বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ জিয়ার আদর্শের বাস্তবায়ন চায় জনগণ

শহীদ জিয়ার স্মৃতি ফিরে এলো ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি গাছ লাগান। প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদীনালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি […]

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ জিয়ার আদর্শের বাস্তবায়ন চায় জনগণ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ জিয়ার আদর্শের বাস্তবায়ন চায় জনগণ

নিউজ ডেস্ক

১৮ মার্চ ২০২৬, ১১:৪০

শহীদ জিয়ার স্মৃতি ফিরে এলো ২০২৬ সালের ১৬ মার্চ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার সাহাপাড়ায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। কোদাল দিয়ে মাটি কেটে তিনি এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি খালের পাড়ে একটি গাছ লাগান।

প্রধানমন্ত্রীর সাহাপাড়া খাল পুনঃখননের উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী ‘নদীনালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলো। সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদীনালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

প্রথম পর্যায়ে দেশের ৫৩টি জেলায় এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসন, সেচব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং জলাধার সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

প্রধানমন্ত্রী তার বাবা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এ কর্মসূচি শুরু করেছেন। জিয়াউর রহমান তার শাসনামলে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতি, কৃষি উৎপাদন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। বর্তমান উদ্যোগকে সে কর্মসূচির ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

চিরবিদায়ের ৪৫ বছর পরও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এখনো বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে চিরজাগরূক।

শ্রদ্ধার আসনে আসীন।
জিয়াউর রহমানের শাসনামল, বাংলাদেশে সামরিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হন, বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন, ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন এবং কৃষি, শিল্প ও পররাষ্ট্রনীতিতে উল্লেখযোগ্য সংস্কার সাধন করেন। ১৯৮১ সালে নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি শাসনক্ষমতায় ছিলেন। তার এই স্বল্প সময়ের শাসনকালে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনায় সততা, নিষ্ঠা এবং দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন।

এ দেশের মানুষ এখনো শহীদ জিয়াকে স্মরণ করে তার সততার জন্য। একজন রাষ্ট্রপ্রধান কতটা সৎ জীবনযাপন করতে পারেন তার উদাহরণ হলেন জিয়াউর রহমান। একজন রাষ্ট্রপতি যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকেন, কোনোভাবেই যদি দুর্নীতিকে প্রশ্রয় না দেন, তাহলেই যে একটি সরকার দুর্নীতিমুক্ত হতে পারে শহীদ জিয়ার শাসনকাল তার প্রমাণ। শহীদ জিয়া নিজে সততার চর্চা করেছেন জীবনভর। যেখানেই দুর্নীতি দেখেছেন সেখানেই তিনি কঠোরভাবে তা দমন করেছেন। জিয়াউর রহমানের সততা নিয়ে এখনো আলোচনা হয় জনগণের মাঝে। তিনি একজন সৎ মানুষের প্রতিকৃতি।
রাষ্ট্রপতি থাকা অবস্থায় তিনি কখনো নিজের জন্য বিলাসিতা, আত্মীয়স্বজনের প্রভাব বা ক্ষমতার অপব্যবহার করেননি। তার কর্মজীবনে দেখা যায় নিজের পরিবারের কেউ সরকারি সুবিধা বা বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করেনি। রাষ্ট্রপতি ভবনের বিলাসবহুলতা হ্রাস করে সাধারণ জীবনযাপন বজায় রেখেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করেছেন আমরণ। তার ঘনিষ্ঠজনরা জানান, প্রেসিডেন্ট থাকার সময় জিয়া নিয়মিত অফিস সময়ের আগেই কাজে যোগ দিতেন, ব্যক্তিগত ব্যয় রাষ্ট্রের ওপর চাপিয়ে দিতেন না এবং তার পরিবারকেও সেই শিক্ষা দিতেন। জাতীয় উন্নয়নে নিষ্ঠা ও পরিকল্পিত কর্মতৎপরতা ছিল তার স্বভাবসুলভ। শহীদ জিয়া দেশ গড়ার মহান ব্রত নিয়ে এক নতুন উন্নয়ন চিন্তার সূচনা করেন। তার শাসনামলে যে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন হয়, তা ছিল প্রান্তিক জনগণের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর। তার সততা নিষ্ঠা নিয়ে প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ‘দেয়াল’ উপন্যাসে লিখেছেন-‘বাংলাদেশের মানুষ মনে করতে শুরু করল অনেক দিন পর তারা এমন একজন রাষ্ট্রপ্রধান পেয়েছে যিনি সৎ। নিজের জন্যে কিংবা নিজের আত্মীয়স্বজনের জন্যে টাকাপয়সা লুটপাটের চিন্তা তার মাথায় নেই। বরং তার মাথায় আছে দেশের জন্যে চিন্তা। তিনি খাল কেটে দেশ বদলাতে চান। জিয়া মানুষটা সৎ ছিলেন, এতে কোনো সন্দেহ নেই। লোক দেখানো সৎ না, আসলেই সৎ। তার মৃত্যুর পর দেখা গেল জিয়া পরিবারের কোনো সঞ্চয় নেই।’

