবস্থা তলানীতে, ব্রিটিশ আমলেও এমন ভয়াবহ অবস্থা হয়নি, সেখানে দেশটির সরকারের ‘দেখেও না দেখার ভান’ অবস্থানের সুযোগে ভূঁয়া ও তথাকথিত মানবাধিকার নামে(!)সংগঠনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে প্রশ্ন তোলা অবান্তর ও হাস্যকর।
জানা গেছে, ভারত দারিদ্রতা ও মানবাধিকারের যে কোনো ইনডেক্সে বাংলাদেশ থেকে অনেক পিছিয়ে। সেদেশে ৭০ শতাংশেরও অধিক মানুষ রাস্তায় ও রেললাইনের পাশে পায়খানা করে। দেশটির অবস্থা যখন ভয়াবহ, সেখানে বাংলাদেশে হিন্দু ধর্মাম্বলম্বীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ তুলে ভারতের শিমলায় প্রতিবাদ-বিক্ষোভে নেমেছে উগ্র হিন্দু গোষ্ঠী। এ সময় ড. ইউনুসের নোবেল পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তারা। মানবাধিকার রক্ষক বা ডিফেন্ডার্স অব হিউম্যান রাইটস (ডিএইচআর)-এর ব্যানারে সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগে এই প্রতিবাদ অনুষ্ঠিত হয় বলে জানা গেছে।
ডিএইচআর-এর আহ্বায়ক অজয় শ্রীবাস্তব উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় মুক্তি বাহিনী ও শেখ মুজিবুর রহমানকে সমর্থন করা হিন্দুরাই এখন দেশটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন। শ্রীবাস্তব ইউনুসের বিরুদ্ধে হাস্যকরভাবে ‘জেহাদি মানসিকতা’ থাকার অভিযোগ তোলেন এবং হিন্দু ও বৌদ্ধ মন্দিরে হামলার জন্য তাকে দায়ী করেন। খবর ডেকান হেরাল্ডের।
এর আগে, নভেম্বরের শেষ দিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান পরামর্শদাতার (ড. মুহাম্মদ) শান্তিতে নোবেল কেড়ে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তমলুকের বিজেপির আইনপ্রণেতা সাবেক বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তিনি বলেন, আমি নোবেল কমিটিকে বলতে চাই, উনার পুরস্কার এখনই কেড়ে নেয়া হোক।’ যদিও নোবেল কমিটির এমন কোনও নিয়ম আছে কিনা, সে বিষয় অবগত নয় বলেও জানিয়েছেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তবে, ভারতের হিন্দুত্ববাদী এবং ক্ষমতাসীন বিজেপি নেতাদের ড. ইউনূস এবং তার নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে এ ধরনের দাবিকে অবান্তর মনে করেন বাংলাদেশের অনেকেই। তারা মনে করেন, বিজেপি নেতাদের এই ধরনের আগ্রাসী মন্তব্য দুই দেশের সম্পর্ককে আরো বেশি তিক্ততার পর্যায়ে নিয়ে যাবে।