মানুষের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের স্বভাব ও গুণ রয়েছে, তবে ইসলামের দৃষ্টিতে কিছু গুণ রয়েছে যা অত্যন্ত পছন্দনীয় ও প্রশংসনীয়। এই গুণগুলো মানুষের চরিত্রকে সুন্দর ও পরিশীলিত করে। তবে এগুলো খুব কম মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়। সেই চারটি পছন্দনীয় গুণ কী তা আজ আমরা জানবো । ইনশাআল্লাহ ।
১. আল্লাহর ভয় (তাকওয়া)
আল্লাহ তাআলার ভয় বা ‘তাকওয়া’ একজন মুমিনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। মুমিনের অন্তরে আল্লাহর ভয় থাকা ঈমানের অন্যতম একটি অংশ। আল্লাহর ভয়ই তাকে দুনিয়ার সব অন্যায়, অবিচার, জুলুম ও নির্যাতন থেকে দূরে রাখে। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوا اتَّقُوا اللّٰہَ حَقَّ تُقٰتِہٖ وَلَا تَمُوۡتُنَّ اِلَّا وَاَنۡتُمۡ مُّسۡلِمُوۡنَ
হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে সেইভাবে ভয় করো, যেভাবে তাঁকে ভয় করা উচিত। সাবধান, যেন তোমরা মৃত্যুর সময় মুসলিম অবস্থায় থাকো। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১০২)
এছাড়াও আল্লাহ তায়ালা অপর আয়াতে বলেছেন, اِنَّمَا ذٰلِکُمُ الشَّیۡطٰنُ یُخَوِّفُ اَوۡلِیَآءَہٗ ۪ فَلَا تَخَافُوۡہُمۡ وَخَافُوۡنِ اِنۡ کُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِیۡنَ
যে শয়তান তার বন্ধুদের ভয় দেখায়, তোমরা তাদের ভয় কোরো না; বরং কেবল আমাকেই ভয় করো। (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৭৫)
২. মধ্যপন্থা গ্রহণ
মধ্যপন্থা গ্রহণ করা একজন মুমিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ। মধ্যপন্থা মানে হলো, পরিমিতি বজায় রাখা এবং সবকিছুতে এক ধরনের নিরপেক্ষতা বা সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করা। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে এ উম্মতের বৈশিষ্ট্য হিসেবে মধ্যপন্থা সম্পর্কে বলেছেন,وَکَذٰلِکَ جَعَلۡنٰکُمۡ اُمَّۃً وَّسَطًا لِّتَکُوۡنُوۡا شُہَدَآءَ عَلَی النَّاسِ وَیَکُوۡنَ الرَّسُوۡلُ عَلَیۡکُمۡ شَہِیۡدًا
এভাবেই আমি তোমাদেরকে এক মধ্যপন্থী উম্মত বানিয়েছি, যাতে তোমরা অন্যান্য লোকদের সাক্ষী হও এবং রাসুল তোমাদের জন্য সাক্ষী হন। (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৪৩)
রসুলুল্লাহ সা. ইরশাদ করেন, إِنَّ الدِّينَ يُسْرٌ وَلَنْ يُشَادَّ الدِّينَ أَحَدٌ إِلَّا غَلَبَهُ فَسَدِّدُوا وَقَارِبُوا وَأَبْشِرُوا وَاسْتَعِينُوا بِالْغَدْوَةِ وَالرَّوْحَةِ وَشَيْءٍ مِنَ الدُّلْجَةُّ
নিশ্চয়ই দ্বীন সহজ। দ্বীন নিয়ে যে বাড়াবাড়ি করে দ্বীন তার উপর জয়ী হয়। কাজেই তোমরা আমলে মধ্যপন্থা অবলম্বন করো, বাড়াবাড়ি কোরো না। সকাল-সন্ধ্যায় (ইবাদতের জন্য) বের হয়ে পড়ো এবং রাতে কিছু অংশেও ইবাদত করো। তাহলে অবশ্যই গন্তব্যে পৌঁছতে পারবে। (বুখারি, হাদিস : ৬৪৬৩)
