শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

কেন মানুষ নামাজ আদায়ে উদাসীন?

নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত, যা প্রতিদিন একজন মুমিনকে আদায় করতে হয়। এটা এমন এক ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অধিকাংশ মুসলমান এই ফরজ ইবাদতের প্রতি উদাসীন থাকে। আজকের আলোচনায় আমরা এই উদাসীনতার কারণ সম্পর্কে জানবো। ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের […]

নিউজ ডেস্ক

০২ জানুয়ারী ২০২৫, ২১:২০

নামাজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত, যা প্রতিদিন একজন মুমিনকে আদায় করতে হয়। এটা এমন এক ইবাদত, যার মাধ্যমে একজন মুসলমান আল্লাহ তায়ালার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে। কিন্তু, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, অধিকাংশ মুসলমান এই ফরজ ইবাদতের প্রতি উদাসীন থাকে। আজকের আলোচনায় আমরা এই উদাসীনতার কারণ সম্পর্কে জানবো। ইনশাআল্লাহ।

আল্লাহর অনুগ্রহ লাভের জন্য নামাজ

আমরা ইবাদত করলে আল্লাহ তায়ালার প্রতি কোনো অনুগ্রহ করা হয় না। বরং তার অনুগ্রহ পেতে আমাদের ইবাদত করতে হয়। সেই জায়গা থেকে আমরা যদি আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ পেতে চাই, তাহলে নামাজ পড়তে হবে। অনেকে মনে করেন, তারা মুসলিম হয়ে আল্লাহর রসুলের প্রতি অনুগ্রহ করেছে। তাদের ব্যাপারে আল্লাহ তায়ালা বলেন, قُلۡ لَّا تَمُنُّوۡا عَلَیَّ اِسۡلَامَکُمۡ ۚ بَلِ اللّٰہُ یَمُنُّ عَلَیۡکُمۡ اَنۡ ہَدٰىکُمۡ لِلۡاِیۡمَانِ اِنۡ کُنۡتُمۡ صٰدِقِیۡنَ

তোমরা ইসলাম গ্রহণ করে আমাকে ধন্য করেছো বলে মনে করো না; বরং আল্লাহ তোমাদেরকে ঈমানের দিকে পরিচালিত করে তোমাদেরকে ধন্য করেছেন, যদি তোমরা সত্যবাদী হও। (সুরা হুজরাত ১৭)

এ আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি যে, ইসলাম গ্রহণ করা ও নামাজ আদায় করা আল্লাহর দয়া ও অনুগ্রহ লাভের একটি উপায়। তাই, যদি আমরা আল্লাহর দয়া ও ভালোবাসা পেতে চাই, তাহলে নামাজ পড়া অত্যন্ত জরুরি।

নামাজ না পড়ার কারণ

নামাজ না পড়ার প্রধানত দুইটি কারণ রয়েছে: বিশ্বাসের দুর্বলতা এবং চিন্তাগত সমস্যা। আর আজ আমরা এই বিষয় দুটি সম্পর্কে জানবো।

১. সত্য গ্রহণ না করা

যদি কোনো ব্যক্তি নামাজ পড়ার প্রতি ইচ্ছা না অনুভব করে, তাহলে বুঝতে হবে যে সে আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের সত্যতা এখনো পুরোপুরি গ্রহণ করেনি। কোরআনে আল্লাহ তাআলা কিয়ামত দিবসে কিছু মানুষের অবস্থা বর্ণনা করেছেন যাদের চেহারা বিবর্ণ হবে। তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, فَلَا صَدَّقَ وَ لَا صَلّٰی
সে সত্য বলে মানেনি এবং নামাজ পড়েনি। (সুরা কিয়ামাহ ৩১)

এ আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হচ্ছে যে, যেহেতু সে আল্লাহ তায়ালাকে সত্য বলে বিশ্বাস করেনি, তাই সে নামাজ পড়েনি। মুসলমানদের মধ্যে যদি কাউকে নামাজে উদাসীন দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে তার ঈমানে দুর্বলতা রয়েছে এবং সে আল্লাহ তায়াকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারছে না।

২. নামাজ না পড়ার পরিণতি নিয়ে ভাবনা

মুসলমানদের মধ্যে এমন একটি প্রবণতা রয়েছে যে, তারা নামাজ পড়ে শুধু জাহান্নাম থেকে বাঁচার জন্য, আল্লাহ তায়ালার রাগ ও ক্ষোভ থেকে মুক্তি ও কিয়ামত দিবসের জবাবদিহিতা থেকে রক্ষা পেতে। তবে প্রকৃতপক্ষে, নামাজ পড়তে হবে শুধু নেতিবাচক বিষয়গুলো থেকে বাঁচার জন্য নয়; বরং নামাজের মাধ্যমে আমরা যে উপকারিতা লাভ করি, সেই দিকে লক্ষ্য রেখে।

আল্লাহ তায়ালা মানুষকে যখন সৃষ্টি করেছেন, তখন থেকেই মানুষের এবং আল্লাহ তায়ালার মাঝে একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেই সম্পর্ক রক্ষা করার জন্য নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পৃথিবী ও আকাশ একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালা চিরকাল থাকবেন। তাঁর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এছাড়া, নামাজের আরও অনেক উপকারিতা রয়েছে। তা গুনাহ মাফ করে, অন্যায় ও অশ্লীল কাজ থেকে রক্ষা করে। এ বিষয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:

اِنَّ الصَّلٰوۃَ تَنۡہٰی عَنِ الۡفَحۡشَآءِ وَالۡمُنۡکَرِ ؕ وَلَذِکۡرُ اللّٰہِ اَکۡبَرُ ؕ وَاللّٰہُ یَعۡلَمُ مَا تَصۡنَعُوۡنَ

নিশ্চয় নামাজ অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে। আর অবশ্যই আল্লাহর স্মরণ সর্বশ্রেষ্ঠ। তোমরা যা কর, আল্লাহ তা জানেন।(সুরা আনকাবুত ৪৫)

নবীজি সা. ও তার সাহাবিরা নামাজের প্রতি অত্যন্ত যত্নবান ছিলেন। তাদের জীবন থেকে আমরা শিখতে পারি, নামাজ শুধুমাত্র একটি ফরজ ইবাদত নয়, এটা একটি আত্মিক ও মনস্তাত্ত্বিক শক্তি, যা জীবনের সমস্ত সমস্যা সমাধান করে। তাদের নামাজের প্রতি যত্নশীলতার কারণে তারা আল্লাহর কাছে অত্যন্ত সম্মানিত হয়েছিলেন।

নামাজ প্রত্যেক মুসলমানের জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফরজ ইবাদত। যারা নামাজের প্রতি উদাসীন থাকে, তাদের ঈমানের দুর্বল হতে পারে। তাই আমাদের উচিত, নামাজের প্রতি যত্নশীল হওয়া এবং নবীজি সা. ও সাহাবিদের পথ অনুসরণ করে আল্লাহ তায়ালার দয়া ও অনুগ্রহ লাভের চেষ্টা করা।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে নামাজের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ও নিয়মিত নামাজ আদায় করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।