শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

প্রতিবন্ধীদের প্রসঙ্গে ইসলাম কী বলে ?

প্রতিবন্ধী বলতে আমরা বুঝি, সেই সব মানুষ যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ বা অঙ্গহানির কারণে কোনো দেহের অংশ বা তন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, তা ক্ষণস্থায়ী বা চিরস্থায়ী হতে পারে। কিন্তু, ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবন্ধীও আল্লাহর এক অসীম সৃষ্টি, যাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ দয়া ও রহমত রয়েছে। ইসলামে প্রতিবন্ধীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিইসলাম প্রতিবন্ধীদের প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তা […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ জানুয়ারী ২০২৫, ১৮:৫৮

প্রতিবন্ধী বলতে আমরা বুঝি, সেই সব মানুষ যারা শারীরিকভাবে অসুস্থ বা অঙ্গহানির কারণে কোনো দেহের অংশ বা তন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, তা ক্ষণস্থায়ী বা চিরস্থায়ী হতে পারে। কিন্তু, ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিবন্ধীও আল্লাহর এক অসীম সৃষ্টি, যাদের প্রতি আল্লাহর বিশেষ দয়া ও রহমত রয়েছে।

ইসলামে প্রতিবন্ধীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি
ইসলাম প্রতিবন্ধীদের প্রতি যে দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে তা পাশ্চাত্য চিন্তার তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে তাদের প্রতি সহানুভূতি, ভালোবাসা এবং সাহায্য প্রদান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তায়ালা আমাদের জানান, এই পৃথিবীতে আল্লাহর একচ্ছত্র ক্ষমতা রয়েছে, তিনি যেমন সুস্থ-সবল মানুষ তৈরি করেছেন, তেমনি প্রতিবন্ধীদেরও সৃষ্টি করেছেন। তাদের দুঃখ-কষ্টের মাধ্যমে আল্লাহ তার সন্তুষ্টি, ক্ষমা ও জান্নাতের অফার করেন।

হাদিসে কুদসিতে এসেছে, নবী সা. বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি তার দুই প্রিয় চোখ হারায়, তবে সে ধৈর্য ধারণ করে এবং আল্লাহর কাছে নেকির আশা রাখে, আল্লাহ তাকে জান্নাত ছাড়া কিছুতেই সন্তুষ্ট হবেন না।’ (তিরমিজি শরিফদ, হাদিস : ২৪০১)

প্রতিবন্ধীদের সহায়তা
ইসলামের মধ্যে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতির পরিপূরক বিধান রয়েছে। হাদিসে উল্লেখ আছে, আল্লাহ দয়ালুদের প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করেন। ইসলামে প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ সুবিধা ও সহানুভূতি প্রদান করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, নবী সা. বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে, ঘুমন্ত ব্যক্তি, যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ যতক্ষণ না সে বালেগ হয়, এবং পাগল যতক্ষণ না সে সুস্থ হয়।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস : ২০৪১)

ইসলামের ইতিহাসে প্রতিবন্ধীদেরও বহু সম্মানিত স্থান রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, আবদুল্লাহ ইবনে মাকতুম রা. যিনি অন্ধ ছিলেন, তাকে নবী সা. ১৪ বার মদিনায় দায়িত্ব দিয়েছেন। এছাড়া, মুয়াজ বিন জাবাল রা. পঙ্গু হয়েও ইয়েমেনের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. শেষ জীবনে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েও। তারপরও তিনি কুরআনের শ্রেষ্ঠ ভাষ্যকার ও সমকালের শ্রেষ্ঠ হাদিসবিশারদের মর্যাদা অর্জন করেন।

দয়া ও সহানুভূতির গুরুত্ব
ইসলামে দয়া ও সহানুভূতি এমন এক নীতি যা আমাদের জীবনকে সুন্দর ও সমৃদ্ধ করে।যারা জমিনে বসবাস করছে তাদের প্রতি তোমরা দয়া করো, তাহলে যিনি আকাশে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন। যে ব্যক্তি দয়ার সম্পর্ক বজায় রাখে, আল্লাহও তার সঙ্গে নিজ সম্পর্ক বজায় রাখেন। যে ব্যক্তি দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করে, আল্লাহও তার সঙ্গে দয়ার সম্পর্ক ছিন্ন করেন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৯২৪)

ইসলামে কোনো প্রতিবন্ধী বা অক্ষম ব্যক্তি যাতে কোনো অপমান বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য না হয়, তারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে বলেন, ‘তোমরা একে অপরকে মন্দ নামে ডেক না, কারণ মন্দ নাম ঈমানের পর সবচেয়ে নিকৃষ্ট।’ (সুরা: হুজুরাত, আয়াত: ১১)

সবার জন্য সমান অধিকার
ইসলাম একজন মানুষকে তার শারীরিক অবস্থা বা বাহ্যিক চেহারা দ্বারা বিচার করে না। প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহ আমাদের অন্তর ও কাজের উপর নজর দেন। নবী সা. বলেছেন, ‘আল্লাহ তোমাদের চেহারা বা আকার-আকৃতি দেখে না, তিনি তোমাদের অন্তর ও কাজ দেখেন।’ (মুসলিম, হাদিস : ২৫৬৪)

তবে, প্রতিবন্ধী হয়েও অনেক মহান মনীষী ইসলামের ইতিহাসে অসামান্য ভূমিকা পালন করেছেন। যেমন, আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. এবং আতা রহ. যাদের শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও তারা তাদের জ্ঞান ও কর্ম দিয়ে ইসলামের ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন।

ইসলামে প্রতিবন্ধীদের প্রতি সহানুভূতি, সাহায্য ও সেবা প্রদানের গুরুত্ব অসীম। আমাদের উচিত তাদের প্রতি সমান শ্রদ্ধা ও মানবিক আচরণ করা, যাতে আল্লাহ আমাদের প্রতি তার দয়া ও রহমত বর্ষিত করেন।

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।