৩. ইনসাফ করা
ইনসাফ বা ন্যায়বিচার করা ইসলামে অত্যন্ত প্রশংসনীয় একটি গুণ। সব সময়, এমনকি শত্রু বা অমুখী পরিস্থিতিতেও ন্যায়-অন্যায় বিষয়ে সত্যের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একটি মহান গুণ।
পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,اِنَّ اللّٰہَ یَاۡمُرُ بِالۡعَدۡلِ وَالۡاِحۡسَانِ وَاِیۡتَآیِٔ ذِی الۡقُرۡبٰی وَیَنۡہٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ وَالۡبَغۡیِ ۚ
আল্লাহ তায়ালা ইনসাফ, দয়া এবং আত্মীয়-স্বজনকে হক প্রদান করার আদেশ দেন, আর অশ্লীলতা, মন্দ কাজ এবং জুলুম থেকে নিষেধ করেন। (সুরা নাহল, আয়াত : ৯০)
আরেকটি আয়াতে বলা হয়েছে ,یٰۤاَیُّہَا الَّذِیۡنَ اٰمَنُوۡا کُوۡنُوۡا قَوّٰمِیۡنَ لِلّٰہِ شُہَدَآءَ بِالۡقِسۡطِ ۫ وَلَا یَجۡرِمَنَّکُمۡ شَنَاٰنُ قَوۡمٍ عَلٰۤی اَلَّا تَعۡدِلُوۡا ؕ اِعۡدِلُوۡا ۟ ہ
হে মুমিনগণ! তোমরা ইনসাফের সঙ্গে সাক্ষ্য দাও এবং কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদের ইনসাফ পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। (সুরা মায়িদা, আয়াত : ৮)
৪. আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা
সচ্ছলতা বা অসচ্ছলতা, আনন্দ বা দুঃখ, সর্বাবস্থায় আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করা একটি প্রশংসনীয় গুণ। সাধারণত মানুষ আনন্দের সময় আল্লাহর প্রশংসা করে, কিন্তু দুঃখ বা কষ্টের সময় অনেকেই আল্লাহকে ভুলে যান। তবে আল্লাহর প্রকৃত বান্দারা সব সময় আল্লাহ তায়ালার গুণগান করেন।
যেমন, পবিত্র কুরআনে হজরত নুহ আ.-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে,فَاِذَا اسۡتَوَیۡتَ اَنۡتَ وَ مَنۡ مَّعَكَ عَلَی الۡفُلۡكِ فَقُلِ الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِیۡ نَجّٰنَا مِنَ الۡقَوۡمِ الظّٰلِمِیۡنَ
তোমরা যখন নৌযানে সুরক্ষিত হয়ে বসবে, তখন বলবে, সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদের জালিম সম্প্রদায় থেকে মুক্তি দিয়েছেন। (সুরা মুমিনুন, আয়াত : ২৮)
এছাড়া দাউদ আ. এবং সোলাইমান আ. সম্পর্কে বলা হয়েছে, وَ لَقَدۡ اٰتَیۡنَا دَاوٗدَ وَ سُلَیۡمٰنَ عِلۡمًا ۚ وَ قَالَا الۡحَمۡدُ لِلّٰهِ الَّذِیۡ فَضَّلَنَا عَلٰی كَثِیۡرٍ مِّنۡ عِبَادِهِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ
সব প্রশংসা আল্লাহর, যিনি আমাদেরকে তাঁর অন্যান্য বান্দার উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়েছেন। (সুরা নামল, আয়াত : ১৫)
এই চারটি গুণ আল্লাহর ভয়, মধ্যপন্থা গ্রহণ, ইনসাফ করা এবং আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করাএকটি মুমিনের চরিত্রের অন্যতম মূল ভিত্তি। আল্লাহ তাআলা সবাইকে এসব গুণ অর্জনের তাওফিক দান করুন। আমিন।