জিয়াউর রহমানের শহীদ হবার ৪৫ বছর পর তার জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমানের হাতে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেই শহীদ জিয়ার আদর্শ ফিরিয়ে এনেছেন দেশ পরিচালনায়। তারেক রহমানের সাদামাটা পোশাক, সময়ের প্রতি তার শ্রদ্ধা, প্রটোকল ছাড়া যানজটে আটকে থাকা-এসবই শহীদ জিয়ার আদর্শকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

শহীদ জিয়ার আদর্শের সবচেয়ে বড় স্তম্ভ ছিল সততা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। জিয়াউর রহমানের তিরোধানের পর দুর্নীতিবিরোধী রাষ্ট্রনায়কের অভাব তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। তারেক রহমানের ভিতরে জিয়ার প্রতিচ্ছবি দেখে সাধারণ জনগণ আশান্বিত। সাধারণ মানুষ চায় একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ। যেখানে পদে পদে ঘুষ বাণিজ্য হবে না। যে দেশে নাগরিকদের চাঁদাবাজদের ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হবে না। সরকারি কাজের জন্য হয়রানির শিকার হতে হবে না।

শহীদ জিয়ার মৃত্যুর পর, গত ৪৫ বছরে বাংলাদেশে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। এখন রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি। এখানে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা থেকে শুরু করে পিয়ন চাপরাশি পর্যন্ত উপরি চায়। থানার ওসি থেকে শুরু করে সরকারের বড় কর্তা প্রায় সবাই ঘুষে কাঙাল। এখানে চাকরি পেতে ঘুষ লাগে। পদোন্নতির জন্য ঘুষ দিতে হয়। ভালো পোস্টিংয়ের রীতিমতো নিলাম হয়। সাব-রেজিস্ট্রারদের ভালো জায়গায় পদায়নের জন্য ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়। ভালো থানার ওসি পদে নিয়োগ পেতে ঘুষের অঙ্ক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়। গণপূর্ত বিভাগ, স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগ, পিডিবির মতো সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ভালো জায়গায় প্রকৌশলীদের পদায়নের জন্য নির্ধারিত অঙ্কের টাকা নজরানা দিতে হয়। আগে থেকেই এসব পদের বিপরীতে ঘুষ লেনদেন ছিল ওপেন সিক্রেট। কিন্তু অন্তর্র্বর্তী সরকারের আমলে এই পদায়ন বাণিজ্য মহামারির আকার ধারণ করেছে। ঘুষের রেট দ্বিগুণ হয়েছে। অন্তর্র্বর্তী সরকারের এক ছাত্র উপদেষ্টা ঘুষ বাণিজ্যের নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। প্রধান প্রকৌশলী, ওয়াসার এমডি, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক পদে নিয়োগ দিতেও নেওয়া হয়েছে কোটি কোটি টাকার উৎকোচ। সচিব পদে নিয়োগ থেকে জেলা প্রশাসকের পদায়নে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে গণমাধ্যমে। দুর্নীতি ক্যানসারের মতো বিস্তার লাভ করেছে সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে। গণমাধ্যমে এখন প্রতিদিন অন্তর্র্বর্তী সরকারের বিভিন্ন উপদেষ্টার দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ফলাও করে প্রকাশিত হচ্ছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে শত শত অভিযোগ আসছে সাবেক উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে। ২০০৭ সালের এক-এগারোর সরকার যেমন দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটিয়েছিল। বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিয়েছিল ১০ বছর, ঠিক তেমনি সুশীল সমাজের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত অন্তর্র্বর্তী সরকার বাংলাদেশকে লুটপাটের এক স্বর্গরাজ্য বানিয়ে ফেলেছিল। পিআইবি কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর সর্বোচ্চ পদে দুর্নীতিবাজদের বসিয়ে যথেচ্ছ লুটপাটের লাইসেন্স দিয়েছিল বিগত অন্তর্র্বর্তী সরকার।

