বাহরাইনে ইরানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক বাংলাদেশি নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিকট গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন বাহরাইনের রাজা হামাদ বিন ইসা আল খলিফা।
সোমবার (২ মার্চ) দিবাগত রাতে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. আব্দুললতিফ বিন রশিদ আল জায়ানি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে টেলিফোন করে রাজার পক্ষ থেকে এই শোকবার্তা পৌঁছে দেন।
টেলিফোনে আলাপকালে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওই বাংলাদেশি প্রবাসীর মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন এবং এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় বাহরাইন সরকারের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করেন।
আলাপকালে বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার দেশের রাজার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, বাহরাইন সরকার সেখানে বসবাসরত সকল বাংলাদেশি নাগরিকের জানমালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। বর্তমানে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের কল্যাণ নিশ্চিতে বাহরাইন সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় সকল জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই সংকটাপন্ন সময়ে বাহরাইন সরকারের দায়িত্বশীল ভূমিকা ও প্রবাসীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
এর আগে গত সোমবার বিকেলেও দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে আলাপ হয়েছিল, যেখানে বাহরাইনের সামগ্রিক পরিস্থিতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার জেরে ইরানের ছোড়া মিসাইলের ধ্বংসাবশেষ বাহরাইনের জনবহুল এলাকায় আছড়ে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনার পর থেকেই বাহরাইনে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে এক ধরনের উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়লেও দেশটির উচ্চপর্যায় থেকে নিরাপত্তার আশ্বাস আসায় তা কিছুটা প্রশমিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও বাহরাইনের মধ্যকার এই কূটনৈতিক যোগাযোগ প্রমাণ করে যে, সংকটময় মুহূর্তে দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার প্রবাসীদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়ে বাহরাইন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে।
বাহরাইন সরকার নিহত বাংলাদেশি নাগরিকের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানো এবং তার পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদানেও সহযোগিতা করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বর্তমানে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনার পরবর্তী প্রক্রিয়াগুলো সমন্বয় করছে।