যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,
ইরান এখনো কার্যকর ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে এবং পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্বার্থে সরাসরি আঘাত হানার ক্ষমতা রাখে।
মার্কিন মিত্রদের নিরাপত্তা বিষয়ক গোপন মূল্যায়ন নথির বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ১০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি এবং কয়েক দশ হাজার মার্কিন সেনা ইরানের সম্ভাব্য হামলার আওতায় রয়েছে, যা ওয়াশিংটনের জন্য একটি বড় কৌশলগত উদ্বেগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এক ঘনিষ্ঠ মিত্রের তৈরি করা একটি মূল্যায়ন রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরান এখনো বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, উন্নত উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম এবং নিজস্ব ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বজায় রেখেছে। এই সক্ষমতাগুলো শুধুমাত্র প্রতিরক্ষামূলক নয়, বরং প্রয়োজনে আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটি, নৌবহর ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর ব্যাপক আঘাত হানতে সক্ষম। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতাই যুক্তরাষ্ট্রকে নতুন করে হিসাব-নিকাশ করতে বাধ্য করছে।
ওয়াশিংটন পোস্ট লিখেছে, ইরানের এই সামরিক সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের কৌশল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলছে। ট্রাম্প আগেই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিলেও বর্তমানে তিনি সেই অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসে তেহরানকে পারমাণবিক আলোচনায় ফিরে আসার আহ্বান জানাচ্ছেন। এই অবস্থান ২০১৫ সালের ইরানের পরমাণু চুক্তি জেসিপিওএ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের সঙ্গে স্পষ্টভাবে সাংঘর্ষিক বলেও প্রতিবেদনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
পত্রিকাটিকে দেওয়া এক বক্তব্যে এক ইরানি কূটনীতিক বলেছেন, তেহরান সম্মানজনক ও ন্যায্য ভিত্তিতে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত, কিন্তু চাপ, হুমকি কিংবা সামরিক আগ্রাসনের পরিবেশে কোনো আলোচনা গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ১২ দিনের হামলায় দখলদার ইসরায়েলের পাশে অবস্থান করেছিল, যার জবাবে ইরান কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এই ঘটনাকে ইরানের সামরিক সক্ষমতার একটি বাস্তব প্রদর্শন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, পারস্য উপসাগরে তারা প্রাণঘাতী ও বিস্তৃত হামলা চালানোর সক্ষমতা রাখে এবং নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে এসব হামলা সীমিত বা নিয়ন্ত্রিত থাকবে না। বরং তা দ্রুত আঞ্চলিক পর্যায়ে বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
এদিকে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ একাধিক আরব দেশ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের ভূখণ্ড, আকাশসীমা বা সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পরিকল্পনাকে আরও জটিল করে তুলছে এবং একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে আরেকটি বড় যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে আঞ্চলিক দেশগুলোর মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?