ইসরাইল, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইয়েমেনের হুতি নিয়ন্ত্রিত আদালত ১৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। শনিবার হুতিদের গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ রায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হুতি পরিচালিত সাবা সংবাদ সংস্থার প্রতিবেদনে জানা যায়, রাজধানী সানার বিশেষ আদালত একটি সুসংগঠিত বিদেশি গোয়েন্দা নেটওয়ার্কে অংশগ্রহণের অভিযোগে আসামিদের ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ডের নির্দেশ দেয়। আদালতের দাবি, অভিযুক্তরা ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদসহ একাধিক বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার নির্দেশে দীর্ঘদিন ধরে দেশে নাশকতা চালিয়েছে।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুল বাসিত গাজী জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা আপিল করবেন। তার দাবি, বিচার প্রক্রিয়া যথাযথ হয়নি এবং আসামিদের অনেকেই স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়েছেন।
মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৪–২০২৫ সময়ে অভিযুক্তরা শত্রু বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ, সংবেদনশীল সামরিক তথ্য সংগ্রহ, নাগরিকদের উসকানি, সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনায় হামলার নির্দেশনা প্রদানসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল। এসব হামলায় প্রাণহানি ঘটেছে এবং বহু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
একই মামলায় একজন পুরুষ ও একজন নারীকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আরেক আসামিকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
হুতিদের দাবি, গত দুই বছরে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে তারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী আহমেদ গালেব নাসের আল-রাহাবি ইসরাইলি হামলায় নিহত হওয়ার পর দেশে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
ইয়েমেনের চলমান গৃহযুদ্ধ ও আঞ্চলিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই রায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?