ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানের জন্য নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা এসপিএ জানায়, মঙ্গলবার জানুয়ারি সাতাশ তারিখে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে টেলিফোন আলাপে এই অবস্থান তুলে ধরেন সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।
এসপিএর প্রতিবেদনে বলা হয়, টেলিফোন আলাপে সৌদি যুবরাজ আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সংলাপের মাধ্যমে মতপার্থক্য নিরসনের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ে এমন কোনো সামরিক উদ্যোগে সৌদি আরব অংশ নেবে না এবং নিজের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতিও দেবে না।
এর আগে ইরানি গণমাধ্যম জানায়, মাসুদ পেজেশকিয়ান সৌদি যুবরাজকে বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের কাঠামোর মধ্যে থেকে যেকোনো যুদ্ধবিরোধী উদ্যোগকে তেহরান স্বাগত জানায় এবং উত্তেজনা কমাতে আঞ্চলিক সংলাপকে গুরুত্ব দেয়।
এর আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা দেয়, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো শত্রুতামূলক সামরিক কর্মকাণ্ডে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড কিংবা আঞ্চলিক জলসীমা ব্যবহার করতে দেবে না তারা। এ অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েনকে ঘিরে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর একটি বিশাল নৌবহর ওই অঞ্চলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম থেকে ফেরার পথে এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দিকে কড়া নজর রাখছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকছে।
তিনি আরও বলেন, অনেক জাহাজ ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলের দিকে যাচ্ছে এবং কিছু ঘটলে তা মোকাবিলার প্রস্তুতি হিসেবে একটি বড় শক্তি মোতায়েন করা হচ্ছে। যদিও তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় না পরিস্থিতি সংঘাতের দিকে গড়াক।
সোমবার দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়, একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ও গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এতে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
এদিকে ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাতে হাজারো মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি। সংগঠনগুলো এটিকে ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর দেশটিতে সবচেয়ে বড় দমন-পীড়ন হিসেবে বর্ণনা করছে। তবে ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই অস্থিরতা ও মৃত্যুর জন্য দায়ী বিদেশে অবস্থানরত বিরোধীদের মদদে পরিচালিত সন্ত্রাসী ও দাঙ্গাবাজ গোষ্ঠী।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?