শুধুমাত্র বাচ্চার বাবা হওয়া পুরুষত্বের লক্ষণ নয়। প্রকৃত পুরুষত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো আত্মমর্যাদাবোধ, সম্মানবোধ এবং নৈতিক দৃঢ়তা। এক জন প্রকৃত পুরুষ শুধু নিজের স্বার্থ দেখবে না; বরং নিজের পরিবার, সমাজ এবং ধর্মের প্রতি দায়বদ্ধ থাকবে।
সমাজের বর্তমান অবস্থা
আজকের সমাজে নৈতিকতা ও শালীনতার অবক্ষয় ভয়ানক পর্যায়ে পৌঁছেছে। হিজাব পরিধান করে ফেসবুকে ছবি আপলোড করা, রাস্তাঘাটে বা বাসের সিটে বসে নির্লজ্জভাবে রোমান্টিকতার চর্চা করা, নিজেদেরকে সোশ্যাল এবং আধুনিক বলে আত্মপ্রসাদ লাভ করা এসব কি সত্যিকারের স্মার্টনেস? নাকি এক ধরনের আত্মবিভ্রান্তি?
স্মার্টনেস নাকি আত্মবিনাশ?
বর্তমান সমাজের কিছু মানুষ মনে করে, আধুনিকতা মানেই সামাজিক মূল্যবোধের অবনতি, আত্মসম্মানবোধের বিসর্জন। সন্তানদেরকে সঠিক পথে পরিচালিত না করে, তারা যদি ভোগবিলাসে মত্ত হয়, তাহলে সেটাই কি উন্নতি? একজন নারীর লজ্জাশীলতা ও মর্যাদাবোধ কমে গেলে, সেটাই কি আধুনিকতা? সেটাতো কখনো হতে পারে না ।
আত্মমর্যাদাবোধের অভাব ও পুরুষত্বের সংকট
একজন প্রকৃত পুরুষ কখনও তার স্ত্রী, বোন বা কন্যাকে অন্য পুরুষের সাথে হাসি-ঠাট্টা করতে দেখে নির্লিপ্ত থাকতে পারে না। এটা তার জন্য মৃত্যুর চেয়েও কঠিন হওয়া উচিত। আজ আমরা দেখি, কিছু মানুষ এসবকে গর্বের বিষয় মনে করে। তারা ভাবে, এগুলো আধুনিকতা, উন্নতি ও স্বাধীনতার প্রতীক। কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা এবং সম্মান কোথায়? যদি একজন নারীর পবিত্রতা ও মর্যাদাবোধ হারিয়ে যায়, তাহলে সেটাই কি সত্যিকারের উন্নতি? সেটাতো কখনো হতে পারে না ।
ইসলাম ও নারীর মর্যাদা
ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। তবে তা কোনও ফ্যাশনের জন্য নয়, বরং আত্মমর্যাদা ও সংযমের জন্য। একজন নারী যদি সত্যিকার অর্থে হিজাব পরিধান করে, তবে তা শুধুমাত্র বাহ্যিক সাজ নয়, বরং এটি তার চরিত্র, সততা এবং আত্মসম্মানের প্রতীক হওয়া উচিত।
এই আধুনিক যুগে মুসলিমদের অবস্থা
আমরা নিজেদেরকে প্রাকটিসিং মুসলিম বলে দাবি করি, কিন্তু বাস্তবে আমাদের কাজকর্ম ও চিন্তাভাবনা কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে? রাস্তার মোড়ে, পার্কে, শপিং মলে—সবখানে নির্লজ্জতার প্রদর্শনী চলছে। অথচ একসময় মুসলিমদের সমাজে নারীদের শালীনতা ও পুরুষদের আত্মমর্যাদাবোধ ছিল অত্যন্ত দৃঢ়। আজ আমরা কোথায় হারিয়ে যাচ্ছি?
আত্মমর্যাদাবোধ এবং শালীনতা রক্ষার জন্য পুরুষদের উচিত নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করা। একজন প্রকৃত পুরুষ তার পরিবারকে সঠিক পথে পরিচালিত করবে, নিজের স্ত্রী, কন্যা ও বোনকে সঠিক মূল্যবোধ শিক্ষা দেবে। সামাজিক অবক্ষয়ের এই অন্ধকার সময়ে আমাদেরও উচিত নিজেদের সংশোধন করা এবং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি নৈতিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ গড়ে তোলা।
আমাদের ভাবা উচিত আমরা সত্যিকারের উন্নতির দিকে যাচ্ছি, নাকি ধ্বংসের দিকে?