মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

হজরত ঈসা আ. সম্পর্কে কুরআনের চমৎকার বর্ণনা

প্রতিটি নবীর জীবনই আমাদের জন্য অনুসরণীয় ও শিক্ষণীয়। তাদের জীবনকে যদি আমরা গভীরভাবে অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাই যে, তাদের প্রতিটি অধ্যায় আল্লাহর দয়া, কুদরত ও হিকমতের অনন্য দৃষ্টান্ত। আল্লাহর নবী হজরত ঈসা আ. -এর জীবনও এই ক্ষেত্র থেকে ব্যতিক্রম নয়। তিনি ছিলেন এক মহান নবী, যার জীবন ছিল অলৌকিক ঘটনা ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:০৯

প্রতিটি নবীর জীবনই আমাদের জন্য অনুসরণীয় ও শিক্ষণীয়। তাদের জীবনকে যদি আমরা গভীরভাবে অনুসন্ধান করি, তবে দেখতে পাই যে, তাদের প্রতিটি অধ্যায় আল্লাহর দয়া, কুদরত ও হিকমতের অনন্য দৃষ্টান্ত।

আল্লাহর নবী হজরত ঈসা আ. -এর জীবনও এই ক্ষেত্র থেকে ব্যতিক্রম নয়। তিনি ছিলেন এক মহান নবী, যার জীবন ছিল অলৌকিক ঘটনা ও আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহে পরিপূর্ণ।

হজরত ঈসা আ. -এর জীবন ও কর্ম সম্পর্কে পবিত্র কুরআনে বহু আয়াত রয়েছে, যা তার নবুওয়াতের বিশেষত্ব, অলৌকিক ক্ষমতা ওু আল্লাহর প্রতি তার নিবেদনের প্রমাণ বহন করে।

তিনি ছিলেন বনি ইসরায়েলের প্রতি প্রেরিত নবী, যার ওপর আল্লাহর কিতাব ইনজিল নাজিল হয়েছিল। তার জীবন ও কর্মের প্রতিটি দিক মানবজাতির জন্য এক অসীম শিক্ষার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

আল্লাহর প্রেরিত এই মহান ব্যক্তিত্বের জীবন শুধুমাত্র ধর্মীয় ইতিহাসের পাতায় নয়, বরং পবিত্র কুরআনেও উল্লেখিত হয়েছে তাঁর সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্যবলী, যা আমাদের ইমান মজবুত করার পাশাপাশি নবীদের প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহ ও হিকমত সম্পর্কে গভীর উপলব্ধি দেবে।

হজরত ঈসা আ. এর অলৌকিক জন্ম

কুরআনে হজরত ঈসা আ. এর জন্মের কথা বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। কারণ হজরত ঈসা আ. ছিলেন একমাত্র নবী,যার জন্মগ্রহণ ছিল এক অলৌকিক ঘটনা, যেহেতু তিনি কোন পিতার মাধ্যমে জন্মগ্রহণ করেননি।

তাঁর মায়ের নাম হজরত মারিয়ম আ., যিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ দয়া লাভকারী একজন মহীয়সী নারী ছিলেন। (সুরা আল ইমরান,আয়াত: ৪৫-৪৭)

আল্লাহর দেয়া নাম ঈসা মাসিহ

আল্লাহ নিজেই হজরত ঈসা আ. -এর নাম রেখেছেন ঈসা মাসিহ। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘যখন ফেরেশতারা বলল, হে মারইয়াম! আল্লাহ তোমাকে তার পক্ষ থেকে এক বাণী দিয়ে সুসংবাদ দিচ্ছেন। তার নাম হবে মাসিহ, ঈসা ইবনে মারইয়াম। (সুরা আলে ইমরান ৪৫)

শয়তানের অনিষ্টতা থেকে মুক্ত থাকা

হজরত ঈসা আ. এবং তার মাতা হজরত মারইয়াম আ. শয়তানের অনিষ্ট থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত ছিলেন। কুরআনে আল্লাহ বলেন, আমি তাকে ও তার সন্তানকে অভিশপ্ত শয়তানের স্পর্শ থেকে রক্ষা করেছি। (সুরা আলে ইমরান ৩৬)

দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানের অধিকারী

ঈসা আ. দুনিয়া ও আখিরাতে মহাসম্মানের অধিকারী ছিলেন। আল্লাহ বলেন, তিনি দুনিয়া ও আখিরাতে সম্মানিত হবেন এবং তিনি আমার ঘনিষ্ঠদের অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। (সুরা আলে ইমরান ৪৫)

মায়ের কোলে বক্তব্য দেয়া

হজরত ঈসা আ. মাতৃক্রোড়ে থেকেই অলৌকিকভাবে কথা বলেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘তিনি বললেন, আমি আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়েছেন এবং নবী করেছেন। (সুরা মারইয়াম ৩০)

বনি ইসরাঈলের প্রতি প্রেরিত নবী

কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঈসা আ. বনি ইসরায়েলের প্রতি প্রেরিত হয়েছিলেন। আল্লাহ বলেন, আর তিনি ইসরাঈল বংশের প্রতি রাসুল ছিলেন। (সুরা আলে ইমরান ৪৯)

অলৌকিক ক্ষমতা লাভ

ঈসা আ. -কে আল্লাহ বিশেষ অলৌকিক ক্ষমতা প্রদান করেছিলেন। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে ১. আমি মাটির পাখি তৈরি করি, এরপর এতে ফুঁ দিলে তা জীবন্ত পাখি হয়ে যায়। ২. আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে সুস্থ করি। ৩. আমি মৃতকে জীবিত করি। (সুরা আলে ইমরান ৪৯)

ইনজিল লাভ ও তাওরাতের সত্যায়ন

হজরত ঈসা আ. -কে আল্লাহ ইনজিল কিতাব দান করেছেন, তিনি তাওরাতের সত্যায়ন করেছেন। কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আমি তাকে ইনজিল প্রদান করেছি, যা তাওরাতের সত্যায়নকারী। (সুরা আলে ইমরান ৫০)

আসমানে উঠিয়ে নেয়া

ইহুদি চক্রান্তের ফলে ঈসা আ. -কে আল্লাহ আসমানে উঠিয়ে নিয়েছেন। কুরআনে আল্লাহ বলেন, বরং আল্লাহ তাকে নিজের কাছে উঠিয়ে নিয়েছেন। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়। (সুরা নিসা ১৫৮)

দুনিয়া থেকে জীবিত অবস্থায় আসমানে উত্তোলিত হওয়া

ঈসা আ. ছিলেন একমাত্র নবী, যাকে আল্লাহ জীবিত অবস্থায় আসমানে উত্তোলন করেছেন। কুরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, তারা ঈসাকে হত্যা করেনি এবং শূলে চড়ায়নি, বরং তাদের কাছে তা সন্দেহজনক করে দেওয়া হয়েছিল। (সুরা নিসা ১৫৭)

হজরত ঈসা আ. -এর জীবনের প্রতিটি ঘটনা আল্লাহর কুদরতের মহন নিদর্শন। তিনি আল্লাহর প্রেরিত এক বিশেষ রসুল, যার জীবন থেকে আমাদের অনেক শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত। আল্লাহ তায়ালার এ প্রিয় বান্দার প্রতি বিশ্বাস রাখা আমাদের ইমানের বিশেষ অংশ।

 

ইসলাম ও জীবন

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত। কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় […]

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

শবে বরাত: ক্ষমা, রহমত ও ভাগ্যনির্ধারণের বরকতময় রজনী

নিউজ ডেস্ক

০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৮:৫৯

মহান আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি অসীম দয়ালু ও ক্ষমাশীল। তিনি বিভিন্ন সময় ও উপলক্ষ নির্ধারণ করে দেন, যাতে গুনাহগার বান্দারা অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারে। এমনই একটি বিশেষ রজনী হলো শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত রাত, যা মুসলমানদের কাছে শবে বরাত নামে পরিচিত।

কোরআনুল কারিমে এই রাতকে বলা হয়েছে ‘লাইলাতুম মুবারাকা’—বরকতময় রাত। আর হাদিসে একে উল্লেখ করা হয়েছে ‘লাইলাতুন নিস্ফ মিন শাবান’ হিসেবে।

শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য
হজরত মুআজ ইবনে জাবাল (রা.) সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন,
“শাবান মাসের অর্ধ রজনীতে আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টিজগতের প্রতি রহমতের দৃষ্টি দেন এবং মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করে দেন।”
(সহিহ ইবনে হিব্বান, হাদিস: ৫৬৬৫)

অষ্টম শতাব্দীর প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ আল্লামা নূরুদ্দীন হাইসামি (রহ.) এই হাদিসের সব বর্ণনাকারীকে নির্ভরযোগ্য বলেছেন।

এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে জানা যায়, শবে বরাতের রাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) দীর্ঘ সময় সিজদায় মগ্ন ছিলেন। পরে তিনি বলেন,
“এ রাতে আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের প্রতি বিশেষ করুণার দৃষ্টি দেন এবং ক্ষমাপ্রার্থীদের ক্ষমা করেন।”
(শুআবুল ইমান)

শবে বরাতে ইবাদত ও রোজার গুরুত্ব
হজরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন,
“১৪ শাবানের রাত তোমরা ইবাদতের মাধ্যমে অতিবাহিত করো এবং পরদিন রোজা রাখো।”
(সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৮৮)

হাদিস বিশারদদের মতে, ফজিলতের ক্ষেত্রে এই হাদিস গ্রহণযোগ্য।

ভাগ্য নির্ধারণের রাত
পবিত্র কোরআনে সুরা দুখানে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন—
“এই বরকতময় রাতে হেকমতপূর্ণ সব বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।”
(সুরা দুখান: ২–৩)

তাফসিরকারদের একাংশের মতে, এখানে শবে বরাতের কথাই বোঝানো হয়েছে। হজরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন,
“অর্ধ শাবানের রাতে সব ফয়সালা নির্ধারিত হয়, আর শবে কদরে তা দায়িত্বপ্রাপ্ত ফেরেশতাদের কাছে অর্পণ করা হয়।”

হাদিসে আরও এসেছে—এই রাতে মানুষের জন্ম-মৃত্যু, রিজিক ও আমলনামা নির্ধারণ করা হয়।

করণীয় কী?

শবে বরাতের রাতে বেশি বেশি—

  • তসবিহ-তাহলিল
  • ইসতিগফার
  • দরুদ শরিফ
  • কোরআন তেলাওয়াত
  • নফল ও কাজা নামাজ
  • দোয়া ও মুনাজাত
  • কবর জিয়ারত
  • করার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

উপসংহার
শবে বরাত কোনো বিদআত নয়; বরং কোরআন ও সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত একটি ফজিলতপূর্ণ রাত। এই রাতে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা, আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের মাধ্যমে নিজেকে পরিশুদ্ধ করার সুবর্ণ সুযোগ রয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সবাইকে শবে বরাতের ফজিলত উপলব্ধি করে যথাযথভাবে আমল করার তাওফিক দান করেন। আমিন।

লেখক:
মাওলানা মির্জা নাইমুল হাসান বেগ

ইসলাম ও জীবন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)। লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে […]

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

জনপ্রিয় ব্রিটিশ র‍্যাপার সেন্ট্রাল সির ইসলাম গ্রহণ

নিউজ ডেস্ক

০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১০:২৪

২৭ বছর বয়সী এই শিল্পী একটি লাইভস্ট্রিমে ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেন। তার আগের নাম ছিল ওকলি নীল সিজার-সু (Oakley Neil Caesar-Su)।