একজন ব্যক্তি যখন ঘুষ দিয়ে কোন চেয়ারে বসে, তখন প্রধান লক্ষ্য হয় দুর্নীতি করে টাকা আত্মসাৎ। প্রথমে সে ঘুষের টাকা ওঠায়, তারপর তিনি নিজের পকেট ভারী করেন। অনেকেই মনে করেন, অন্তর্র্বর্তী সরকারের দেড় বছরে দেশে যে পরিমাণ দুর্নীতি এবং ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে, তা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে এক ধ্বংসস্তূপের মধ্যে। দেশে এক লুটপাটের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল গত দেড় বছর। সেখান থেকে রাষ্ট্র পুনরুদ্ধারের জন্য সরকারের প্রথম কাজ হলো, দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতির কঠোর প্রয়োগ।

বাংলাদেশে যদি শুধু দুর্নীতি বন্ধ হয় তাহলেই দেশের ৯০ শতাংশ সমস্যার সমাধান সম্ভব। দুর্নীতি বন্ধ করতে পারলেই দেশের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন সম্ভব। সরকারের বিভিন্ন সেবা প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের পদায়নে যদি অবৈধ লেনদেন বন্ধ করা যায়, তাহলেই জনগণের হয়রানি দূর করা সম্ভব। আর এটা করতে হলে শহীদ জিয়ার আদর্শ অনুসরণ করতে হবে সরকারের কর্মকাণ্ডে। জিয়া নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পেরেছিলেন বলেই তাঁর সরকার দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিল। তাই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার প্রথম কাজ হবে দুর্নীতিকে না বলা। নিয়োগ বাণিজ্য, পদায়ন বাণিজ্য, তদবির বাণিজ্য, টেন্ডার বাণিজ্য এবং উন্নয়ন প্রকল্পে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে পারলেই দুর্নীতি দমন করা যাবে। যেটি শহীদ জিয়া তাঁর শাসনকালে করে দেখিয়েছেন।

১৬ মার্চ খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে শহীদ জিয়া যেন আবার ফিরে এসেছেন এই বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী যদি তাঁর আদর্শবান পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুর্নীতির বিরুদ্ধে অনমনীয় অবস্থান গ্রহণ করেন, তাহলেই বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। এ দেশের জনগণ রাষ্ট্র পরিচালনায় তারেক রহমানের মধ্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের প্রকাশ দেখতে চায়। খাল কাটার মতো দুর্নীতির বিরুদ্ধে যুদ্ধে শহীদ জিয়াই হোক তারেক রহমানের পথপ্রদর্শক।

জাতীয়

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন। ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত […]

হাদি হ/ত্যা/য় জড়িত প্রত্যেকের নাম উন্মোচন করে দেবো : ডিএমপি কমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ০১:৩৬

