বুধবার, ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

ইসলাম ও জীবন

ঘটকালির বিনিময়ে টাকা নেওয়া কি জায়েজ ?

বিয়ের ঘটকালি করে বিনিময় গ্রহণ করা ইসলামে জায়েজ। কারণ, পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিয়ে তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ তথা মানুষের উপকার সাধিত হয়। এটি একটি সহযোগিতার কাজ, যা ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী প্রশংসনীয়। মহান আল্লাহ বলেন, তোমরা ভালো কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো….।(সুরা মায়েদা : ২) এর মাধ্যমে সমাজে সহযোগিতা এবং সম্পর্কের সংযোগ বৃদ্ধি […]

নিউজ ডেস্ক

০৯ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৫৫

বিয়ের ঘটকালি করে বিনিময় গ্রহণ করা ইসলামে জায়েজ। কারণ, পাত্র-পাত্রীর সন্ধান দিয়ে তাদের মধ্যে বৈবাহিক সম্পর্ক গড়ে তোলার মাধ্যমে পরিবার, সমাজ তথা মানুষের উপকার সাধিত হয়। এটি একটি সহযোগিতার কাজ, যা ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী প্রশংসনীয়। মহান আল্লাহ বলেন, তোমরা ভালো কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো….।(সুরা মায়েদা : ২) এর মাধ্যমে সমাজে সহযোগিতা এবং সম্পর্কের সংযোগ বৃদ্ধি পায়, যা ইসলামিক দৃষ্টিকোণে এক ইতিবাচক কাজ।

তবে, এই ক্ষেত্রে কোনো ধোঁকা বা প্রতারণা করা যাবে না। হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেছেন যে, হজরত রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয়। (সহিহ মুসলিম : ১০১) তাই, যে ব্যক্তি ঘটকালির মাধ্যমে সঠিকভাবে সহযোগিতা করবে, সে বিনিময়ে মজুরি বা হাদিয়া গ্রহণ করতে পারে, তবে প্রতারণা বা কোনো ধরনের অসত্য কাজ করা যাবে না।

ইসলাম বিবাহকে সহজ করার নির্দেশ দিয়েছে, কারণ, যদি বিয়েকে কঠিন করা হয়, তা হলে সমাজে ব্যভিচার ও অন্যান্য অশুদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে। হজরত আবু হুরায়রা রা. বলেন, হজরত রসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, তোমরা যে ব্যক্তির দ্বিনদারি ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ, যদি সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তবে তার সঙ্গে বিয়ে দাও। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় সৃষ্টি হবে। (জামে তিরমিজি : ১০৮৪)

এছাড়া, ঘটকালি করার মাধ্যমে সমাজে ফিতনা-মুক্ত পরিবেশ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়, এবং এতে উভয় পরিবারের মধ্যে সমন্বয় সাধন হয়। তাই, এই কাজের বিনিময়ে মজুরি গ্রহণ জায়েজ। ইসলামের অন্যতম মূলনীতি হলো- বৈধ উপকারে বিনিময় গ্রহণ বৈধ। আল্লামা শানকিতি রহ. বলেছেন, বৈধ উপকার প্রদানের বিনিময়ে মজুরি গ্রহণ করা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে ইসলামি আইনজ্ঞদের ঐক্য রয়েছে।(শারহু জাদিল মুসতাকনে : ৯/১৮৬)

শায়খ বিন বাজ রহ. বলেন, বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে মজুরি গ্রহণে কোনো দোষ নেই।(ফাতাওয়া ওয়াদ দুরুস)।

ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে বিয়ের ঘটকালি করে বিনিময় গ্রহণ করা জায়েজ, যদি তা সঠিকভাবে ও কোনো প্রতারণা ছাড়া করা হয়।

ইসলাম ও জীবন

মিসরে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয়ী চ্যাম্পিয়ন হাফেজ আনাসকে বিমানবন্দরে সংবর্ধনা

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ। শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া […]

নিউজ ডেস্ক

১২ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৪:৫২

মিসরের রাজধানী কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছেন হাফেজ আনাস বিন আতিক। এ উপলক্ষে তাকে দেওয়া হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনা। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পবিত্র কোরআনের তিলাওয়াতে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে আবারও বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন এই কিশোর হাফেজ।

শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে প্রথমে তাকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পরে ছাদখোলা বাসে ঢাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে তাকে সংবর্ধিত করা হয়। এ সময় ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ জনগণও বিশ্বজয়ী এই হাফেজকে এক নজর দেখার জন্য রাজপথে ভিড় করেন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে হাফেজ আনাস বলেন, আমরা যে দেশের ক্বারীদের তিলাওয়াত শুনে কেরাত শিখি, সেই দেশের প্রতিযোগিতায় বিজয় অর্জন করা আমার জন্য পরম সৌভাগ্যের। কেরাতের রাজধানী হিসেবে পরিচিত মিসরে গিয়ে প্রথম হওয়া সহজ ছিল না। তবে আমার ওস্তাদ, মা–বাবা এবং দেশবাসীর দোয়ায় এটি সম্ভব হয়েছে।

হাফেজ আনাসের ওস্তাদ শায়খ নেছার আহমদ আন নাছিরী বলেন, তৃতীয়বারের মতো আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বিশ্বজয় করেছে আমার ছাত্র। কায়রোতে অনুষ্ঠিত ৩২তম আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় ৭০টি দেশের প্রতিযোগীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম স্থান অর্জন করে সে সবাইকে চমকে দিয়েছে।

তিনি জানান, গত ৭ ডিসেম্বর কায়রোতে চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। বাংলাদেশের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অনুষ্ঠিত জাতীয় বাছাইপর্বে প্রথম স্থান অর্জনের মাধ্যমে হাফেজ আনাস আন্তর্জাতিক মঞ্চে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

প্রসঙ্গত, হাফেজ আনাস রাজধানীর মারকাজুত তাহফিজ ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ছাত্র। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়নের লোপাড়া গ্রামে। এর আগেও তিনি সৌদি আরব ও লিবিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছেন।