সম্ভাব্য মার্কিন সামরিক হামলার বিষয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। তেহরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলায় যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ‘শত্রু’ হিসেবে গণ্য করা হবে বলে সতর্ক করেছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস।
মঙ্গলবার জানুয়ারি সাতাশ তারিখে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের নৌবাহিনীর রাজনৈতিক উপ প্রধান মোহাম্মদ আকবরজাদেহ এই সতর্কবার্তা দেন। তিনি বলেন, “যদি প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ইরানে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয়, তাহলে সেই প্রতিবেশী দেশগুলোকে তেহরান ‘শত্রু’ হিসেবে বিবেচনা করবে।”
আইআরজিসির এই জ্যেষ্ঠ নেতা আরও বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলো আমাদের বন্ধু। তবে যদি তাদের ভূমি, আকাশসীমা বা জলসীমা ইরানে হামলার জন্য ব্যবহার করা হয় হয়, তাহলে তাদের শত্রু হিসেবে বিবেচনা করা হবে।” তার এই বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এদিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ‘শত্রুতামূলক’ সামরিক কর্মকাণ্ডের জন্য নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড বা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলে জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কৌশলগত যোগাযোগ বিভাগের পরিচালক আফরা আল হামেলি এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, “ইউএই নিশ্চিত করছে যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে আমাদের আকাশসীমা, স্থলভাগ বা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হবে না।”
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কার মধ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় ইসলামী দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য ও সংহতির গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
ইরানি প্রেসিডেন্টের দফতরের এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুসলিম দেশগুলোর পক্ষ থেকে তেহরানের প্রতি সমর্থনের জন্য প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এই যোগাযোগ ও অবস্থানকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?