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) রাতে রাজধানীর শাহবাগে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচিতে উপস্থিত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, এই হত্যাকাণ্ড একটি রহস্যজনক ঘটনা এবং এর পেছনে একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে শনাক্ত করতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে যারা রয়েছেন, তাদের প্রত্যেকের পরিচয় জনসম্মুখে আনা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি আরও বলেন, হাদিকে গুলির ঘটনায় ব্যবহৃত দুটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে। অস্ত্রগুলো বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার জন্য সিআইডি-তে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ডিবি পুলিশ উদ্ধার করেছে।

হত্যাকাণ্ডে বিপুল অর্থ ব্যয়ের বিষয়টি উল্লেখ করে ডিএমপি কমিশনার জানান, তদন্তে ২১৮ কোটি টাকার সই করা একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে, যা ঘটনার অর্থনৈতিক যোগসূত্র বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।

তিনি বলেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে, অর্থাৎ ৭ জানুয়ারির মধ্যেই এ মামলার চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

এ সময় তথ্য ও সম্প্রচার; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

হাদির হত্যার বিচার দাবিতে শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে ইনকিলাব মঞ্চ। এর আগে শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চ ও জুলাই মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেন। অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এতে সমাজের নানা স্তরের মানুষের অংশগ্রহণ দেখা যায়।

জাতীয়

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা […]

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

বেরিয়ে এলো ওসমান হাদি হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য

নিউজ ডেস্ক

২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১০:০৭

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি হত্যার মাস্টারমাইন্ডের নাম সামনে এসেছে। হত্যার নেপথ্যে ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ ওরফে ‘শাহীন চেয়ারম্যান’র নাম উঠে এসেছে।

গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, কিলিং মিশন বাস্তবায়নে অর্থ এবং অস্ত্রের জোগানদাতা ছিলেন তিনি নিজেই। এছাড়া চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডে শাহীন চেয়ারম্যানের সহযোগী হিসাবে আরও কয়েকজনের যোগসূত্রতা জানতে পেরেছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা। যাদের কয়েকজন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতা। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা সংস্থার দায়িত্বশীল একটি সূত্র।

সূত্র জানায়, শাহীন চেয়ারম্যান ছাড়াও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আব্দুল হামিদকে হন্যে হয়ে খুঁজছে পুলিশ। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী হাদির ওপর হামলার পর ঘাতকদের ঢাকা থেকে সীমান্ত পর্যন্ত পালিয়ে যেতে সহায়তা করেন এই হামিদ। জুলাই বিপ্লবে শরিফ ওসমান হাদির ভূমিকা এবং গত বছর ৫ আগস্টের পর থেকে তার বিভিন্ন বক্তব্য ও সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ চরম ক্ষুব্ধ ছিল। দলটি হাদিকে আওয়ামী লীগ এবং তাদের দোসরদের জন্য বড় বিপদ হিসাবে চিহ্নিত করে। এরপর হিটলিস্টের প্রথম টার্গেট হিসাবে হাদিকে হত্যার ছক কষা হয়।

জানা যায়, শাহীন আহমেদ দীর্ঘদিন ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ছিলেন। তবে তিনি মাফিয়া ডন হিসাবেই বেশি পরিচিত। শেখ হাসিনা আমলে তিনি ছিলেন সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ডানহাত। চিহ্নিত সন্ত্রাসী এবং অস্ত্রধারী হিসাবে তার নাম পুলিশের খাতায় অনেক আগে থেকে তালিকাভুক্ত ছিল। বহুবিধ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকলেও তিনি ছিলেন ধরাছোঁয়ার বাইরে। বরং প্রশাসন তাকে সমীহ করে চলত। এসব প্রভাব প্রতিপত্তি কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

