‘শপথের প্রয়োজন নেই, সংসদে বসা মাত্রই হ্যাঁ কার্যকর হবে’—এমন মন্তব্য করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী। সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে যোগ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব কার্যকর হয়ে যায়। আলাদা করে আনুষ্ঠানিকতার ওপর নির্ভর না করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণই হওয়া উচিত প্রধান লক্ষ্য।
মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও রাষ্ট্রগঠনের প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার কোনো সুযোগ নেই। সংসদ কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণের মধ্য দিয়েই আইন প্রণয়ন, নীতিনির্ধারণ ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণ যে আস্থা রেখে প্রতিনিধি নির্বাচন করেছেন, তা দ্রুত কাজে লাগানোই দায়িত্বশীলতার পরিচয়।
এ সময় তিনি শহীদ বেদিতে বিশৃঙ্খলা বা ‘মব’ সৃষ্টির বিষয়ে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করবে এবং বাংলাদেশ গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তারা দেশ ও জাতির শত্রু হিসেবে বিবেচিত হবে। জাতীয় স্মৃতিচিহ্ন ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর স্থানে কোনো ধরনের অরাজকতা সহ্য করা হবে না বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, গণতন্ত্র মানে শৃঙ্খলা, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ। মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু তা প্রকাশের ক্ষেত্র হতে হবে সাংবিধানিক ও শান্তিপূর্ণ। রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান বা স্মৃতিসৌধে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভুল বার্তা দেয়।
তিনি সবাইকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হলে রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ নাগরিকদের দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। জাতীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলাই হতে পারে অগ্রগতির মূল ভিত্তি।