লন্ডনের শেফার্ডস বুশ থেকে উঠে আসা এই র‍্যাপার বর্তমানে বিশ্বসংগীতের অন্যতম পরিচিত মুখ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর ‘PlaqueBoyMax’-এর সাথে একটি লাইভ চলাকালীন তিনি জানান, তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন। এখন থেকে তিনি ‘আখিল’ নামে পরিচিত হতে চান। এর আগে সেন্ট্রাল সি তার ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে জনসমক্ষে খুব একটা কথা বলেননি।

২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করলেও ২০২১ সালের দিকে সেন্ট্রাল সি ইউকে র‍্যাপ জগতে এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। প্রথম ব্রিটিশ র‍্যাপার হিসেবে একটি একক প্ল্যাটফর্মে এক বিলিয়ন স্ট্রিম অর্জনের রেকর্ড রয়েছে তার। ড্রেক (Drake) এবং জে. কোল (J. Cole)-এর মতো বিশ্বসেরা তারকাদের সাথে কাজ করে তিনি গত কয়েক বছরে সাফল্যের তুঙ্গে রয়েছেন।

নিজের দ্রুত উত্থান সম্পর্কে এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, সবকিছু এতো দ্রুত ঘটছে যে মাঝে মাঝে বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। আমি এতোদিন ধরে এতো দ্রুত দৌড়াচ্ছি যে এসব নিয়ে ভাবার সময়টুকুও পাইনি।

পেশাদার জীবনের এই ব্যস্ততার মাঝে তার এই ব্যক্তিগত এবং আধ্যাত্মিক পরিবর্তন ভক্তদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে তার অনুসারীরা তাকে শুভকামনা জানাচ্ছেন। মুসলিম কমিউনিটির পক্ষ থেকে তার এই সিদ্ধান্তকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়েছে। সূত্র: ইসলামিক ইনফরমেশন

ইসলাম ও জীবন

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত। শবে […]

পবিত্র শবে বরাত : মসজিদে মসজিদে ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল মুসল্লিরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৩০

আজ পবিত্র লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত। শাবান মাসের মধ্যরাত—মুসলমানদের কাছে আত্মশুদ্ধি, তওবা ও ক্ষমা প্রার্থনার এক মহিমান্বিত রাত।

হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে, এই রাতে আল্লাহ তাআলা তার বান্দাদের প্রতি বিশেষ রহমতের দৃষ্টি দেন এবং অসংখ্য মানুষ গুনাহ মাফের সুযোগ লাভ করেন। এ কারণে শবে বরাত মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি রাত।

শবে বরাত উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নেমেছে। নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার ও দোয়া-মোনাজাতের মাধ্যমে তারা আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করছেন।

লাইলাতুল বরাত পালন উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এ পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-না’ত, ওয়াজ মাহফিল ও বিশেষ দোয়ার আয়োজন করা হয়।

মাগরিবের নামাজের আগ থেকেই বায়তুল মোকাররমে মুসল্লিরা জড়ো হতে থাকেন। নামাজ শেষে শবে বরাতের ফজিলত ও তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বাদ এশা আবারও ধর্মীয় আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ব্যক্তি, সমাজ ও দেশের কল্যাণ, শান্তি-সমৃদ্ধি এবং গুনাহ মাফের জন্য দোয়া করা হয়।

মোনাজাত শেষে মুসল্লিরা জানান, তারা নিজেদের গুনাহ মাফ এবং দেশ ও জাতির শান্তি কামনা করে দোয়া করেছেন।

এই পবিত্র রাতে নফল ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও তওবার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা ইবাদত-বন্দেগিতে মশগুল থাকেন। ফলে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মসজিদগুলোতে আজ সারারাত ইবাদতের পরিবেশ বিরাজ করছে।