স্থানীয়রা জানান, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকের মতো শাহীন চেয়ারম্যানও সীমান্ত পার হয়ে ভারতে চলে যেতে সক্ষম হন। সেখানে পলাতক অবস্থায় তিনি দীর্ঘদিন চুপচাপ থাকলেও গত ৩-৪ মাস থেকে খোলস ছেড়ে পুরোনো চেহারায় আবির্ভূত হন। সম্প্রতি তিনি দেশের মধ্যে আওয়ামী লীগের হিটলিস্ট প্ল্যান বাস্তবায়ন করতে বিভিন্ন অ্যাপসে মুঠোফোনে দেশে থাকা স্লিপার সেলের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন।


আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি হোয়াটসঅ্যাপ কল এবং খুদেবার্তার (এসএমএস) সূত্রে হাদি হত্যায় শাহীন চেয়ারম্যানের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। ঘটনার আগে ও পরে কিলারদের সঙ্গে পলাতক ছাত্রলীগ নেতা হামিদের একাধিকবার যোগাযোগ করার প্রমাণও মিলেছে। এছাড়া ভারতে পলাতক থাকা আরও কয়েকটি গ্রুপ অ্যাপস ব্যবহার করে ঢাকায় জড়ো স্লিপার সেলের সদস্যদের কাজ সমন্বয় করছে। যাদের অনেকে এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারির মধ্যে চলে এসেছে। কানের ডাক্তার তাহের পপুলার

সূত্র বলছে, হাদি হত্যা মামলার তদন্তে সন্দেহভাজনের তালিকায় কয়েকজন রাজনীতিকের নামও উঠে এসেছে। এ বিষয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এজন্য গ্রেফতারকৃত আসামিদের তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থার টিমসহ যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এছাড়া পলাতক শাহীন চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠ হিসাবে পরিচিত কেরানীগঞ্জ জেলার দুজন ছাত্রলীগ নেতাকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্ত প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে বলেন, ‘আমরা সবদিক মাথায় রেখে তদন্ত করছি। সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করা হচ্ছে। আশা করি খুব শিগগিরই এ ঘটনার মাস্টারমাইন্ডসহ পরিকল্পনাকারীদের সবার নামই জানা সম্ভব হবে।’

জাতীয়

তারেক রহমানের ফেরার দিন উপলক্ষে মা‌র্কিন দূতাবাসের জরুরি নির্দেশনা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন—এ তথ্য বিএনপি এবং তারেক রহমান নিজেই নিশ্চিত করেছেন। তাকে স্বাগত জানাতে দলটির পক্ষ থেকে বড় পরিসরে কর্মসূচির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। রোববার (২১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, গণমাধ্যমের তথ্য […]

নিউজ ডেস্ক

২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৯:৪২

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন—এ তথ্য বিএনপি এবং তারেক রহমান নিজেই নিশ্চিত করেছেন। তাকে স্বাগত জানাতে দলটির পক্ষ থেকে বড় পরিসরে কর্মসূচির প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

এই প্রেক্ষাপটে ঢাকায় অবস্থানরত মার্কিন নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সংক্রান্ত সতর্কতা জারি করেছে ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। রোববার (২১ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক বার্তায় দূতাবাস জানায়, গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী ২৫ ডিসেম্বর সকাল ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে পূর্বাচল এক্সপ্রেসওয়ে (৩০০ ফিট সড়ক) এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গুলশানমুখী সড়কগুলোতে বিএনপির বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

দূতাবাসের বার্তায় বলা হয়, এই কর্মসূচি তারেক রহমানের দেশে প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজন করা হচ্ছে। এ কারণে ওই এলাকায় তীব্র যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। সেদিন ঢাকা শহর বা আশপাশে যাদের ভ্রমণের পরিকল্পনা আছে, তাদের অতিরিক্ত সময় হাতে নিয়ে বের হওয়ার এবং বিকল্প সড়ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যাত্রীদের তাদের বিমান টিকিট ও ভ্রমণসংক্রান্ত কাগজপত্র সঙ্গে রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে পুলিশ চেকপয়েন্টে এসব নথি প্রদর্শনের জন্য প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে।