গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার তাদের প্রথম মাস পূর্ণ করল। এই এক মাসের খতিয়ানে সবচেয়ে বড় সাফল্যের এবং স্বস্তির জায়গা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। দীর্ঘদিনের রক্তক্ষয়ী দৃশ্যপটের বিপরীতে গত এক মাসে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দেয়া কঠোর কূটনৈতিক বার্তা এবং সীমান্তে বিজিবির অধিকতর সতর্ক ও স্বপ্রণোদিত ভূমিকার কারণেই এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
সীমান্তের বর্তমান এই শান্ত রূপ অতীতের চরম বিভীষিকাময় চিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিদায়ী ২০২৫ সালে বিএসএফের গুলিতে ও নির্যাতনে অন্তত ৩৪ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন, যা ছিল গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এমনকি চলতি বছরের জানুয়ারিতেও তিন বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই রক্তঝরা প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে গত এক মাসে সীমান্তে একটিও প্রাণহানি না হওয়াকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দায়িত্ব নেয়ার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে নয়াদিল্লিকে দেয়া কঠোর বার্তার কারণেই সীমান্ত পরিস্থিতির এই ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
বিনা কারণে বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধে বর্তমান সরকারের কঠোর অবস্থান এবং বিশাল জনসমর্থন নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের বিষয়টি বিএসএফ-কে সংযত আচরণে বাধ্য করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সীমান্ত হত্যা চিরতরে শূন্যে (জিরো ফিগার) নামিয়ে আনতে এখন স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং বিজিবি সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সরকারের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন মানবাধিকার কর্মীরাও।
পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এখনই আত্মতুষ্টিতে ভুগতে নারাজ বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’–এই নীতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে চোরাচালান ও মানব পাচার বিরোধী অভিযান আরও জোরদার করেছে বাহিনীটি।
গত এক মাসে বিজিবি প্রায় ২০০ কোটি টাকার চোরাই পণ্য, ২০টি বিদেশি অস্ত্রসহ গোলাবারুদ ও সরঞ্জামাদি এবং বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করেছে। একইসঙ্গে অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমকালে আটক করা হয়েছে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে।
প্রাণহানির এই ‘শূন্যের অঙ্ক’ ধরে রাখতে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অনুপ্রবেশ থেকে বিরত থাকা এবং সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিজিবি। সরকার সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সীমান্তকে শান্তি ও সহযোগিতার প্রতীকে পরিণত করতে তাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বছরের পর বছর ধরে সীমান্তে ফেলানীর মতো অসংখ্য লাশের যে ক্ষত এ দেশের মানুষের মনে দগদগে হয়ে আছে, বর্তমান সরকারের প্রথম মাসের এই অর্জন সেই ক্ষতে কিছুটা হলেও প্রলেপ দিচ্ছে বলে মনে করছে সাধারণ মানুষ।