যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন জোহরান মামদানি। তিনি শহরটির প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। ডেমোক্র্যাট পার্টি সমর্থিত এই তরুণ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যান্ড্রু কুওমোকে হারিয়ে জয়ী হয়েছেন, যা নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনা করেছে।
নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী, ৩৪ বছর বয়সী মামদানি পেয়েছেন ৬ লাখ ৭৭ হাজার ৬১৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুওমো পেয়েছেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৪৮৮ ভোট, আর রিপাবলিকান প্রার্থী কার্টিস স্লিওয়া পেয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৩৭৭ ভোট। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে, যা বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী বুধবার সকাল ৮টায় শেষ হয়। ভোট শেষ হওয়ার পরপরই বার্তা সংস্থা এপি মামদানির বিজয় নিশ্চিত করে।
নিউ ইয়র্ক সিটি বোর্ড অব ইলেকশন জানিয়েছে, ১৯৮৯ সালের পর এবারই প্রথম ভোটার উপস্থিতি ২০ লাখ ছাড়িয়েছে। ভোটের দিনটিকে বলা হচ্ছে শহরের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন।
৮৪ লাখের বেশি মানুষের এই শহর যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সংস্কৃতির কেন্দ্রবিন্দু। সেই শহরের প্রথম মুসলিম, প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং প্রথম আফ্রিকাজাত নেতা হিসেবে ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন মামদানি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মামদানির বিজয় কেবল ধর্ম বা জাতিগত পরিচয়ের জয় নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনের ব্যয়, ভাড়া, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য নিয়ে তার স্পষ্ট অবস্থানের প্রতিফলন। তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার, সাশ্রয়ী জীবনযাপন, এবং ফিলিস্তিনসহ বিশ্বমানবতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান।
এনবিসি নিউজের এক্সিট পোল অনুযায়ী, মামদানি শ্বেতাঙ্গ, কৃষ্ণাঙ্গ, লাতিনো, এশীয়সহ প্রায় সব জাতিগত গোষ্ঠীর কাছ থেকেই বিপুল ভোট পেয়েছেন। ৪৫ বছরের নিচের ভোটারদের মধ্যে তিনি ৪৩ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন, যদিও ৪৫ বছরের ঊর্ধ্বে ভোটারদের মধ্যে কুওমো ১০ পয়েন্টে এগিয়ে ছিলেন।
তবে পুরো প্রচারণা জুড়ে মামদানির ফিলিস্তিনপন্থী অবস্থান ও মুসলিম পরিচয় নিয়েই সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্যের কারণে বিরূপ প্রচারণার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত নিউ ইয়র্কবাসীর আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হন তিনি। ইহুদি ভোটারদের মধ্যে কুওমো এগিয়ে থাকলেও সামগ্রিকভাবে মামদানির প্রগতিশীল ও মানবিক অবস্থানই তাকে বিজয়ী করেছে।
সূত্র: আলজাজিরা
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?