শত বছর আগে গোয়ালিয়রের এক হিন্দু রাজার অধীনে সৈনিকের চাকরি করত মুসলিম ও হিন্দু সব ধর্মের লোকেরা। রাজার অধীনে সৈনিকরা ধর্মীয় ব্যাপারে পুরোপুরি স্বাধীন ছিল, আর তার আদেশ-নিষেধের বিষয় ছিল না। তাদের মধ্যে কেউ দাড়ি রাখত, কেউ আবার রাখত না। ধর্মীয় চর্চায় সবার নিজস্ব স্বাধীনতা ছিল।
এক মুসলিম সৈনিক তার দাড়ি কামিয়ে ফেলেছি। তখন অন্য কিছু মুসলিম সৈনিক যারা দাড়ি রাখত, তাকে জিজ্ঞেস করল, তুমি কেন দাড়ি কামিয়ে ফেললে? সে উত্তর দিল, ভাই, আমি গোনাহ করেছি, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা মাফ করবেন আশা করছি।
কিছুদিন পর রাজা এক নতুন নির্দেশ জারি করলেন, যাতে সৈনিকদের কেউ দাড়ি রাখতে না পারে। তখন যারা তাকে দাড়ি না রাখার জন্য গালমন্দ করেছিল, তারা এখন ভয় পেয়ে গিয়ে নিজেদের দাড়ি কামিয়ে ফেলল। তারা মনে করল, এখন নিশ্চয়ই তাদের কথাই সঠিক, এবং বলল, তোমারই জিত হল, এখন থেকে তোমার চাহিদাই পূর্ণ হবে।
তবে দাড়ি কামিয়ে ফেলা সেই সৈনিক মৃদু হেসে তাদের বলল, তোমরা জানো না, এতদিন আমি যে দাড়ি কামিয়েছি, সেটা ছিল আমার নিজের দুর্বলতার কারণে। কিন্তু এখন যখন কাফেরের আদেশে দাড়ি কামানোর নির্দেশ এসেছে, তখন আমি তা মেনে নিতে পারব না।
তারা বলল, তাহলে কি তুমি দাড়ি রাখতে চাও? যদি তাই হয়, তবে সৈনিকদল থেকে তোমাকে বরখাস্ত করা হবে।
সেই সৈনিক দৃঢ়ভাবে উত্তর দিল, আল্লাহ তায়ালা রিযিকদাতা, তিনি যদি ইচ্ছা করেন, আমাকে অন্য কোন পথ দেখাবেন। (ইরশাদাতে হাকীমুল উম্মত রাহ. পৃ. ৭০৪)
এই গল্পটি আমাদের শেখায় ঈমানী শক্তি ও ইসলামি আবেগের মর্ম। এই মুসলিম সৈনিকের আচরণ ছিল এক ধরনের গায়রত, যা তাকে তার ধর্মের প্রতি অটল থাকার প্রেরণা জুগিয়েছিল। আজকের পৃথিবীতে অনেক মুসলমান নিজেদের নতজানু অবস্থানে থাকতে শুরু করেছে, কিন্তু এই গল্পটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ইমান ও ইসলামিক আদর্শের প্রতি সততা থাকা উচিত, এবং কখনোই নিজের ধর্মীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া উচিত নয়।
এটা আমাদের জানায় যে, ঈমানী শক্তি ও ইসলামি মূল্যবোধ আমাদের দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার।