রাশিয়া, তুরস্ক, লেবানন ও যুক্তরাষ্ট্রের বুদ্ধিজীবী, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক কর্মীদের অংশগ্রহণে মস্কোতে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির কুদস ফোর্সের শহীদ কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কাসেম সোলাইমানির স্মরণে একটি অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
“রাশিয়া ও ইরানের জনগণের আধ্যাত্মিক ঐক্য” শিরোনামে আয়োজিত এই স্মরণসভায় মস্কোতে ইরানের রাষ্ট্রদূত উপস্থিত ছিলেন। পার্সটুডের বরাতে জানা যায়, অনুষ্ঠানে অল-রাশিয়ান ইউনিয়ন অফ পিপলসের প্রধান সের্গেই বাবুরিন বক্তব্যে বলেন, “জেনারেল সোলাইমানির জীবনের সাথে পরিচিত সকল মানুষ তার বুদ্ধিমত্তা, ক্ষমতা, শত্রু সম্পর্কে জ্ঞান এবং একই সাথে তার সদিচ্ছাকেও স্মরণ করে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সোলাইমানি নিজেকে সর্বদা ইসলামী বিপ্লবের একজন সৈনিক হিসেবে দেখতেন এবং মানবতার শত্রুদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের লড়াইয়ের পর আমাদের তার পথ অনুসরণ করে শান্তি ও বন্ধুত্বের ভিত্তিতে সহযোগিতা জোরদার করা উচিত।
অনুষ্ঠানে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় মুফতি কার্যালয়ের প্রধান আনার হযরত রমাজানভ বলেন, “আজ, ইরান এবং রাশিয়ায়, সরকার এবং জনগণের বিভিন্ন স্তরে, আমরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি যে আমাদের একটি সাধারণ শত্রু রয়েছে এবং তারা শয়তানের শিবির থেকে আমাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে, এবং আমাদের কোন সন্দেহ নেই যে আমরা জিতব।” তিনি বলেন, জেনারেল সোলাইমানি কেবল মুসলমানদের নয়, সমগ্র মানবতার জন্যই একজন বীর।
সোভিয়েত সংসদের প্রতিনিধি সাজি উমালাতোভা তার বক্তব্যে বলেন, সোলাইমানি মানবতার পক্ষে লড়াই করেছিলেন এবং তার হৃদয়ে কেবল নিজ দেশ নয়, পুরো বিশ্বের শান্তির চিন্তা ছিল। তার মতে, বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা না হলে কোনো দেশ একা শান্তিতে থাকতে পারে না।
এছাড়া মস্কোতে বসবাসকারী এক মার্কিন নাগরিক ক্রিস্টোফার হিলালি বলেন, “জেনারেল সোলেইমানিকে হত্যার নির্দেশ দিয়ে ট্রাম্প একটি সন্ত্রাসী অপরাধ করেছেন।” তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র যখন আইসিস ও জাবহাত আল-নুসরার মতো তাকফিরি গোষ্ঠীকে সমর্থন দিচ্ছিল, তখন সোলাইমানি তাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছিলেন এবং এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?