মার্কিন নৌবাহিনীর আব্রাহাম লিংকন ফ্লিট বর্তমানে এডেন উপসাগরের কাছে এবং দক্ষিণ ইয়েমেনের সোকোত্রা দ্বীপের পূর্বে অবস্থান করছে। পার্সটুডে জানায়,
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন চাবাহার বন্দর থেকে প্রায় এক হাজার চারশ কিলোমিটার দূরে সরে গেছে। সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি সূত্র জানিয়েছে, এই নৌবহরে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের পাশাপাশি একাধিক ডেস্ট্রয়ার ও সাবমেরিন রয়েছে এবং তারা এডেন উপসাগর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান নিয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, নৌবহরটি দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের চাবাহার বন্দর থেকে উল্লেখযোগ্য দূরত্বে অবস্থান করলেও পুরো অঞ্চলজুড়ে তাদের নজরদারি ও সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
এই অবস্থান পরিবর্তনকে পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক চাপ বৃদ্ধির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক নৌবহর, যুদ্ধবিমান এবং সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করছে, যা অঞ্চলজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এডেন উপসাগর ও সোকোত্রা দ্বীপের আশপাশের এলাকা আন্তর্জাতিক নৌপথ এবং কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সেখানে শক্ত অবস্থান নিতে চাইছে।
এদিকে ইরান স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সরাসরি সামরিক হামলার পথে যায়, তাহলে পুরো পশ্চিম এশিয়া একটি ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধের ঝুঁকির মুখে পড়বে। তেহরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি একশ পঞ্চাশ ডলারেরও বেশি হয়ে যেতে পারে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই বলে আসছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আগ্রাসন শুধু একটি দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রের অংশ।
এই উত্তেজনাকর প্রেক্ষাপটে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল মুসাভি গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন যে ইরানের সামরিক ডক্ট্রেইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। তার এই বক্তব্যকে ইরানের নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা নীতির ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ডক্ট্রেইন লঙ্ঘনের ঘোষণা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে তেহরান পরিস্থিতিকে আর স্বাভাবিক হিসেবে দেখছে না এবং প্রয়োজনে কঠোর প্রতিক্রিয়ার পথে যেতে প্রস্তুত।
অঞ্চলজুড়ে চলমান এই সামরিক প্রস্তুতি ও হুমকি পাল্টা হুমকির রাজনীতি পশ্চিম এশিয়াকে ক্রমেই আরও অনিশ্চিত অবস্থার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সামান্য ভুল হিসাব বা উসকানিমূলক পদক্ষেপ পুরো পরিস্থিতিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহরের অবস্থান পরিবর্তন, ইরানের কড়া সতর্কবার্তা এবং সামরিক ডক্ট্রেইন লঙ্ঘনের ঘোষণা মিলিয়ে পশ্চিম এশিয়ার আকাশে এখন স্পষ্টভাবেই যুদ্ধের মেঘ ঘনিয়ে আসছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?