তথাকথিত আধুনিকতার নামে নতুন নতুন ধরনের গর্হিত কাজ সমাজে বেড়ে যাচ্ছে, যাকে আমরা ‘লিভ টুগেদার’ বা ‘লিভ-ইন’ সম্পর্ক বলে চিহ্নিত করি। এটা এমন এক সম্পর্ক যেখানে স্বামী-স্ত্রী না হয়ে, বিয়ের আগে একই ছাদের নিচে থাকা।সহজভাবে বলতে গেলে লিভ টুগেদার বা লিভ-ইন, বিয়ের আগে গার্লফ্রেন্ড-বয়ফ্রেন্ড স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে থাকা বোঝায়।
যদিও এটা কিছু মানুষের কাছে একটি স্বাভাবিক জীবনযাপন হিসেবে মনে হয়, কিন্তু কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, বিবাহের বাইরে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা ব্যভিচার এবং মারাত্মক গুনাহ।
লিভ টুগেদার বা লিভ-ইন এখন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে একটি ভয়াবহ ব্যাধি ও সামাজিকভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণ হিসেবে বেড়ে উঠেছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে। এতে সাময়িকভাবে আনন্দের অনুভূতি হতে পারে, কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে এর ফলস্বরূপ যে ক্ষতি হচ্ছে, তা অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয়।
ব্যভিচারে মত এই নোংরা কাজকে সহজ ও স্বাভাবিক ভাবার কোনো সুযোগ নেই। কেননা পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না, নিশ্চয়ই তা অশ্লীল কাজ ও মন্দ পথ। (সুরা ইসরা /বনি ইসরাঈল, আয়াত: ৩২)
এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের সতর্ক করেছেন যে, ব্যভিচারের মতো কোনো রকম উৎস বা আকাঙ্ক্ষা জাগ্রত হয় এমন কাজের দিকে যাওয়া উচিত নয়।
অনেকে ভাবতে পারে, কোনো ধরনের শারীরিক সম্পর্কে না জড়িয়ে একসঙ্গে থাকলে তা ব্যভিচারের পর্যায়ে পড়বে না বা গুনাহ হবে না। এটা শুধুমাত্রই ভুল ধারণা। কারণ শয়তান কোনো না কোনোভাবে তাদের ব্যভিচারে লিপ্ত করবেই।
শারীরিক সম্পর্কে কেউ না জড়ালেও অন্তত তারা একসঙ্গে থাকার দরুন, দেখা হবে, কথা হবে, আড্ডা হবে। এগুলোর মাঝেও রয়েছে ব্যভিচারের গুনাহ অর্থাৎ শুধু শারীরিক সম্পর্ক নয়, বরং শয়তান এসব মাধ্যমে মানুষকে অপরাধের দিকে পরিচালিত করে।
তাই রসুল সা. বলেছেন, চোখের ব্যভিচার হলো (বেগানা নারীকে) দেখা, জিহ্বার ব্যভিচার হলো (তার সঙ্গে) কথা বলা… ।(বুখারি শরিফ, হাদিস: ৬২৪৩) সুতরাং, লিভ টুগেদার বা লিভ-ইনের মধ্যে যে প্রতিটি পাপের উৎস নিহিত রয়েছে, তা ইসলামে স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ।
এছাড়া, সমাজে এ ধরনের পাপের প্রসার মানুষকে বিপর্যয়ের মুখে ফেলে, সমাজের শান্তি ও সুস্থ পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘মানুষের কৃতকর্মের কারণে সমুদ্রে ও স্থলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে। যার ফলে তাদের কোনো কোনো কর্মের শাস্তি তিনি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা: রুম, আয়াত: ৪১)
তাই কখনো কারো দ্বারা এ ধরনের কাজ হয়ে গেলে তার উচিত, তাৎক্ষণিক আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে তওবা করে নেওয়া। ভবিষ্যতে এ ধরনের পাপ কাজ থেকে বিরত থাকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করা।
আধুনিকতার নাম ধারি এই সমাজের অনেকেই নিজেরা তো এই পাপগুলো করেই, আবার বিভিন্নভাবে এই জঘন্য পাপগুলো প্রমোট করার চেষ্টা করে। যারা এই পাপগুলো ছড়িয়ে দেয় বা প্রচার করে, তারা নিজেদের এবং সমাজের জন্য বড় ক্ষতি ডেকে আনে।
যা তাদের দুনিয়া-আখিরাতের শাস্তির সম্মুখীন করবে বলে পবিত্র কুরআনে সতর্ক করা হয়েছে, মহান আল্লাহ বলেন, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তুদ শাস্তি এবং আল্লাহ জানেন, তোমরা জানো না।’ (সুরা নুর, আয়াত : ১৯)
লিভ টুগেদার’ বা ‘লিভ-ইন’ এটা শুধু আড্ডা বা বিনোদনের সম্পর্ক নয় বরং এটা ব্যভিচার ও পাপাচারের নতুন পথ ও সহজ পদ্ধতি। যা মানুষকে তার নৈতিক মূল্যবোধ ও আদর্শকে নিঃশেষ করে দিচ্ছে এবং কুরআন ও হাদিসে স্পষ্টবিধান থেকে দূরে রেখে, দুনিয়া ও আখিরাতে মর্মন্তুদ শাস্তির গহ্বরে নিক্ষেপ করছে ।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এই গুনাহ থেকে রক্ষা করুন এবং আমাদের সমাজকে সুরক্ষিত রাখুন। আমিন।