হরমোজ প্রণালীতে উত্তেজনা নতুন করে ঘনীভূত হয়েছে। মার্কিন তেলবাহী একটি জাহাজকে ইরানের সশস্ত্র গানবোট ধাওয়া ও চ্যালেঞ্জ করেছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ভ্যানগার্ড টেক। মঙ্গলবার ওমান উপকূল থেকে প্রায় ১৬ নটিক্যাল মাইল উত্তরে প্রণালীটি অতিক্রম করার সময় ‘স্টেনা ইম্পারেটিভ’ নামের জাহাজটির গতিরোধ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের সশস্ত্র সদস্যদের বহনকারী তিন জোড়া ছোট বোট। ঘটনাটি নিয়ে আন্তর্জাতিক জলপথে নতুন করে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরানি বোটগুলো রেডিও যোগাযোগের মাধ্যমে জাহাজটিকে ইঞ্জিন বন্ধ করে তল্লাশির জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দেয়। তবে জাহাজটির ক্যাপ্টেন সেই নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে দ্রুত গতি বাড়িয়ে নিজ গন্তব্যের দিকে অগ্রসর হন। ভ্যানগার্ড টেক জোর দিয়ে বলেছে, জাহাজটি ইরানের জলসীমায় প্রবেশ করেনি এবং বর্তমানে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজের পাহারায় নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। ফলে কোনো ধরনের জব্দ বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি, যদিও পরিস্থিতি ছিল চরম উত্তেজনাপূর্ণ।
এর আগে ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেও জাহাজটির নাম প্রকাশ করেনি। বিপরীতে, ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ সংস্থা ফারস দাবি করেছে, একটি নামহীন জাহাজ অবৈধভাবে তাদের জলসীমায় প্রবেশ করেছিল। ইরানি বাহিনী জাহাজটির প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে সেটি দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। দুই পক্ষের এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
বিশ্বের জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমোজ প্রণালী দীর্ঘদিন ধরেই ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু। বৈশ্বিক তেল পরিবহণের বড় অংশ এই পথ দিয়েই চলাচল করে। ফলে এখানে যেকোনো ধরনের সামরিক বা নিরাপত্তাজনিত ঘটনা বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই ধরনের ঘটনা পূর্বাভাসের মতোই ছিল।
গত সপ্তাহেও আইআরজিসির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কায় এই নৌপথ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। তার সেই বক্তব্যের পর থেকেই আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি ও বীমা সংস্থাগুলো বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করেছে। অনেক জাহাজ চলাচলের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারা নিচ্ছে, আবার কিছু জাহাজ বিকল্প রুট বিবেচনায় নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও স্পষ্ট হয়েছে যে, হরমোজ প্রণালীতে সামান্য ভুল হিসাব বা উত্তেজনা বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে। আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর কৌশলগত অবস্থান, সামরিক উপস্থিতি এবং পারস্পরিক অবিশ্বাস এই অঞ্চলের নিরাপত্তাকে দিন দিন আরও নাজুক করে তুলছে। পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, তা নির্ভর করবে পরবর্তী কূটনৈতিক ও সামরিক পদক্ষেপের ওপর।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?