যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি নজরদারি ড্রোন ভূপাতিত করার দাবির মধ্যেই তেহরান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় পরিচালিত শাহেদ–১২৯ ড্রোনটি তার নিয়মিত ও বৈধ মিশন শেষ করার পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের নজরদারি ড্রোনের প্রধান কাজ হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে চলমান সব ধরনের সামরিক তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা এবং সংগৃহীত তথ্য সরাসরি স্থলভিত্তিক কমান্ড ঘাঁটিতে পাঠানো।
তাসনিম নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এক অজ্ঞাতনামা সূত্র নিশ্চিত করেছে, সংশ্লিষ্ট ড্রোনটি ছিল শাহেদ–১২৯ মডেলের। ওই সূত্রটি আন্তর্জাতিক কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গ টেনে জানায়, সেখানে দাবি করা হয়েছে যে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরীর ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া একটি ইরানি ড্রোনকে মার্কিন একটি বিমান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এ দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে বলা হয়েছে, ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমার ভেতরে থেকেই নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল।
সূত্রটি স্পষ্টভাবে জানায়, “শাহেদ–১২৯ ড্রোনটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিয়মিত ও বৈধ নজরদারি, পর্যবেক্ষণ এবং চিত্র ধারণের মিশনে ছিল। এটি একটি স্বাভাবিক ও আইনসম্মত কার্যক্রম।” একই সঙ্গে জানানো হয়, ড্রোনটি তার নজরদারি ও গোয়েন্দা ফুটেজ সফলভাবে কমান্ড সেন্টারে পাঠাতে সক্ষম হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের পর ড্রোনটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার প্রকৃত কারণ এখনো তদন্তাধীন রয়েছে এবং তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হবে বলেও ইরানি সূত্র জানিয়েছে।
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে দাবি করে, তাদের সেনাদের ‘সুরক্ষার’ স্বার্থে একটি ইরানি ড্রোনকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে উত্তেজনা বাড়ানোর কোনো উদ্দেশ্য ছিল না এবং এটি কেবল ‘আত্মরক্ষামূলক’ ব্যবস্থা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তবে তেহরান এই ব্যাখ্যাকে গ্রহণযোগ্য মনে করছে না এবং বলছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বৈধ নজরদারি চালানো কোনো দেশের অধিকার।
এই ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে বিশেষ করে পারস্য উপসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক আগ্রাসনের হুমকি দিয়ে আসছেন, যা পুরো অঞ্চলে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতারা স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন ও তার মিত্রদের যে কোনো ভুল হিসাবের জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তাদের মতে, সামরিক হুমকি বা শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানকে চাপে রাখা সম্ভব নয়। এই প্রেক্ষাপটে শনিবার ইসলামী বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে, তাহলে সেটি আর সীমিত সংঘাতে আবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো অঞ্চলকে একটি বড় যুদ্ধে ঠেলে দেবে।
তিনি বলেন, “যুদ্ধ ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বক্তব্য নতুন কিছু নয়। মার্কিনীদের জানা উচিত, এবার যদি তারা যুদ্ধ শুরু করে, তবে সেটি হবে একটি আঞ্চলিক যুদ্ধ।” একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, হুমকি, নিষেধাজ্ঞা কিংবা সামরিক শক্তির প্রদর্শন ইরানি জাতিকে কখনোই ভীত করতে পারবে না এবং দেশটি তার সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনো মূল্য দিতে প্রস্তুত।
ইরানি নেতৃত্বের এই অবস্থান স্পষ্ট করে দিচ্ছে, ড্রোন ইস্যুকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উত্তেজনা কেবল সামরিক ঘটনা নয়, বরং এটি পুরো পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?