নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত, যা প্রতিদিন একজন মুমিনকে আদায় করতে হয়। এটা এমন এক ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অধিকাংশ মুসলমান এই ফরজ ইবাদতের প্রতি উদাসীন থাকে। আজকের আলোচনায় আমরা এই উদাসীনতার কারণ সম্পর্কে জানবো। ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের জন্য নামাজ
আমরা ইবাদত করলে আল্লাহ তায়ালার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করা হয় না। বরং তার অনুগ্রহ পেতে আমাদের ইবাদত করতে হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা যদি আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ পেতে চাই, তাহলে নামাজ পড়তে হবে। অনেকে মনে করেন, তারা মুসলিম হয়ে আল্লাহর রসুলের প্রতি অনুগ্রহ করেছে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, قُلۡ لَّا تَمُنُّوۡا عَلَیَّ اِسۡلَامَکُمۡ ۚ بَلِ اللّٰہُ یَمُنُّ عَلَیۡکُمۡ اَنۡ ہَدٰىکُمۡ لِلۡاِیۡمَانِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ
তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছো বলে মনে করো না; বরং আল্লাহ তোমাদেরকে ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সুরা হুজরাত ১৭)
এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ইসলাম গ্রহণ করা ও নামাজ আদায় করা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ লাভের একটি উপায়। তাই, যদি আমরা আল্লাহর দয়া ও ভালোবাসা পেতে চাই, তাহলে নামাজ পড়া অত্যন্ত জরুরি।
নামাজ না পড়ার কারণ
নামাজ না পড়ার প্রধানত দুইটি কারণ রয়েছে: বিশ্বাসের দুর্বলতা এবং চিন্তাগত সমস্যা। আর আজ আমরা এই বিষয় দুটি সম্পর্কে জানবো।
১. সত্য গ্রহণ না করা
যদি কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ার প্রতি ইচ্ছা না অনুভব করে, তাহলে বুঝতে হবে যে সে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের সত্যতা এখনো পুরোপুরি গ্রহণ করেনি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে কিছু মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যাদের চেহারা বিবর্ণ হবে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, فَلَا صَدَّقَ وَ لَا صَلّٰی
সে সত্য বলে মানেনি এবং নামাজ পড়েনি। (সুরা কিয়ামাহ ৩১)
এ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে যে, যেহেতু সে আল্লাহ তায়ালাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি, তাই সে নামাজ পড়েনি। মুসলমানদের মধ্যে যদি কাউকে নামাজে উদাসীন দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে তার ঈমানে দুর্বলতা রয়েছে এবং সে আল্লাহ তায়াকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না।
২. নামাজ না পড়ার পরিণতি নিয়ে ভাবনা
মুসলমানদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা রয়েছে যে, তারা নামাজ পড়ে শুধু জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য, আল্লাহ তায়ালার রাগ ও ক্ষোভ থেকে মুক্তি ও কিয়ামত দিবসের জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা পেতে। তবে প্রকৃতপক্ষে, নামাজ পড়তে হবে শুধু নেতিবাচক বিষয়গুলো থেকে বাঁচার জন্য নয়; বরং নামাজের মাধ্যমে আমরা যে উপকারিতা লাভ করি, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে।
আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যখন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকেই মানুষের এবং আল্লাহ তায়ালার মাঝে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেই সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পৃথিবী ও আকাশ একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা চিরকাল থাকবেন। তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এছাড়া, নামাজের আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। তা গুনাহ মাফ করে, অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে রক্ষা করে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡہٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ ؕ وَلَذِکۡرُ اللّٰہِ اَکۡبَرُ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تَصۡنَعُوۡنَ
নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা জানেন।(সুরা আনকাবুত ৪৫)
নবীজি সা. ও তার সাহাবিরা নামাজের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তাদের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি, নামাজ শুধুমাত্র একটি ফরজ ইবাদত নয়, এটা একটি আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক শক্তি, যা জীবনের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে। তাদের নামাজের প্রতি যত্নশীলতার কারণে তারা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানিত হয়েছিলেন।
নামাজ প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। যারা নামাজের প্রতি উদাসীন থাকে, তাদের ঈমানের দুর্বল হতে পারে। তাই আমাদের উচিত, নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং নবীজি সা. ও সাহাবিদের পথ অনুসরণ করে আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করা।
আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ও নিয়মিত নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।